হলিউডের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। এই ছবিতে টেলেমাকাসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম হল্যান্ড। তার ভাষায়, এই চরিত্রটি শুধু আরেকটি অভিনয় নয়, বরং তার অভিনয়জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, পর্দায় একজন কিশোর বা তরুণ ছেলের চরিত্রে অভিনয়ের এটিই হয়তো তার শেষ সুযোগ।
পারিবারিক সম্পর্কের আবেগই গল্পের মূল শক্তি
চলচ্চিত্রটির গল্পে দেখা যায়, টেলেমাকাস ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে ফেলে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে ওডিসিউস বাড়ি ফিরতে পারেননি। ফলে বাবাকে নিয়ে তার ধারণা তৈরি হয়েছে কেবল গল্প আর কিংবদন্তির মাধ্যমে। সেই অনুপস্থিত বাবার সন্ধান এবং মাকে রক্ষা করার সংগ্রামই চরিত্রটির আবেগকে আরও গভীর করেছে।
ছবিতে টেলেমাকাসের মা পেনেলোপির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে। অন্যদিকে দেবী অ্যাথেনার চরিত্রে রয়েছেন জেন্ডায়া। টম হল্যান্ড জানান, জেন্ডায়ার এই ছবিতে যুক্ত হওয়ার খবরটি তিনি নিজেই তাকে জানিয়েছিলেন এবং সেই মুহূর্তটি তাদের জন্য ছিল বিশেষ আনন্দের।

তারকায় ভরা বিশাল আয়োজন
চলচ্চিত্রে ওডিসিউসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন। তিনি জানান, পরিচালক যখন প্রধান চরিত্রের প্রস্তাব দেন, তখন গল্প শোনার আগেই তিনি রাজি হয়ে যান। কারণ নির্মাতার প্রতি তার আস্থা ছিল সম্পূর্ণ।
অ্যান হ্যাথাওয়েও এই ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, প্রাচীন গ্রিসের একজন মায়ের জীবন ও বর্তমান সময়ের মাতৃত্বের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। সেই বাস্তবতাকে পর্দায় তুলে ধরার অভিজ্ঞতা ছিল তার কাছে একেবারেই ভিন্ন ধরনের।
পুরুষত্বের নতুন ব্যাখ্যা
টম হল্যান্ড মনে করেন, ছবিটি পুরুষত্ব নিয়ে প্রচলিত ধারণাকেও নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। তার মতে, একজন পুরুষের শক্তি বা পরিচয় একরকম নয়; এটি নানা রূপে প্রকাশ পেতে পারে। ছবির জন্য তিনি দীর্ঘদিন তলোয়ার চালানোর প্রশিক্ষণও নিয়েছেন, যা তার অভিনয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নোলানের সঙ্গে কাজের চাপ ও স্বপ্নপূরণ

বিশ্বখ্যাত নির্মাতার সঙ্গে প্রথমবার কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে টম হল্যান্ড বলেন, এমন সুযোগ পাওয়া যেমন স্বপ্নের, তেমনি এর সঙ্গে থাকে বড় দায়িত্বও। তিনি স্বীকার করেন, শুরুতে কিছুটা চাপ অনুভব করলেও পরে নিজের সেরাটা দেওয়ার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন।
পরিচালকও জানিয়েছেন, আগের সাফল্যের ভার মাথায় না রেখে প্রতিটি নতুন প্রকল্পকে নতুন করেই শুরু করার চেষ্টা করেন তিনি। দর্শকদের এমন কিছু উপহার দেওয়াই তার লক্ষ্য, যা তারা আগে দেখেননি।
বাস্তব লোকেশনেই বিশাল নির্মাণ
চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ এর নির্মাণশৈলী। বাস্তব জাহাজ, সমুদ্র, সৈকত এবং বিশাল ট্রোজান ঘোড়া ব্যবহার করে দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। পুরো ছবি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে দর্শক বড় পর্দায় এক অনন্য অভিজ্ঞতা পান।

নির্মাতার বিশ্বাস, বহু শতাব্দী পুরোনো এই কিংবদন্তিকে নতুন উপস্থাপনায় দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গল্পের আবেগ, প্রযুক্তি ও বাস্তব দৃশ্যায়নের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে, যা চলচ্চিত্রটিকে বছরের অন্যতম আলোচিত মুক্তির তালিকায় নিয়ে এসেছে।
দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে
মুক্তির আগেই ‘দ্য ওডিসি’ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শক্তিশালী অভিনয়, বিশাল আয়োজন এবং নতুন ব্যাখ্যায় উপস্থাপিত প্রাচীন কাহিনির কারণে ছবিটি নিয়ে দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রত্যাশাও অনেক বেড়েছে।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















