ভারতের এআইচালিত ভাষা প্ল্যাটফর্ম ভাষিণী এবার রাজস্থানের আঞ্চলিক উপভাষা নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। ই-গভর্নেন্স বিষয়ক জাতীয় সম্মেলন ২০২৬-এ ভাষিণী বহুভাষিক এআইয়ের নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শন করে এবং রাজস্থান ভাষা মডেল প্রশিক্ষণ হ্যাকাথন চালু করে। মারোয়াড়ি, মেওয়াড়ি, শেখাওয়াটি, হাড়াউতি ও মেওয়াতি উপভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার খবর ভাষাভিত্তিক ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
ভাষিণী মূলত কথা থেকে লেখা, লেখা থেকে কথা এবং অনুবাদ সেবা দিয়ে সরকারি ও ডিজিটাল সেবাকে বহু ভাষায় সহজ করার উদ্যোগ। ভারতের মতো বহুভাষিক দেশে শুধু হিন্দি বা ইংরেজি দিয়ে ডিজিটাল প্রশাসন সম্ভব নয়। মানুষ যে ভাষায় কথা বলেন, সেই ভাষায় যদি ফরম, স্বয়ংক্রিয় সহায়ক, অভিযোগ ব্যবস্থা বা সেবা পাওয়া যায়, তাহলে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়ে। রাজস্থানের উপভাষা যুক্ত হওয়া তাই সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশাসনিক হাতিয়ার।
বাংলাদেশের জন্য এই অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলা জাতীয় ভাষা হলেও চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, রংপুর, বরিশালসহ নানা অঞ্চলের কথ্য ভাষা ডিজিটাল ব্যবস্থায় ঠিকমতো ধরা পড়ে না। কণ্ঠভিত্তিক সহায়ক, জরুরি সেবা, কৃষি পরামর্শ, স্বাস্থ্য হটলাইন বা নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক ভাষা বুঝতে না পারলে মানুষ বাদ পড়ে যায়। বহুভাষিক এই প্রযুক্তি তাই শুধু অনুবাদ নয়, প্রবেশাধিকারের প্রশ্ন। তবে উপভাষার জন্য এই ধরনের প্রযুক্তি তৈরি করা কঠিন। ভালো উপাত্ত দরকার, সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ দরকার, ভুল প্রতিলিপি কমাতে মানুষের পর্যালোচনা দরকার এবং ভাষাকে ছাঁচে ফেলার বা সরলীকৃত করে ফেলার ঝুঁকি আছে। উপভাষা সংগ্রহে সম্মতি, তথ্যের মালিকানা এবং সাংস্কৃতিক মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
ভাষিণীর রাজস্থানি উপভাষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ দেখায়, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি মানে শুধু প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া নয়, প্রযুক্তিকে মানুষের ভাষায় কথা বলানো। এটি সহজ কাজ নয়, কারণ ভালো উপাত্ত ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ছাড়া উপভাষার প্রযুক্তি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, সিলেট বা রংপুরের কথ্য ভাষা এখনো ডিজিটাল সেবায় অবহেলিত। জরুরি সেবা বা কৃষি পরামর্শে আঞ্চলিক ভাষা বুঝতে না পারলে মানুষ প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বাদ পড়ে যান। ভাষিণীর অভিজ্ঞতা তাই শুধু ভারতের গল্প নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















