আইওএস ২৭ নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ উন্নত অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ও সিরির এআই সুবিধা সব সমর্থিত ডিভাইসে একইভাবে কাজ করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নাইনটুফাইভম্যাক এবং অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সফটওয়্যার হালনাগাদ পুরোনো আইফোনে গেলেও উন্নত সুবিধাগুলো অনেক ক্ষেত্রে নতুন যন্ত্রাংশনির্ভর হতে পারে।
প্রযুক্তি প্রতিবেদনে আইফোনের র্যাম, যন্ত্রের ভেতরেই প্রক্রিয়াকরণ, ব্যক্তিগত মেঘ গণনা এবং প্রযুক্তির মডেল চালানো নিয়ে আলোচনা এসেছে। ধারণাটি সহজ, এই সুবিধা চালাতে শুধু পরিচালন ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, শক্তিশালী চিপ, স্মৃতি, স্নায়ু-প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র এবং গোপনীয়তা রক্ষাকারী মেঘ কাঠামো দরকার। ফলে একটি ফোন সফটওয়্যার হালনাগাদ পেলেও সব সুবিধা পাবে না। অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের আগের চালুকরণেও যন্ত্রাংশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে এমন বিতর্ক দেখা গেছে।

এই প্রবণতা স্মার্টফোন শিল্পের বড় মোড়। আগে মানুষ ক্যামেরা, ব্যাটারি, পর্দা বা সংরক্ষণক্ষমতা দেখে ফোন বদলাতেন। এখন এআইয়ের সক্ষমতা নিজেই বদলানোর কারণ হয়ে উঠতে পারে। আপনার ফোন কথা বুঝবে, ছবি সম্পাদনা করবে, কণ্ঠসহায়ক প্রসঙ্গ ধরে কাজ করবে, অ্যাপের ভেতরে নিজে থেকে কাজ করবে, এমন সুবিধা নতুন যন্ত্র বিক্রির যুক্তি তৈরি করছে। কিন্তু এতে পরিকল্পিতভাবে পুরোনো ডিভাইসকে অপ্রচলিত করে তোলার পুরোনো অভিযোগও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য বিষয়টি বাস্তবিক। অনেকেই দীর্ঘদিন আইফোন ব্যবহার করেন বা পুরোনো বাজার থেকে পুরোনো মডেল কেনেন। এখন শুধু মডেল নম্বর নয়, কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, স্থানীয় ভাষার সমর্থন আছে কি না, মেঘভিত্তিক সুবিধা এই অঞ্চলে কাজ করে কি না, ব্যাটারির স্বাস্থ্য ও সংরক্ষণক্ষমতা যথেষ্ট কি না, সব দেখতে হবে। এই সুবিধা যদি ইংরেজি-প্রধান হয়, বাংলাভাষী ব্যবহারকারীর জন্য তার মূল্য কম হতে পারে।
এই বিতর্ক দেখায়, স্মার্টফোন শিল্পে বদলানোর যুক্তি এখন ক্যামেরা বা ব্যাটারি ছাড়িয়ে এআইয়ের সক্ষমতায় সরে যাচ্ছে। কিন্তু এতে পরিকল্পিতভাবে পুরোনো ডিভাইসকে অপ্রচলিত করে তোলার পুরোনো অভিযোগও নতুন করে ফিরে আসছে। বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য বাস্তব প্রশ্ন হলো, কোন সুবিধা আসলে বাংলা ভাষায় বা স্থানীয় প্রেক্ষাপটে কাজ করে। অতি প্রচার দেখে নয়, সুবিধার বাস্তব প্রাপ্যতা যাচাই করেই নতুন ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















