১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে? ভূরাজনীতির ঝুঁকি: কোম্পানি কি প্রস্তুত? জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক

বাংলাদেশ নয়, ভারতের সরকারি ওয়েবসাইট কেন এখনো ব্যবহারকারীদের ভোগান্তির কারণ?

ডিজিটাল সেবায় বিশ্বজুড়ে ভারতের সাফল্যের কথা প্রায়ই আলোচনায় আসে। তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি, বড় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এবং দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতির কারণে দেশটি প্রযুক্তি খাতে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভারতের অনেক সরকারি ওয়েবসাইট এখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য জটিল, ধীরগতির এবং বিভ্রান্তিকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

বিশেষ করে ভিসা আবেদন, কর জমা, ভোটার নিবন্ধন কিংবা রেলওয়ের টিকিট কাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় ব্যবহারকারীরা প্রায়ই নানা প্রযুক্তিগত বাধার মুখে পড়েন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা একটি দেশে সরকারি ওয়েবসাইটের মান কেন এত পিছিয়ে?

ডিজিটাল সেবার বদলে বাড়ছে ভোগান্তি

অনেক সরকারি ওয়েবসাইটে অপ্রয়োজনীয় বার্তা, চলমান লেখা, ঝলমলে গ্রাফিক্স, ভাঙা সংযোগ, পুরোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জটিল আবেদন প্রক্রিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও নাম লেখার ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাজকে আরও কঠিন করে তোলে।

শুধু সামনের অংশ নয়, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর দুর্বলতাও উদ্বেগের কারণ। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার অনলাইন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।

Network Vulnerabilities 2025: Risks, Trends & Defense

সমস্যার মূল কোথায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কাগজভিত্তিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রেখে শুধু সেটিকে অনলাইনে স্থানান্তরের প্রবণতা ছিল। ফলে ব্যবহারকারীর সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুনভাবে সেবা নকশা করার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি।

সরকারি ওয়েবসাইট তৈরির নীতিমালায় ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার বিষয়টিও তুলনামূলকভাবে অনেক পরে গুরুত্ব পেতে শুরু করে। এ কারণে বহু সাইটে প্রযুক্তি থাকলেও ব্যবহার সহজ করার দিকটি উপেক্ষিত থেকে যায়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিনির্ভরতা

বড় প্রযুক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার প্রায়ই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা সীমিত হওয়ায় পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বাইরের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সরকার একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা কিনলেও সেটি কীভাবে উন্নত করতে হবে বা ভবিষ্যতে কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, সেই সক্ষমতা নিজেদের মধ্যে তৈরি করতে পারে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পগুলো ব্যয়বহুল ও পরিচালনায় জটিল হয়ে ওঠে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির বড় বাধা

Bangladeshi company's biometric software being used in Indian national  project | The Business Standard

সমস্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশাসনিক সংস্কৃতি। সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা, সর্বনিম্ন দরদাতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ব্যর্থতার তুলনায় নিয়ম মেনে চলাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে উদ্ভাবনী উদ্যোগ কমে যায়।

ফলে কোনো কর্মকর্তা ভালো ফল আনতে ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হন না। আবার দুর্বল ফলাফলের ক্ষেত্রেও অনেক সময় বড় ধরনের জবাবদিহির পরিবর্তে কেবল দপ্তর বদলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আধারের সাফল্য থেকে শিক্ষা

ভারতের জাতীয় বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবস্থা আধারকে দেশের অন্যতম সফল ডিজিটাল প্রকল্প হিসেবে ধরা হয়। এই প্রকল্পের সাফল্যের পেছনে প্রযুক্তিগত দক্ষ নেতৃত্ব, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এবং যোগ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে শক্তিশালী দল গঠনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের সরকারি ডিজিটাল সেবায় একই ধরনের নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ভারতের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, উন্নত প্রযুক্তি বা দক্ষ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান থাকলেই কার্যকর সরকারি ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং এমন প্রশাসনিক সংস্কৃতি, যেখানে নতুন চিন্তা ও কার্যকর সিদ্ধান্তকে উৎসাহ দেওয়া হয়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে?

বাংলাদেশ নয়, ভারতের সরকারি ওয়েবসাইট কেন এখনো ব্যবহারকারীদের ভোগান্তির কারণ?

১১:১৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ডিজিটাল সেবায় বিশ্বজুড়ে ভারতের সাফল্যের কথা প্রায়ই আলোচনায় আসে। তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি, বড় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এবং দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতির কারণে দেশটি প্রযুক্তি খাতে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভারতের অনেক সরকারি ওয়েবসাইট এখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য জটিল, ধীরগতির এবং বিভ্রান্তিকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

বিশেষ করে ভিসা আবেদন, কর জমা, ভোটার নিবন্ধন কিংবা রেলওয়ের টিকিট কাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় ব্যবহারকারীরা প্রায়ই নানা প্রযুক্তিগত বাধার মুখে পড়েন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা একটি দেশে সরকারি ওয়েবসাইটের মান কেন এত পিছিয়ে?

ডিজিটাল সেবার বদলে বাড়ছে ভোগান্তি

অনেক সরকারি ওয়েবসাইটে অপ্রয়োজনীয় বার্তা, চলমান লেখা, ঝলমলে গ্রাফিক্স, ভাঙা সংযোগ, পুরোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জটিল আবেদন প্রক্রিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও নাম লেখার ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাজকে আরও কঠিন করে তোলে।

শুধু সামনের অংশ নয়, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর দুর্বলতাও উদ্বেগের কারণ। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার অনলাইন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।

Network Vulnerabilities 2025: Risks, Trends & Defense

সমস্যার মূল কোথায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কাগজভিত্তিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রেখে শুধু সেটিকে অনলাইনে স্থানান্তরের প্রবণতা ছিল। ফলে ব্যবহারকারীর সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুনভাবে সেবা নকশা করার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি।

সরকারি ওয়েবসাইট তৈরির নীতিমালায় ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার বিষয়টিও তুলনামূলকভাবে অনেক পরে গুরুত্ব পেতে শুরু করে। এ কারণে বহু সাইটে প্রযুক্তি থাকলেও ব্যবহার সহজ করার দিকটি উপেক্ষিত থেকে যায়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিনির্ভরতা

বড় প্রযুক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার প্রায়ই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা সীমিত হওয়ায় পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বাইরের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সরকার একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা কিনলেও সেটি কীভাবে উন্নত করতে হবে বা ভবিষ্যতে কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, সেই সক্ষমতা নিজেদের মধ্যে তৈরি করতে পারে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পগুলো ব্যয়বহুল ও পরিচালনায় জটিল হয়ে ওঠে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির বড় বাধা

Bangladeshi company's biometric software being used in Indian national  project | The Business Standard

সমস্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশাসনিক সংস্কৃতি। সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা, সর্বনিম্ন দরদাতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ব্যর্থতার তুলনায় নিয়ম মেনে চলাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে উদ্ভাবনী উদ্যোগ কমে যায়।

ফলে কোনো কর্মকর্তা ভালো ফল আনতে ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হন না। আবার দুর্বল ফলাফলের ক্ষেত্রেও অনেক সময় বড় ধরনের জবাবদিহির পরিবর্তে কেবল দপ্তর বদলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আধারের সাফল্য থেকে শিক্ষা

ভারতের জাতীয় বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবস্থা আধারকে দেশের অন্যতম সফল ডিজিটাল প্রকল্প হিসেবে ধরা হয়। এই প্রকল্পের সাফল্যের পেছনে প্রযুক্তিগত দক্ষ নেতৃত্ব, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এবং যোগ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে শক্তিশালী দল গঠনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের সরকারি ডিজিটাল সেবায় একই ধরনের নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ভারতের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, উন্নত প্রযুক্তি বা দক্ষ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান থাকলেই কার্যকর সরকারি ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং এমন প্রশাসনিক সংস্কৃতি, যেখানে নতুন চিন্তা ও কার্যকর সিদ্ধান্তকে উৎসাহ দেওয়া হয়।