০১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার হুমকি, টানা একাদশ রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল, নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মিখাইলো দ্রাপাতি ভারতে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, মোদির কঠোর বার্তার পরও রাজপথে হাজারো তরুণ আজব প্রযুক্তিতে বাতাস থেকেই পানি, আবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ কুবোটার       ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে জাপানে তীব্র তাপপ্রবাহ, ‘ভয়াবহ গরমের দিন’ ঘোষণা ককরোচ পার্টির আন্দোলন কি মোদী সরকারের জন্য ‘বিপদঘণ্টা’? ‘ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখি- কেউ মনে হয় আমাকে আগুনে ফেলে দিচ্ছে’ প্রাচীন ইরানি অলংকার পরে বিতর্কে জেনডায়া, উঠেছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্ন দাঁত ঘষার অভ্যাস থেকে মুক্তির সহজ উপায়, মুখের স্বাস্থ্যে নতুন সচেতনতা ‘দ্য ওডিসি’র জন্য ম্যাট ডেমনের গ্রিক দেবতার মতো শরীর গঠনের কঠিন প্রস্তুতি

এআইয়ের যুগে চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম বদল, মানবিক বিদ্যা থেকে রোবটিক্সে ঝুঁকছে উচ্চশিক্ষা

চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এআইয়ের যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পাঠ্যক্রম বড়ভাবে বদলাচ্ছে। ল্য মঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২০৩০ সময়কালের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এই প্রযুক্তিকে বাস্তব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর থাকায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন আন্তঃবিভাগীয় কোর্স চালু করছে। অর্থনীতি, আইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান, রোবটিক্স, অর্ধপরিবাহী ও ডিজিটাল কৃষি একসঙ্গে আলোচনায় আসছে।

রেনমিন ও তোংজি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান নতুন কোর্স ও কার্যক্রম চালু করছে, যেখানে এই প্রযুক্তি একা কম্পিউটার বিজ্ঞান নয়, বরং অর্থনীতি, আইন, প্রশাসন এবং শিল্প প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত। একই সময় কিছু চিরাচরিত মানবিক বিদ্যা, বিদেশি ভাষা ও শিল্পকলার কোর্স ছোট করা বা বাদ দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তরুণ বেকারত্ব প্রায় ১৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় শিক্ষার্থীরা চাকরির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

চীনের এই বদল বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার বড় প্রশ্নকে সামনে আনে। বিশ্ববিদ্যালয় কি চাকরির বাজারের জন্য দ্রুত দক্ষতা তৈরির কারখানা হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও সমালোচনামূলক চিন্তার জায়গা থাকবে। এই প্রযুক্তি কিছু অনুবাদ, খসড়া তৈরি, নকশা এবং বিশ্লেষণের কাজ বদলে দিচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাজারের চাহিদা দেখে কোর্স খুলছে। কিন্তু মানবিক বিদ্যা কমিয়ে দিলে সমাজ, আইন, নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও ভাষার গভীর বোঝাপড়া দুর্বল হতে পারে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও এটি বড় শিক্ষা। শুধু নতুন বিভাগ খোলা যথেষ্ট নয়। অর্থনীতি, আইন, সাংবাদিকতার তথ্য যাচাই, নৈতিকতা, বাংলা ভাষা প্রযুক্তি, কৃষি তথ্যবিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণ, সব ক্ষেত্রেই আন্তঃবিভাগীয় পাঠ্যক্রম দরকার। তবে মানবিক বিদ্যা বাদ দিয়ে নয়, এই প্রযুক্তির জ্ঞানকে মানবিক বিদ্যার ভেতর আনা দরকার। ভবিষ্যৎ চাকরি শুধু প্রোগ্রামারের হবে না।

চীনের এই দ্রুত পরিবর্তন একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে আনে, বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু চাকরির বাজারের জন্য দক্ষতা তৈরির কারখানা হবে, নাকি সমালোচনামূলক চিন্তার জায়গা থেকেও সরবে না। প্রায় ১৬ শতাংশ তরুণ বেকারত্বের চাপে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য শিক্ষা হলো, শুধু নতুন প্রযুক্তি বিভাগ খোলাই যথেষ্ট নয়। আইন, সাংবাদিকতা বা কৃষির মতো বিষয়ে এই প্রযুক্তির জ্ঞান যুক্ত করা দরকার, মানবিক বিদ্যা বাদ দিয়ে নয়, তার ভেতরেই প্রযুক্তি শিক্ষা মিশিয়ে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার হুমকি, টানা একাদশ রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

এআইয়ের যুগে চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম বদল, মানবিক বিদ্যা থেকে রোবটিক্সে ঝুঁকছে উচ্চশিক্ষা

১১:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এআইয়ের যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পাঠ্যক্রম বড়ভাবে বদলাচ্ছে। ল্য মঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২০৩০ সময়কালের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এই প্রযুক্তিকে বাস্তব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর থাকায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন আন্তঃবিভাগীয় কোর্স চালু করছে। অর্থনীতি, আইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান, রোবটিক্স, অর্ধপরিবাহী ও ডিজিটাল কৃষি একসঙ্গে আলোচনায় আসছে।

রেনমিন ও তোংজি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান নতুন কোর্স ও কার্যক্রম চালু করছে, যেখানে এই প্রযুক্তি একা কম্পিউটার বিজ্ঞান নয়, বরং অর্থনীতি, আইন, প্রশাসন এবং শিল্প প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত। একই সময় কিছু চিরাচরিত মানবিক বিদ্যা, বিদেশি ভাষা ও শিল্পকলার কোর্স ছোট করা বা বাদ দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তরুণ বেকারত্ব প্রায় ১৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় শিক্ষার্থীরা চাকরির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

চীনের এই বদল বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার বড় প্রশ্নকে সামনে আনে। বিশ্ববিদ্যালয় কি চাকরির বাজারের জন্য দ্রুত দক্ষতা তৈরির কারখানা হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও সমালোচনামূলক চিন্তার জায়গা থাকবে। এই প্রযুক্তি কিছু অনুবাদ, খসড়া তৈরি, নকশা এবং বিশ্লেষণের কাজ বদলে দিচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাজারের চাহিদা দেখে কোর্স খুলছে। কিন্তু মানবিক বিদ্যা কমিয়ে দিলে সমাজ, আইন, নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও ভাষার গভীর বোঝাপড়া দুর্বল হতে পারে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও এটি বড় শিক্ষা। শুধু নতুন বিভাগ খোলা যথেষ্ট নয়। অর্থনীতি, আইন, সাংবাদিকতার তথ্য যাচাই, নৈতিকতা, বাংলা ভাষা প্রযুক্তি, কৃষি তথ্যবিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণ, সব ক্ষেত্রেই আন্তঃবিভাগীয় পাঠ্যক্রম দরকার। তবে মানবিক বিদ্যা বাদ দিয়ে নয়, এই প্রযুক্তির জ্ঞানকে মানবিক বিদ্যার ভেতর আনা দরকার। ভবিষ্যৎ চাকরি শুধু প্রোগ্রামারের হবে না।

চীনের এই দ্রুত পরিবর্তন একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে আনে, বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু চাকরির বাজারের জন্য দক্ষতা তৈরির কারখানা হবে, নাকি সমালোচনামূলক চিন্তার জায়গা থেকেও সরবে না। প্রায় ১৬ শতাংশ তরুণ বেকারত্বের চাপে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য শিক্ষা হলো, শুধু নতুন প্রযুক্তি বিভাগ খোলাই যথেষ্ট নয়। আইন, সাংবাদিকতা বা কৃষির মতো বিষয়ে এই প্রযুক্তির জ্ঞান যুক্ত করা দরকার, মানবিক বিদ্যা বাদ দিয়ে নয়, তার ভেতরেই প্রযুক্তি শিক্ষা মিশিয়ে।