ইএসডিএস সফটওয়্যার সলিউশন লিমিটেড ভারতের নিজস্ব স্বাধীন এআই মেঘভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম স্বরাজ ক্লাউড চালু করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি স্বয়ংক্রিয় ও স্বাধীন মেঘ ব্যবস্থা, যা ভারতীয় তথ্যকেন্দ্রে ইএসডিএস-এর নিজস্ব অবকাঠামোর ওপর চলে এবং তথ্য ভারতীয় আইনি এখতিয়ারের ভেতরে রাখার লক্ষ্য রাখে। এই প্রযুক্তির যুগে মেঘভিত্তিক অবকাঠামো এখন শুধু প্রযুক্তি নয়, জাতীয় ডিজিটাল স্বাধীনতার প্রশ্ন।
স্বরাজ ক্লাউড প্রাতিষ্ঠানিক মানের গণনাশক্তি, এআই, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিবিদদের জন্য টুল দেওয়ার কথা বলছে। এর গুরুত্ব বোঝার জন্য মেঘনির্ভরতা বুঝতে হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি মেঘসেবাদাতা, বিদেশি তথ্যকেন্দ্র এবং সীমান্ত পার তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ওপর নির্ভর করে। সংবেদনশীল তথ্য, সরকারি কাজ, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রয়োগ বা সরকারি সেবার ক্ষেত্রে তথ্য কোথায় থাকে এবং কোন আইনের অধীনে থাকে, তা গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাধীন মেঘ ব্যবস্থার ধারণা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। ইউরোপ তথ্যের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন কথা বলছে, ভারত এখন এই প্রযুক্তি ও মেঘ অবকাঠামোকে আত্মনির্ভরতার বয়ানের সঙ্গে যুক্ত করছে। কারণ এই প্রযুক্তির মডেল চালাতে গণনাশক্তি, সংরক্ষণ, গ্রাফিক্স প্রসেসিং, নিরাপত্তা, তদারকি এবং নিয়ম পালন দরকার। শুধু স্থানীয় অ্যাপ বানালেই হবে না, পেছনের অবকাঠামো বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হলে নীতিগত ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সরকারি তথ্য, আর্থিক তথ্য, স্বাস্থ্য তথ্য এবং নাগরিক পরিচয়ের তথ্য কোথায় সংরক্ষিত, কোন মেঘ মান মানা হচ্ছে, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা কেমন, তা জাতীয় নীতির বিষয়। স্থানীয় মেঘ বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা সহজ নয়, কারণ এতে পরিধি, নিরাপত্তা, শক্তি, দক্ষ জনবল ও মূলধন প্রয়োজন। কিন্তু সবকিছু বাইরে রাখাও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বরাজ ক্লাউডের মূল বার্তা হলো, এই প্রযুক্তির যুগে কোন মডেল ব্যবহার হচ্ছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো তথ্য কোথায় থাকছে এবং কোন দেশের আইনের অধীনে থাকছে। ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য বা সরকারি সেবার তথ্য বিদেশি সার্ভারে থাকলে নীতিগত ঝুঁকি তৈরি হয়। বাংলাদেশের জন্য স্থানীয় মেঘ অবকাঠামো গড়া সহজ নয়, কারণ এতে বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল ও শক্তি সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু নাগরিকের সংবেদনশীল তথ্য সম্পূর্ণ বিদেশনির্ভর রাখাও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ, তাই এই আলোচনা শুরু করা এখনই জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















