পূর্ব চীনের শানদং প্রদেশের দেজৌ শহরের গ্রামগুলোতে কৃষির চেহারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আধুনিক কৃষিযন্ত্র, স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি, নির্ভুল বীজ বপন এবং সমন্বিত সেচ ও সার ব্যবস্থার মাধ্যমে সেখানে গড়ে উঠছে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির নতুন মডেল। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
বদলে গেছে কৃষিকাজের চিত্র
প্রায় তিন দশক ধরে কৃষিযন্ত্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ৫০ বছর বয়সী সং ঝিজিয়ে বলেন, একসময় খোলা ট্রাক্টরে কাজ করতে গিয়ে দিন শেষে কাদা ও ধুলায় ভরে যেত শরীর। এখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক যন্ত্রে কাজ অনেক সহজ, আরামদায়ক এবং দ্রুত হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ মু জমির গম কাটতে পারলেও উন্নত যন্ত্র ব্যবহারের ফলে এখন প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৫০ মু জমির ফসল কাটা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সময়, শ্রম এবং ব্যয়—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হচ্ছে।

গম কাটার পরই শুরু ভুট্টা চাষ
গ্রীষ্মকালীন গম সংগ্রহ শেষ হওয়ার পরপরই দেজৌজুড়ে ভুট্টা বপনের কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত মৌসুমের মধ্যেই দ্রুত এই কাজ শেষ করতে আধুনিক বীজ বপন যন্ত্র ব্যবহার করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষি প্রযুক্তিবিদদের মতে, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নির্ভুল বপনযন্ত্র ব্যবহারের ফলে প্রতি মু জমিতে গাছের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৫০০-তে উন্নীত হয়েছে। এতে ফসলের সম্ভাব্য উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে নজরদারি
দেজৌর অনেক কৃষিযন্ত্রে এখন স্যাটেলাইটভিত্তিক বুদ্ধিমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জমি চাষের গভীরতা, বীজ বপনের নির্ভুলতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
এতে কৃষকেরা কাজের মান উন্নত করার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারছেন।

সেচ ও সার ব্যবস্থায় এসেছে বড় পরিবর্তন
ভুট্টা রোপণের পর মাঠ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে সমন্বিত সেচ ও সার প্রয়োগ ব্যবস্থা। আগে এসব কাজ করতে অনেক শ্রমিক এবং দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো। এখন স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে একই কাজ অল্প সময়েই সম্পন্ন করা যাচ্ছে।
এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শ্রম ব্যয় কমছে, পানি ও সারের ব্যবহার আরও দক্ষ হচ্ছে এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
খাদ্য নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ
দেজৌ চীনের অন্যতম প্রধান শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চল। প্রতিবছর শহরটি ৭৫০ কোটির বেশি কেজি শস্য উৎপাদন করে, যা দেশের মোট উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ।
হাজার বছরের কৃষি ঐতিহ্য বহনকারী এই অঞ্চলে এখন প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকে ভবিষ্যতের প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে দেজৌ ধীরে ধীরে স্মার্ট কৃষির একটি সফল উদাহরণে পরিণত হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় প্রশাসন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















