০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চীনে ৪০ শতাংশ চাকরিতে এখন এআইয়ের দক্ষতা বাধ্যতামূলক, শ্রমবাজারে নতুন সংকেত

চীনে নতুন স্নাতকদের চাকরির বিজ্ঞাপনে এআইয়ের দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে একটি চাকরির প্ল্যাটফর্মের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রায় ১০টির মধ্যে ৪টি স্নাতক চাকরির বিজ্ঞাপনে এই প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা বলেছেন, জটিল কাজ, অর্থাৎ বহু ধরনের কাজ ও মানবিক বিচারবুদ্ধি মিলিয়ে করা ভূমিকা প্রযুক্তিগত ব্যাঘাত থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।

এই প্রবণতা শুধু চীনের নয়, বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সংকেত। এই প্রযুক্তি এখন শুধু সফটওয়্যার প্রকৌশলী বা তথ্য বিশ্লেষকের বিষয় নয়। বিপণন, অর্থ, পরিচালনা, নকশা, গ্রাহকসেবা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, গণমাধ্যম, গবেষণা, মানবসম্পদ, আইনি সহায়তা, সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা মূল্যবান হয়ে উঠছে। নতুন স্নাতকদের কাছ থেকে দক্ষ প্রোগ্রামার হওয়া সবসময় চাওয়া হচ্ছে না, কিন্তু এই প্রযুক্তি দিয়ে কাজ দ্রুত করা, নির্দেশনা লেখা, ফলাফল যাচাই, তথ্য বোঝা এবং কর্মপ্রবাহ বদলানোর ক্ষমতা চাওয়া হচ্ছে।

The Impact of AI on the Labour Market

এখানে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির চরিত্র বদলে যাওয়া। আগে নতুন কর্মী পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করে শিখতেন। এখন সেই কাজের বড় অংশ প্রযুক্তিই করতে পারে। ফলে নতুন কর্মীদের জন্য শেখার সিঁড়ি ছোট হয়ে যাচ্ছে। তারা যদি শুধু মৌলিক কাজ করতে জানেন, প্রযুক্তি তাদের প্রতিস্থাপন করতে পারে। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, যোগাযোগ, বিচারবুদ্ধি এবং টুল ব্যবহার একসঙ্গে থাকলে তারা দ্রুত মূল্যবান হয়ে উঠতে পারেন। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বার্তাটি পরিষ্কার। শুধু সনদ নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখালেখি, গবেষণা, উপস্থাপনা, প্রাথমিক প্রোগ্রামিং, তথ্য বিশ্লেষণ এবং এই প্রযুক্তি-সহায়ক কর্মপ্রবাহ শেখানো উচিত। একই সঙ্গে অন্ধভাবে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বিপজ্জনক। ফলাফল যাচাই না করলে ভুল প্রতিবেদন, ভুল আইনি নোট, ভুল চিকিৎসা সারসংক্ষেপ, ভুল সংবাদ তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির চরিত্র বদলে যাওয়া। আগে জুনিয়র কর্মীরা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করে শিখতেন, এখন সেই কাজের বড় অংশ এই প্রযুক্তিই করে ফেলছে, ফলে নতুন কর্মীদের শেখার সিঁড়ি সংক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বার্তা স্পষ্ট, সনদ নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা এবং ফলাফল যাচাইয়ের অভ্যাস ভবিষ্যতের আসল যোগ্যতা। যারা শুধু মৌলিক কাজ জানেন, তারাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকবেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

চীনে ৪০ শতাংশ চাকরিতে এখন এআইয়ের দক্ষতা বাধ্যতামূলক, শ্রমবাজারে নতুন সংকেত

১১:৩৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

চীনে নতুন স্নাতকদের চাকরির বিজ্ঞাপনে এআইয়ের দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে একটি চাকরির প্ল্যাটফর্মের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রায় ১০টির মধ্যে ৪টি স্নাতক চাকরির বিজ্ঞাপনে এই প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা বলেছেন, জটিল কাজ, অর্থাৎ বহু ধরনের কাজ ও মানবিক বিচারবুদ্ধি মিলিয়ে করা ভূমিকা প্রযুক্তিগত ব্যাঘাত থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।

এই প্রবণতা শুধু চীনের নয়, বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সংকেত। এই প্রযুক্তি এখন শুধু সফটওয়্যার প্রকৌশলী বা তথ্য বিশ্লেষকের বিষয় নয়। বিপণন, অর্থ, পরিচালনা, নকশা, গ্রাহকসেবা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, গণমাধ্যম, গবেষণা, মানবসম্পদ, আইনি সহায়তা, সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা মূল্যবান হয়ে উঠছে। নতুন স্নাতকদের কাছ থেকে দক্ষ প্রোগ্রামার হওয়া সবসময় চাওয়া হচ্ছে না, কিন্তু এই প্রযুক্তি দিয়ে কাজ দ্রুত করা, নির্দেশনা লেখা, ফলাফল যাচাই, তথ্য বোঝা এবং কর্মপ্রবাহ বদলানোর ক্ষমতা চাওয়া হচ্ছে।

The Impact of AI on the Labour Market

এখানে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির চরিত্র বদলে যাওয়া। আগে নতুন কর্মী পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করে শিখতেন। এখন সেই কাজের বড় অংশ প্রযুক্তিই করতে পারে। ফলে নতুন কর্মীদের জন্য শেখার সিঁড়ি ছোট হয়ে যাচ্ছে। তারা যদি শুধু মৌলিক কাজ করতে জানেন, প্রযুক্তি তাদের প্রতিস্থাপন করতে পারে। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, যোগাযোগ, বিচারবুদ্ধি এবং টুল ব্যবহার একসঙ্গে থাকলে তারা দ্রুত মূল্যবান হয়ে উঠতে পারেন। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বার্তাটি পরিষ্কার। শুধু সনদ নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখালেখি, গবেষণা, উপস্থাপনা, প্রাথমিক প্রোগ্রামিং, তথ্য বিশ্লেষণ এবং এই প্রযুক্তি-সহায়ক কর্মপ্রবাহ শেখানো উচিত। একই সঙ্গে অন্ধভাবে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বিপজ্জনক। ফলাফল যাচাই না করলে ভুল প্রতিবেদন, ভুল আইনি নোট, ভুল চিকিৎসা সারসংক্ষেপ, ভুল সংবাদ তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির চরিত্র বদলে যাওয়া। আগে জুনিয়র কর্মীরা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করে শিখতেন, এখন সেই কাজের বড় অংশ এই প্রযুক্তিই করে ফেলছে, ফলে নতুন কর্মীদের শেখার সিঁড়ি সংক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বার্তা স্পষ্ট, সনদ নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা এবং ফলাফল যাচাইয়ের অভ্যাস ভবিষ্যতের আসল যোগ্যতা। যারা শুধু মৌলিক কাজ জানেন, তারাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকবেন।