১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে? ভূরাজনীতির ঝুঁকি: কোম্পানি কি প্রস্তুত? জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক

তার এআই আর আমার এআই কথা বলছে, অফিসে মানবিক যোগাযোগের নতুন সংকট

কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এখন উৎপাদনশীলতার সরঞ্জাম থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সংক্ষিপ্ত পথে পরিণত হচ্ছে। ফরচুনের আলোচনায় উঠে এসেছে, মানুষ ক্রমশ এই প্রযুক্তি দিয়ে মানবিক যোগাযোগের কাজও করাচ্ছে। ইমেইল লেখা, কঠিন কথোপকথনের খসড়া, প্রতিক্রিয়া, ক্ষমা প্রার্থনা, দরকষাকষি, এমনকি সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক সামলানোর ভাষাও এই প্রযুক্তি তৈরি করছে। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, তার এআই আর আমার এআই কথা বলছে।

এই ধরনের সহায়ক প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ স্পষ্ট। মানুষ সময়ের চাপে থাকে, দ্বন্দ্ব এড়াতে চায়, পেশাদার ভাষা ঠিক রাখতে চায় এবং ভুল ভাষা ব্যবহার করতে ভয় পায়। এই প্রযুক্তি তাদের সুবিন্যস্ত, ভদ্র, কূটনৈতিক উত্তর দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো, যোগাযোগ শুধু শব্দ নয়। প্রসঙ্গ, আবেগগত ঝুঁকি, আন্তরিকতা, আস্থা এবং মানুষের বিচারবুদ্ধি মিলেই সম্পর্ক তৈরি হয়। যদি সব কঠিন কথোপকথন প্রযুক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে আন্তব্যক্তিক দক্ষতা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে।

AI, can you talk to my Boss for me?"

বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে নিজের সামাজিক দায়িত্ব হস্তান্তর বলতে পারেন, যেখানে মানুষ নিজের সামাজিক দক্ষতা ও আবেগগত পরিশ্রম প্রযুক্তিকে দিয়ে করায়। এতে স্বল্পমেয়াদি কার্যকারিতা বাড়ে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক কম গভীর হতে পারে। ব্যবস্থাপক যদি কর্মীর প্রতিক্রিয়া প্রযুক্তি দিয়ে লেখেন, কর্মী যদি পদত্যাগপত্র প্রযুক্তি দিয়ে বানান, ক্রেতা যদি অভিযোগ প্রযুক্তি দিয়ে পাঠান, তাহলে সবাই মসৃণ কিন্তু দূরবর্তী হয়ে যেতে পারেন। ভাষা ভালো, অথচ সম্পর্ক ফাঁপা। বাংলাদেশের অফিস সংস্কৃতিতেও এই প্রবণতা আসবে, বিশেষ করে ইংরেজি ইমেইল, মানবসম্পদের নোট, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রস্তাব এবং কর্মমূল্যায়নে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা ভুল নয়, বরং খসড়া, স্বচ্ছতা, ব্যাকরণ ও ভাষার সুর উন্নত করতে এটি খুব সহায়ক। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষেরই হতে হবে।

এই প্রবণতার আসল ঝুঁকি কার্যকারিতায় নয়, সম্পর্কের গভীরতায়। ব্যবস্থাপক যদি প্রতিক্রিয়া প্রযুক্তি দিয়ে লেখেন বা কর্মী পদত্যাগপত্র প্রযুক্তি দিয়ে বানান, ভাষা মসৃণ হয় ঠিকই, কিন্তু এতে নিজের সামাজিক ও আবেগগত দায়িত্ব প্রযুক্তিকে দিয়ে করানোর প্রবণতা বাড়ে, আর মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। বাংলাদেশের অফিস সংস্কৃতিতেও ইংরেজি ইমেইল বা মানবসম্পদের নোটে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। খসড়া তৈরি করা সমস্যা নয়, কিন্তু কঠিন কথোপকথনে নিজের সিদ্ধান্ত, সহানুভূতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ রাখা মানুষেরই দায়িত্ব থেকে যায়।

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে?

তার এআই আর আমার এআই কথা বলছে, অফিসে মানবিক যোগাযোগের নতুন সংকট

১১:৫০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এখন উৎপাদনশীলতার সরঞ্জাম থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সংক্ষিপ্ত পথে পরিণত হচ্ছে। ফরচুনের আলোচনায় উঠে এসেছে, মানুষ ক্রমশ এই প্রযুক্তি দিয়ে মানবিক যোগাযোগের কাজও করাচ্ছে। ইমেইল লেখা, কঠিন কথোপকথনের খসড়া, প্রতিক্রিয়া, ক্ষমা প্রার্থনা, দরকষাকষি, এমনকি সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক সামলানোর ভাষাও এই প্রযুক্তি তৈরি করছে। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, তার এআই আর আমার এআই কথা বলছে।

এই ধরনের সহায়ক প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ স্পষ্ট। মানুষ সময়ের চাপে থাকে, দ্বন্দ্ব এড়াতে চায়, পেশাদার ভাষা ঠিক রাখতে চায় এবং ভুল ভাষা ব্যবহার করতে ভয় পায়। এই প্রযুক্তি তাদের সুবিন্যস্ত, ভদ্র, কূটনৈতিক উত্তর দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো, যোগাযোগ শুধু শব্দ নয়। প্রসঙ্গ, আবেগগত ঝুঁকি, আন্তরিকতা, আস্থা এবং মানুষের বিচারবুদ্ধি মিলেই সম্পর্ক তৈরি হয়। যদি সব কঠিন কথোপকথন প্রযুক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে আন্তব্যক্তিক দক্ষতা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে।

AI, can you talk to my Boss for me?"

বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে নিজের সামাজিক দায়িত্ব হস্তান্তর বলতে পারেন, যেখানে মানুষ নিজের সামাজিক দক্ষতা ও আবেগগত পরিশ্রম প্রযুক্তিকে দিয়ে করায়। এতে স্বল্পমেয়াদি কার্যকারিতা বাড়ে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক কম গভীর হতে পারে। ব্যবস্থাপক যদি কর্মীর প্রতিক্রিয়া প্রযুক্তি দিয়ে লেখেন, কর্মী যদি পদত্যাগপত্র প্রযুক্তি দিয়ে বানান, ক্রেতা যদি অভিযোগ প্রযুক্তি দিয়ে পাঠান, তাহলে সবাই মসৃণ কিন্তু দূরবর্তী হয়ে যেতে পারেন। ভাষা ভালো, অথচ সম্পর্ক ফাঁপা। বাংলাদেশের অফিস সংস্কৃতিতেও এই প্রবণতা আসবে, বিশেষ করে ইংরেজি ইমেইল, মানবসম্পদের নোট, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রস্তাব এবং কর্মমূল্যায়নে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা ভুল নয়, বরং খসড়া, স্বচ্ছতা, ব্যাকরণ ও ভাষার সুর উন্নত করতে এটি খুব সহায়ক। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষেরই হতে হবে।

এই প্রবণতার আসল ঝুঁকি কার্যকারিতায় নয়, সম্পর্কের গভীরতায়। ব্যবস্থাপক যদি প্রতিক্রিয়া প্রযুক্তি দিয়ে লেখেন বা কর্মী পদত্যাগপত্র প্রযুক্তি দিয়ে বানান, ভাষা মসৃণ হয় ঠিকই, কিন্তু এতে নিজের সামাজিক ও আবেগগত দায়িত্ব প্রযুক্তিকে দিয়ে করানোর প্রবণতা বাড়ে, আর মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। বাংলাদেশের অফিস সংস্কৃতিতেও ইংরেজি ইমেইল বা মানবসম্পদের নোটে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। খসড়া তৈরি করা সমস্যা নয়, কিন্তু কঠিন কথোপকথনে নিজের সিদ্ধান্ত, সহানুভূতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ রাখা মানুষেরই দায়িত্ব থেকে যায়।