০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার পরের পরীক্ষা: নেতৃত্ব কি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক সমৃদ্ধি আনবে? তারেক রহমানকে ট্রাম্পের চিঠি: কিছু কথা রাজনীতির নতুন সূত্র: ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাংসের জোগান বইয়ের পাতার মতোই মুগ্ধতা ছড়ায় বিশ্বের ৭ অপূর্ব গ্রন্থাগার লুলুলেমন আনল ‘বিগ-অ্যাস ব্যাগ’, ৮০ লিটারের বিশাল টোট ব্যাগে ঢুকবে যেন পুরো সংসার শিশুদের মুখে নতুন হাসি, মিশিগানে ম্যাগির উইগস ৪ কিডস-এর ২৩তম বার্ষিক গালা নাসার রোমান টেলিস্কোপের নতুন ঠিকানার পথে তিন মাসের মহাকাশযাত্রা মাত্র ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ‘কিউটি পাই’ গোলাপ, ছোট বাগান সাজাতে দারুণ প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করতে অভিভাবকের যে ৬টি পদক্ষেপ জরুরি বাড়িতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকলে সম্পর্ক ভালো রাখার উপায়

চোখে জল এনে দেওয়া সেই সুদান উদ্ধার অভিযানের স্মৃতি, হংকংয়ে যুদ্ধজাহাজে জনতার ভিড়

সুদানের গৃহযুদ্ধের সময় শত শত চীনা নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার অভিযানের স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি চীনের নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা। হংকংয়ে সামরিক ব্যারাকের উন্মুক্ত প্রদর্শনীতে এসে তিনি সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে আসা অনেক মানুষ যুদ্ধজাহাজে উঠেই আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন। সেই দৃশ্য আজও তার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।

চীনের সার্বভৌমত্বে হংকং ফিরে আসার ২৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঁচ দিনের সফরে সেখানে অবস্থান করছে। এ উপলক্ষে হাজারো মানুষ ব্যারাকে এসে আধুনিক নৌবাহিনীর বিভিন্ন সক্ষমতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।

উদ্ধার অভিযানের স্মৃতিচারণ

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা চেন ইউফেই জানান, ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের গৃহযুদ্ধের সময় ৯৪০ জন চীনা নাগরিক, যার মধ্যে হংকংয়ের দুজন বাসিন্দাও ছিলেন, তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করে যুদ্ধজাহাজ নাননিং। পাশাপাশি শত শত বিদেশি নাগরিককেও নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, নির্দেশ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো জাহাজকে উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা হয়। যাত্রীদের নিরাপদে জাহাজে তোলার মহড়া দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়। শুধু আশ্রয়ই নয়, খাবার ও রাতের নাশতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

চেন জানান, যুদ্ধের ভয়াবহতা পেরিয়ে অনেক মানুষ ধুলোমাখা যানবাহনে বন্দরে পৌঁছেছিলেন। যুদ্ধজাহাজ চোখে পড়তেই তাদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে নৌসদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তার মতে, সেই মুহূর্ত ছিল জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।

পরে উদ্ধার হওয়া মানুষদের লোহিত সাগর পেরিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দরে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।

Hong Kong bids farewell to naval fleet led by aircraft carrier Shandong

হংকং ঘুরে দেখার আগ্রহ

চেন জানান, দায়িত্ব পালনের ফাঁকে তিনি এখনও হংকং ঘুরে দেখার সুযোগ পাননি। সুযোগ পেলে তিনি শহরের পরিচিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখতে এবং স্থানীয় মিষ্টান্নের স্বাদ নিতে চান।

অন্যদিকে যুদ্ধজাহাজ হেংইয়াংয়ের কর্মকর্তা লিয়াং কিউরুই বলেন, প্রদর্শনীতে আসা বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৌবাহিনীর জীবন নিয়ে প্রবল আগ্রহ দেখা গেছে। অনেক তরুণ ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।

তারও ইচ্ছা, সময় পেলে হংকংয়ের স্থানীয় খাবার উপভোগ করবেন এবং শহরের ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবন কাছ থেকে দেখবেন।

উন্মুক্ত প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস

বৃষ্টিভেজা সকালেও শত শত পরিবার ও দর্শনার্থী ব্যারাকে ভিড় করেন। তারা যুদ্ধজাহাজের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন, হেলিকপ্টারের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন।

একটি প্রদর্শনী হলে সেনাসদস্যরা শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতার প্রদর্শনী করেন। দর্শকদের জন্য ছিল দড়ির গিঁট বাঁধার প্রশিক্ষণ এবং ভারী অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষা পোশাক পরে অনুশীলনের সুযোগও।

অনেক দর্শনার্থী জানান, আগের বছরগুলোতে টিকিট না পাওয়ায় তারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। এবার সুযোগ পেয়ে তারা সন্তুষ্ট।

একজন দর্শনার্থী বলেন, যুদ্ধজাহাজের ভেতরের নকশা এবং দ্রুতগতির নৌকা সংরক্ষণের ব্যবস্থা তাকে মুগ্ধ করেছে। আরেক শিশুদর্শনার্থীর সবচেয়ে ভালো লেগেছে হেলিকপ্টার দেখা এবং নৌসদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা।

একজন অভিভাবক বলেন, বইয়ে পড়া সামরিক প্রযুক্তি ও দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবার তার সন্তান বাস্তবে দেখতে পেরেছে। এতে শেখার অভিজ্ঞতা আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার পরের পরীক্ষা: নেতৃত্ব কি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক সমৃদ্ধি আনবে?

চোখে জল এনে দেওয়া সেই সুদান উদ্ধার অভিযানের স্মৃতি, হংকংয়ে যুদ্ধজাহাজে জনতার ভিড়

০৬:৪২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

সুদানের গৃহযুদ্ধের সময় শত শত চীনা নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার অভিযানের স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি চীনের নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা। হংকংয়ে সামরিক ব্যারাকের উন্মুক্ত প্রদর্শনীতে এসে তিনি সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে আসা অনেক মানুষ যুদ্ধজাহাজে উঠেই আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন। সেই দৃশ্য আজও তার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।

চীনের সার্বভৌমত্বে হংকং ফিরে আসার ২৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঁচ দিনের সফরে সেখানে অবস্থান করছে। এ উপলক্ষে হাজারো মানুষ ব্যারাকে এসে আধুনিক নৌবাহিনীর বিভিন্ন সক্ষমতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।

উদ্ধার অভিযানের স্মৃতিচারণ

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা চেন ইউফেই জানান, ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের গৃহযুদ্ধের সময় ৯৪০ জন চীনা নাগরিক, যার মধ্যে হংকংয়ের দুজন বাসিন্দাও ছিলেন, তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করে যুদ্ধজাহাজ নাননিং। পাশাপাশি শত শত বিদেশি নাগরিককেও নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, নির্দেশ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো জাহাজকে উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা হয়। যাত্রীদের নিরাপদে জাহাজে তোলার মহড়া দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়। শুধু আশ্রয়ই নয়, খাবার ও রাতের নাশতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

চেন জানান, যুদ্ধের ভয়াবহতা পেরিয়ে অনেক মানুষ ধুলোমাখা যানবাহনে বন্দরে পৌঁছেছিলেন। যুদ্ধজাহাজ চোখে পড়তেই তাদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে নৌসদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তার মতে, সেই মুহূর্ত ছিল জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।

পরে উদ্ধার হওয়া মানুষদের লোহিত সাগর পেরিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দরে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।

Hong Kong bids farewell to naval fleet led by aircraft carrier Shandong

হংকং ঘুরে দেখার আগ্রহ

চেন জানান, দায়িত্ব পালনের ফাঁকে তিনি এখনও হংকং ঘুরে দেখার সুযোগ পাননি। সুযোগ পেলে তিনি শহরের পরিচিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখতে এবং স্থানীয় মিষ্টান্নের স্বাদ নিতে চান।

অন্যদিকে যুদ্ধজাহাজ হেংইয়াংয়ের কর্মকর্তা লিয়াং কিউরুই বলেন, প্রদর্শনীতে আসা বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৌবাহিনীর জীবন নিয়ে প্রবল আগ্রহ দেখা গেছে। অনেক তরুণ ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।

তারও ইচ্ছা, সময় পেলে হংকংয়ের স্থানীয় খাবার উপভোগ করবেন এবং শহরের ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবন কাছ থেকে দেখবেন।

উন্মুক্ত প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস

বৃষ্টিভেজা সকালেও শত শত পরিবার ও দর্শনার্থী ব্যারাকে ভিড় করেন। তারা যুদ্ধজাহাজের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন, হেলিকপ্টারের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন।

একটি প্রদর্শনী হলে সেনাসদস্যরা শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতার প্রদর্শনী করেন। দর্শকদের জন্য ছিল দড়ির গিঁট বাঁধার প্রশিক্ষণ এবং ভারী অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষা পোশাক পরে অনুশীলনের সুযোগও।

অনেক দর্শনার্থী জানান, আগের বছরগুলোতে টিকিট না পাওয়ায় তারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। এবার সুযোগ পেয়ে তারা সন্তুষ্ট।

একজন দর্শনার্থী বলেন, যুদ্ধজাহাজের ভেতরের নকশা এবং দ্রুতগতির নৌকা সংরক্ষণের ব্যবস্থা তাকে মুগ্ধ করেছে। আরেক শিশুদর্শনার্থীর সবচেয়ে ভালো লেগেছে হেলিকপ্টার দেখা এবং নৌসদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা।

একজন অভিভাবক বলেন, বইয়ে পড়া সামরিক প্রযুক্তি ও দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবার তার সন্তান বাস্তবে দেখতে পেরেছে। এতে শেখার অভিজ্ঞতা আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে।