০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ গরমের দিনে ক্যাট চেনের ঘরোয়া আড্ডা, যেখানে খাবার-পানীয়ের সঙ্গে মিশে যায় স্বস্তি জিএলপি-১ ওষুধের যুগে বদলে যাচ্ছে সৌন্দর্যের ধারণা শেরপুরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ২৫ ঘণ্টা পর বিল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্বস্তি, নেটে ফিরেছেন তানজিদ-মুশফিক পুরুষের সাজে নতুন ঝলক, কানে দুলের দাপট চীনে মার্কিন শিক্ষাবিদের আটক নিয়ে রুবিওর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বেইজিংয়ের দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু, বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া হলো না হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যু ৯২৮ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

এআইয়ের যুগে চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম বদল, মানবিক বিদ্যা থেকে রোবটিক্সে ঝুঁকছে উচ্চশিক্ষা

চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এআইয়ের যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পাঠ্যক্রম বড়ভাবে বদলাচ্ছে। ল্য মঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২০৩০ সময়কালের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এই প্রযুক্তিকে বাস্তব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর থাকায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন আন্তঃবিভাগীয় কোর্স চালু করছে। অর্থনীতি, আইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান, রোবটিক্স, অর্ধপরিবাহী ও ডিজিটাল কৃষি একসঙ্গে আলোচনায় আসছে।

রেনমিন ও তোংজি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান নতুন কোর্স ও কার্যক্রম চালু করছে, যেখানে এই প্রযুক্তি একা কম্পিউটার বিজ্ঞান নয়, বরং অর্থনীতি, আইন, প্রশাসন এবং শিল্প প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত। একই সময় কিছু চিরাচরিত মানবিক বিদ্যা, বিদেশি ভাষা ও শিল্পকলার কোর্স ছোট করা বা বাদ দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তরুণ বেকারত্ব প্রায় ১৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় শিক্ষার্থীরা চাকরির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

চীনের এই বদল বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার বড় প্রশ্নকে সামনে আনে। বিশ্ববিদ্যালয় কি চাকরির বাজারের জন্য দ্রুত দক্ষতা তৈরির কারখানা হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও সমালোচনামূলক চিন্তার জায়গা থাকবে। এই প্রযুক্তি কিছু অনুবাদ, খসড়া তৈরি, নকশা এবং বিশ্লেষণের কাজ বদলে দিচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাজারের চাহিদা দেখে কোর্স খুলছে। কিন্তু মানবিক বিদ্যা কমিয়ে দিলে সমাজ, আইন, নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও ভাষার গভীর বোঝাপড়া দুর্বল হতে পারে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও এটি বড় শিক্ষা। শুধু নতুন বিভাগ খোলা যথেষ্ট নয়। অর্থনীতি, আইন, সাংবাদিকতার তথ্য যাচাই, নৈতিকতা, বাংলা ভাষা প্রযুক্তি, কৃষি তথ্যবিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণ, সব ক্ষেত্রেই আন্তঃবিভাগীয় পাঠ্যক্রম দরকার। তবে মানবিক বিদ্যা বাদ দিয়ে নয়, এই প্রযুক্তির জ্ঞানকে মানবিক বিদ্যার ভেতর আনা দরকার। ভবিষ্যৎ চাকরি শুধু প্রোগ্রামারের হবে না।

চীনের এই দ্রুত পরিবর্তন একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে আনে, বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু চাকরির বাজারের জন্য দক্ষতা তৈরির কারখানা হবে, নাকি সমালোচনামূলক চিন্তার জায়গা থেকেও সরবে না। প্রায় ১৬ শতাংশ তরুণ বেকারত্বের চাপে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য শিক্ষা হলো, শুধু নতুন প্রযুক্তি বিভাগ খোলাই যথেষ্ট নয়। আইন, সাংবাদিকতা বা কৃষির মতো বিষয়ে এই প্রযুক্তির জ্ঞান যুক্ত করা দরকার, মানবিক বিদ্যা বাদ দিয়ে নয়, তার ভেতরেই প্রযুক্তি শিক্ষা মিশিয়ে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ

এআইয়ের যুগে চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম বদল, মানবিক বিদ্যা থেকে রোবটিক্সে ঝুঁকছে উচ্চশিক্ষা

১১:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এআইয়ের যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পাঠ্যক্রম বড়ভাবে বদলাচ্ছে। ল্য মঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২০৩০ সময়কালের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এই প্রযুক্তিকে বাস্তব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর থাকায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন আন্তঃবিভাগীয় কোর্স চালু করছে। অর্থনীতি, আইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান, রোবটিক্স, অর্ধপরিবাহী ও ডিজিটাল কৃষি একসঙ্গে আলোচনায় আসছে।

রেনমিন ও তোংজি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান নতুন কোর্স ও কার্যক্রম চালু করছে, যেখানে এই প্রযুক্তি একা কম্পিউটার বিজ্ঞান নয়, বরং অর্থনীতি, আইন, প্রশাসন এবং শিল্প প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত। একই সময় কিছু চিরাচরিত মানবিক বিদ্যা, বিদেশি ভাষা ও শিল্পকলার কোর্স ছোট করা বা বাদ দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তরুণ বেকারত্ব প্রায় ১৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় শিক্ষার্থীরা চাকরির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

চীনের এই বদল বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার বড় প্রশ্নকে সামনে আনে। বিশ্ববিদ্যালয় কি চাকরির বাজারের জন্য দ্রুত দক্ষতা তৈরির কারখানা হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও সমালোচনামূলক চিন্তার জায়গা থাকবে। এই প্রযুক্তি কিছু অনুবাদ, খসড়া তৈরি, নকশা এবং বিশ্লেষণের কাজ বদলে দিচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাজারের চাহিদা দেখে কোর্স খুলছে। কিন্তু মানবিক বিদ্যা কমিয়ে দিলে সমাজ, আইন, নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও ভাষার গভীর বোঝাপড়া দুর্বল হতে পারে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও এটি বড় শিক্ষা। শুধু নতুন বিভাগ খোলা যথেষ্ট নয়। অর্থনীতি, আইন, সাংবাদিকতার তথ্য যাচাই, নৈতিকতা, বাংলা ভাষা প্রযুক্তি, কৃষি তথ্যবিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণ, সব ক্ষেত্রেই আন্তঃবিভাগীয় পাঠ্যক্রম দরকার। তবে মানবিক বিদ্যা বাদ দিয়ে নয়, এই প্রযুক্তির জ্ঞানকে মানবিক বিদ্যার ভেতর আনা দরকার। ভবিষ্যৎ চাকরি শুধু প্রোগ্রামারের হবে না।

চীনের এই দ্রুত পরিবর্তন একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে আনে, বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু চাকরির বাজারের জন্য দক্ষতা তৈরির কারখানা হবে, নাকি সমালোচনামূলক চিন্তার জায়গা থেকেও সরবে না। প্রায় ১৬ শতাংশ তরুণ বেকারত্বের চাপে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য শিক্ষা হলো, শুধু নতুন প্রযুক্তি বিভাগ খোলাই যথেষ্ট নয়। আইন, সাংবাদিকতা বা কৃষির মতো বিষয়ে এই প্রযুক্তির জ্ঞান যুক্ত করা দরকার, মানবিক বিদ্যা বাদ দিয়ে নয়, তার ভেতরেই প্রযুক্তি শিক্ষা মিশিয়ে।