ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদার এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির অঙ্গীকার তুলে ধরতে তুরস্কের আঙ্কারায় আজ বড় পরিসরের অস্ত্র চুক্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটো। সম্মেলনের আগে এই ঘোষণাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন।
ন্যাটোর শীর্ষ পর্যায়ের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো দেখাতে চায় যে, তারা নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি করে নিতে প্রস্তুত এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বড় বিনিয়োগ করছে।
প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বড় অঙ্গীকার
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়াকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ যেমন বেড়েছে, তেমনি সদস্য দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চাপও এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ন্যাটোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় সদস্য দেশ ও কানাডার সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ৫৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এমন বৃদ্ধি সামরিক জোটটির ইতিহাসে অন্যতম বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্পকে ঘিরে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প আবারও ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এখনো অতিরিক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল এবং যৌথ দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না।
এ ছাড়া তিনি অতীতে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। ফলে এবারের সম্মেলনে তাঁর অবস্থান নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। যদিও ন্যাটো নেতারা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর ঐক্য আরও দৃঢ় হবে।
বড় অস্ত্র চুক্তির ঘোষণা
সম্মেলনের আগে যে অস্ত্র চুক্তিগুলোর ঘোষণা দেওয়া হবে, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে নেদারল্যান্ডস তিন বিলিয়ন ইউরোর বেশি মূল্যের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও চুক্তি ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বেলজিয়ামের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নৌবাহিনীর জাহাজসংক্রান্ত অংশীদারিত্বও রয়েছে।
এ ছাড়া ন্যাটো তাদের দীর্ঘদিনের নজরদারি বিমানের বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নতুন প্রজন্মের আকাশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনাও প্রকাশ করতে পারে। এতে জোটটির গোয়েন্দা ও নজরদারি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপের নিরাপত্তায় নতুন বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, আঙ্কারার এই সম্মেলন শুধু নতুন অস্ত্র চুক্তির জন্য নয়, বরং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কৌশল, সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় দেশগুলো চাইছে, বাড়তি প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জোটের প্রতি তাদের অঙ্গীকারও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















