০৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ন্যাটোর নজর এখন সুইডিশ প্রযুক্তিতে, ৪৫০ কোটি ডলারে কিনছে ১০টি আধুনিক আকাশ নজরদারি বিমান চট্টগ্রামে ৪২ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে, নতুন বাজারে গতি বাড়িয়েও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ বাংলাদেশসহ নির্বাচিত দেশে সৌদির ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু, ভ্রমণ বুকিংয়ের সঙ্গেই মিলবে ভিসা পুলিশের হাইওয়ে শাখায় নতুন নেতৃত্ব, প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ফারুক আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ভারতীয় গ্যাং নেতা, কানাডায় শিখ নেতাকে হত্যার নির্দেশের অভিযোগ মেসির জাদুতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তুঙ্গে, মার্কিন হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের পূর্বশত্রুতার জেরে মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, অস্ত্রসহ আটক একজন চীনের ভূমিধসে মৃত বেড়ে ২১, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বটই কি কিনবে আপনার আসবাব? বদলে যাচ্ছে অনলাইন কেনাকাটার ভবিষ্যৎ

অনলাইন কেনাকাটার জগতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী এখন শুধু পণ্য খুঁজে দেওয়া বা তুলনা করেই থেমে নেই, ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীর হয়ে পছন্দ করে সরাসরি কেনাকাটাও সম্পন্ন করতে পারে। এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে অনেক খুচরা বিক্রেতা নিজেদের প্রস্তুত করছে, যদিও এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মতভেদও রয়েছে।

নতুন যুগের প্রস্তুতিতে আসবাব নির্মাতা

যুক্তরাজ্যের অভিজাত আসবাব নির্মাতা কটসওল্ড কোম্পানি ইতোমধ্যেই এই পরিবর্তনের জন্য নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল সাজাতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে ডাকযোগে ক্যাটালগ ও শোরুমনির্ভর বিক্রি করলেও এখন তাদের অধিকাংশ বিক্রি অনলাইনে হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, গ্রাহক যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কেনাকাটা করতে চান, তাহলে সেই প্ল্যাটফর্মেও উপস্থিত থাকতে হবে। তাই তারা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য, উপকরণ, মাপ, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও অন্যান্য তথ্য আরও সমৃদ্ধভাবে প্রকাশ করছে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহজে সঠিক তথ্য ব্যবহার করতে পারে।

বদলে যাচ্ছে পণ্য খোঁজার ধরণ

More than a third of consumers in the U.S., U.K. and France use tools such as ChatGPT or Microsoft’s Copilot for product ideas or comparisons.

আগে অনলাইনে কোনো পণ্য খুঁজতে সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পণ্যের তুলনা, পরামর্শ ও বিশদ তথ্য সংগ্রহ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিই অনলাইন কেনাকাটার প্রথম প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে। ব্যবহারকারীর চাহিদা বুঝে বট নিজেই বিভিন্ন পণ্য বিশ্লেষণ করবে, তুলনা করবে এবং প্রয়োজনে কেনাকাটাও সম্পন্ন করবে।

গ্রাহকের আচরণেও আসছে পরিবর্তন

প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আসা ক্রেতারা সাধারণত বেশি তথ্য জেনে এবং গবেষণা করে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তাদের কেনার সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি।

তবে বর্তমানে এই ধরনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনও সীমিত। তারপরও খুচরা বিক্রেতারা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে এই প্রবণতা দ্রুত বাড়বে এবং এটি ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।

সব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একইভাবে কাজ করে না

বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মের কাজের ধরনও আলাদা। কোনোটি ছবি ও ত্রিমাত্রিক প্রদর্শনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়, আবার কোনোটি লিখিত তথ্য ও সংখ্যাগত বিশ্লেষণকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিজেদের পণ্যের তথ্য এমনভাবে সাজাচ্ছে, যাতে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহজেই তা বুঝতে এবং ব্যবহারকারীর কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

Outgoing Currys CEO Alex Baldock took his executive team to the U.S. this year on an

প্রতিযোগিতায় নতুন চ্যালেঞ্জ

ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অভিযোগ হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনও অনেক ক্ষেত্রে বড় ও পরিচিত ব্র্যান্ডকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য গ্রাহকের সামনে কম আসে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট চাহিদাভিত্তিক অনুসন্ধানের জন্য নিজেদের তথ্য আরও সমৃদ্ধ করছে। বিশেষ ধরনের নকশা, উৎপাদনস্থল, উপকরণ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি গ্যারান্টির মতো তথ্য তুলে ধরে তারা আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলতে চাইছে।

সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে

AI shows promise in the fight against fake news

এই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে নতুন ঝুঁকিও দেখা দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনুসন্ধানে কখনও কখনও আসল প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে ভুয়া ওয়েবসাইটও সামনে আসছে। এসব প্রতারণামূলক সাইটে অর্থ পরিশোধ করলেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক পণ্য পান না।

এ ছাড়া অনেক খুচরা বিক্রেতা আশঙ্কা করছেন, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই পুরো কেনাকাটার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে গ্রাহকের আচরণ সম্পর্কিত মূল্যবান তথ্য তাদের হাতে থাকবে না। আবার পণ্য ফেরত নেওয়া বা বিক্রয়োত্তর সেবার দায়ও ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হবে।

ভবিষ্যতের বাজার কোন পথে?

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটা এখনো শুরুর পর্যায়ে থাকলেও এটি ভবিষ্যতের খুচরা বাজারকে আমূল বদলে দিতে পারে। তবে প্রযুক্তি যেন গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়, বরং মানুষ যেভাবে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেই অভিজ্ঞতাকেই আরও সহজ ও কার্যকর করে তোলাই হবে সফলতার মূল চাবিকাঠি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যাটোর নজর এখন সুইডিশ প্রযুক্তিতে, ৪৫০ কোটি ডলারে কিনছে ১০টি আধুনিক আকাশ নজরদারি বিমান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বটই কি কিনবে আপনার আসবাব? বদলে যাচ্ছে অনলাইন কেনাকাটার ভবিষ্যৎ

০১:৫০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

অনলাইন কেনাকাটার জগতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী এখন শুধু পণ্য খুঁজে দেওয়া বা তুলনা করেই থেমে নেই, ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীর হয়ে পছন্দ করে সরাসরি কেনাকাটাও সম্পন্ন করতে পারে। এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে অনেক খুচরা বিক্রেতা নিজেদের প্রস্তুত করছে, যদিও এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মতভেদও রয়েছে।

নতুন যুগের প্রস্তুতিতে আসবাব নির্মাতা

যুক্তরাজ্যের অভিজাত আসবাব নির্মাতা কটসওল্ড কোম্পানি ইতোমধ্যেই এই পরিবর্তনের জন্য নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল সাজাতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে ডাকযোগে ক্যাটালগ ও শোরুমনির্ভর বিক্রি করলেও এখন তাদের অধিকাংশ বিক্রি অনলাইনে হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, গ্রাহক যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কেনাকাটা করতে চান, তাহলে সেই প্ল্যাটফর্মেও উপস্থিত থাকতে হবে। তাই তারা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য, উপকরণ, মাপ, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও অন্যান্য তথ্য আরও সমৃদ্ধভাবে প্রকাশ করছে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহজে সঠিক তথ্য ব্যবহার করতে পারে।

বদলে যাচ্ছে পণ্য খোঁজার ধরণ

More than a third of consumers in the U.S., U.K. and France use tools such as ChatGPT or Microsoft’s Copilot for product ideas or comparisons.

আগে অনলাইনে কোনো পণ্য খুঁজতে সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পণ্যের তুলনা, পরামর্শ ও বিশদ তথ্য সংগ্রহ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিই অনলাইন কেনাকাটার প্রথম প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে। ব্যবহারকারীর চাহিদা বুঝে বট নিজেই বিভিন্ন পণ্য বিশ্লেষণ করবে, তুলনা করবে এবং প্রয়োজনে কেনাকাটাও সম্পন্ন করবে।

গ্রাহকের আচরণেও আসছে পরিবর্তন

প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আসা ক্রেতারা সাধারণত বেশি তথ্য জেনে এবং গবেষণা করে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তাদের কেনার সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি।

তবে বর্তমানে এই ধরনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনও সীমিত। তারপরও খুচরা বিক্রেতারা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে এই প্রবণতা দ্রুত বাড়বে এবং এটি ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।

সব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একইভাবে কাজ করে না

বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মের কাজের ধরনও আলাদা। কোনোটি ছবি ও ত্রিমাত্রিক প্রদর্শনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়, আবার কোনোটি লিখিত তথ্য ও সংখ্যাগত বিশ্লেষণকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিজেদের পণ্যের তথ্য এমনভাবে সাজাচ্ছে, যাতে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহজেই তা বুঝতে এবং ব্যবহারকারীর কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

Outgoing Currys CEO Alex Baldock took his executive team to the U.S. this year on an

প্রতিযোগিতায় নতুন চ্যালেঞ্জ

ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অভিযোগ হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনও অনেক ক্ষেত্রে বড় ও পরিচিত ব্র্যান্ডকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য গ্রাহকের সামনে কম আসে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট চাহিদাভিত্তিক অনুসন্ধানের জন্য নিজেদের তথ্য আরও সমৃদ্ধ করছে। বিশেষ ধরনের নকশা, উৎপাদনস্থল, উপকরণ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি গ্যারান্টির মতো তথ্য তুলে ধরে তারা আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলতে চাইছে।

সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে

AI shows promise in the fight against fake news

এই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে নতুন ঝুঁকিও দেখা দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনুসন্ধানে কখনও কখনও আসল প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে ভুয়া ওয়েবসাইটও সামনে আসছে। এসব প্রতারণামূলক সাইটে অর্থ পরিশোধ করলেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক পণ্য পান না।

এ ছাড়া অনেক খুচরা বিক্রেতা আশঙ্কা করছেন, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই পুরো কেনাকাটার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে গ্রাহকের আচরণ সম্পর্কিত মূল্যবান তথ্য তাদের হাতে থাকবে না। আবার পণ্য ফেরত নেওয়া বা বিক্রয়োত্তর সেবার দায়ও ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হবে।

ভবিষ্যতের বাজার কোন পথে?

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটা এখনো শুরুর পর্যায়ে থাকলেও এটি ভবিষ্যতের খুচরা বাজারকে আমূল বদলে দিতে পারে। তবে প্রযুক্তি যেন গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়, বরং মানুষ যেভাবে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেই অভিজ্ঞতাকেই আরও সহজ ও কার্যকর করে তোলাই হবে সফলতার মূল চাবিকাঠি।