ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগ ২০১৫ সালের ১ জুলাই চালু হওয়ার পর ১১ বছর পূর্ণ করেছে। সরকারি বয়ানে এটি প্রশাসনিক রূপান্তর, ডিজিটাল প্রবেশাধিকার, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সেবা প্রদান এবং নাগরিক ক্ষমতায়নের বড় প্রকল্প। ইউপিআই, ডিজিলকার, আধারভিত্তিক সেবা, অনলাইন সরকারি প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল পরিচয় অবকাঠামোর বিস্তার এখন ভারতের উন্নয়ন মডেলের কেন্দ্রে।
মনোরমা ইয়ারবুকের ব্যাখ্যামূলক লেখা ও সরকারি বিবৃতিতে ডিজিটাল ইন্ডিয়াকে ছাতা কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা বহু মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কাজকে একটি বড় লক্ষ্যের মধ্যে যুক্ত করে। লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল সেবা, ডিজিটাল প্রবেশাধিকার, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ক্ষমতায়ন বাড়ানো। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনও ইউপিআই ও ডিজিলকারের প্রবৃদ্ধিকে ভারতের ডিজিটাল সরকারি অবকাঠামোর সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, ডিজিটাল রূপান্তর শুধু অ্যাপ বানানো নয়। পরিচয়, লেনদেন, নথি, সেবা প্রদান, তথ্য বিনিময়, সংযোগ এবং আস্থার একটি সম্পূর্ণ অবকাঠামো একসঙ্গে গড়ে তুলতে হয়। ইউপিআই দেখিয়েছে, প্রকাশ্য ডিজিটাল রেলপথের ওপর দাঁড়িয়ে বেসরকারি উদ্ভাবন উঠতে পারে। ডিজিলকার দেখিয়েছে, নথির বহনযোগ্যতা মানুষের দৈনন্দিন প্রশাসনিক বোঝা কমাতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে গোপনীয়তা, বাদ পড়ে যাওয়া, নজরদারি এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রশ্নও থেকে যায়। বাংলাদেশের জন্য এই ১১ বছরের অভিজ্ঞতা মূল্যবান। আমাদেরও ডিজিটাল পেমেন্ট, নাগরিক সেবা, ভূমি নথি, স্বাস্থ্য নথি, শিক্ষা সনদ, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর ব্যবস্থায় সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম দরকার। কিন্তু হুবহু নকল মডেল কাজ করবে না। স্থানীয় প্রশাসনিক সক্ষমতা, ভাষা, দুর্নীতির ঝুঁকি, তথ্য সুরক্ষা আইন এবং নাগরিকের আস্থা বিবেচনা করতে হবে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ১১ বছরের অভিজ্ঞতা দেখায়, রূপান্তর মানে শুধু অ্যাপ তৈরি নয়, পরিচয়, লেনদেন, নথি ও আস্থার একটি সম্পূর্ণ অবকাঠামো একসঙ্গে গড়ে তোলা। ইউপিআই এই পথের ওপর দাঁড়িয়ে বেসরকারি উদ্ভাবনকে জায়গা করে দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য প্রশ্ন হলো, আমরা শুধু কাগজের সেবা স্ক্রিনে তুলব, নাকি পুরো ব্যবস্থাই নতুন করে সাজাব। প্রথমটি ডিজিটালীকরণ, দ্বিতীয়টি রূপান্তর, দুটো আলাদা লক্ষ্য এবং আলাদা বিনিয়োগ চায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















