০৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
সংযোজন সময়ের নাটকীয় জয়ের পর বিতর্ক, আর্জেন্টিনাকে পক্ষপাতের অভিযোগ নাকচ করল ফিফা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পরিবার নিশ্চিহ্নের’ অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন সংঘাত, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা আঘাত হরমুজ ঘিরে যুদ্ধের নতুন মোড়: ইরানে ফের মার্কিন হামলা, উপসাগজে পাল্টা আঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা জোকোভিচের পাঁচ ঘণ্টার মহারণ, সেমিফাইনালে সিনারের মুখোমুখি বিশ্বকাপের ফাইনালে কি মঞ্চে উঠছেন জাস্টিন বিবার? গুঞ্জনে সরগরম ভক্তরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভ্রমণ পরিকল্পনা, এক সফরেই সাশ্রয় হতে পারে ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন অধ্যায়, আজই আসছে ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা মডেল সংঘাতের চাপেও বিশ্ব অর্থনীতি টিকে আছে, তবে প্রবৃদ্ধি কমছে: মূল্যস্ফীতির নতুন শঙ্কা প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ ১০-এ আমিরাত, ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড

সমুদ্রের গভীর অন্ধকারে প্রতি রাতে শুরু হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী অভিবাসন

প্রতিদিন রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর মহাসাগরে শুরু হয় এমন এক বিস্ময়কর যাত্রা, যা আকার ও সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাণী অভিবাসন হিসেবে বিবেচিত হয়। সমুদ্রের প্রায় ২০০ মিটার থেকে ১ হাজার মিটার গভীরতার মধ্যবর্তী অন্ধকারাচ্ছন্ন স্তর থেকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী খাবারের সন্ধানে পানির ওপরের দিকে উঠে আসে। ভোর হওয়ার আগেই তারা আবার গভীর সমুদ্রে ফিরে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই দৈনন্দিন যাত্রা শুধু সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য নয়, পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গভীর সমুদ্রের রহস্যময় স্তর

সমুদ্রের এই অঞ্চলকে ‘টোয়াইলাইট জোন’ বা গোধূলি অঞ্চল বলা হয়। এখানে সূর্যের আলো খুবই ক্ষীণ, আর এক হাজার মিটারের কাছাকাছি গেলে আলো পুরোপুরি মিলিয়ে যায়। চারপাশে তখন কেবল কিছু জীবের নিজস্ব জৈব আলোর ঝলকানি দেখা যায়। গবেষকদের ধারণা, বিশ্বের মাছের মোট জীবভরের প্রায় ৯৫ শতাংশই এই বিশাল অঞ্চলে বসবাস করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রথম এই রহস্যের মুখোমুখি হন। তারা ভেবেছিলেন সমুদ্রতল নড়াচড়া করছে। পরে জানা যায়, আসলে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণী প্রতিদিন ওপরে-নিচে চলাচল করছিল, যার কারণে সোনারের সংকেত প্রতিফলিত হচ্ছিল।

Dante Fenolio/ Science Photo Library Bioluminescent lanternfish account for 60% of all deep-sea fish and make up a huge proportion of the deep scattering layer (Credit: Dante Fenolio/ Science Photo Library)

কেন প্রতিদিন এই যাত্রা

এই অভিবাসনের মূল চালিকাশক্তি খাদ্য। ক্ষুদ্র প্রাণীরা রাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি উঠে আসে উদ্ভিদ প্ল্যাঙ্কটন খাওয়ার জন্য। দিনের আলো ফুটলে বড় শিকারিদের চোখ এড়াতে তারা আবার গভীর অন্ধকারে ফিরে যায়। সেখানে খাবার হজম করে এবং পরবর্তী রাতের অপেক্ষা করে। এই চক্র প্রতিদিন অব্যাহত থাকে।

জলবায়ু রক্ষায় নীরব অবদান

বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রাণীগুলো প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কার্বন সমুদ্রের গভীরে নিয়ে যায়। এর ফলে কার্বন দীর্ঘ সময়ের জন্য গভীর সমুদ্রে আটকে থাকে এবং বায়ুমণ্ডলে ফিরে যেতে পারে না। এই প্রক্রিয়া পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমাতে প্রাকৃতিকভাবে সহায়তা করে। একই সঙ্গে গভীর ও অগভীর পানির মধ্যে পুষ্টি উপাদান পরিবহনেও এই প্রাণীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

Dante Fenolio/ Science Photo Library Just 7cm (2.8in) long, Ram's horn squid migrate from depths of up to 1,000m (3,280ft) to the ocean surface every night (Credit: Dante Fenolio/ Science Photo Library)

বাড়ছে নতুন উদ্বেগ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের বরফ কমে যাওয়ায় সূর্যের আলো আগের তুলনায় আরও গভীরে পৌঁছাচ্ছে। এতে অনেক ক্ষুদ্র প্রাণী দীর্ঘ সময় গভীরে আটকে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি তাদের আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে গভীর সমুদ্রে নতুন মৎস্য আহরণের উদ্যোগও এই বাস্তুতন্ত্রের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গভীর সমুদ্রের এই প্রাণীজগত সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু অজানা। তাই এই অঞ্চলে বড় পরিসরের মাছ ধরা শুরু করার আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা এবং কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

সমুদ্রের অন্ধকার গভীরে প্রতিরাতে ঘটে যাওয়া এই বিশাল অভিবাসন শুধু প্রকৃতির এক বিস্ময়ই নয়, পৃথিবীর জলবায়ু, সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

Dante Fenolio/ Science Photo Library About the size of a pea, this baby sea toad is one of trillions of sea creatures to swim hundreds of metres everyday (Credit: Dante Fenolio/ Science Photo Library)

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সংযোজন সময়ের নাটকীয় জয়ের পর বিতর্ক, আর্জেন্টিনাকে পক্ষপাতের অভিযোগ নাকচ করল ফিফা

সমুদ্রের গভীর অন্ধকারে প্রতি রাতে শুরু হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী অভিবাসন

০১:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

প্রতিদিন রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর মহাসাগরে শুরু হয় এমন এক বিস্ময়কর যাত্রা, যা আকার ও সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাণী অভিবাসন হিসেবে বিবেচিত হয়। সমুদ্রের প্রায় ২০০ মিটার থেকে ১ হাজার মিটার গভীরতার মধ্যবর্তী অন্ধকারাচ্ছন্ন স্তর থেকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী খাবারের সন্ধানে পানির ওপরের দিকে উঠে আসে। ভোর হওয়ার আগেই তারা আবার গভীর সমুদ্রে ফিরে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই দৈনন্দিন যাত্রা শুধু সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য নয়, পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গভীর সমুদ্রের রহস্যময় স্তর

সমুদ্রের এই অঞ্চলকে ‘টোয়াইলাইট জোন’ বা গোধূলি অঞ্চল বলা হয়। এখানে সূর্যের আলো খুবই ক্ষীণ, আর এক হাজার মিটারের কাছাকাছি গেলে আলো পুরোপুরি মিলিয়ে যায়। চারপাশে তখন কেবল কিছু জীবের নিজস্ব জৈব আলোর ঝলকানি দেখা যায়। গবেষকদের ধারণা, বিশ্বের মাছের মোট জীবভরের প্রায় ৯৫ শতাংশই এই বিশাল অঞ্চলে বসবাস করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রথম এই রহস্যের মুখোমুখি হন। তারা ভেবেছিলেন সমুদ্রতল নড়াচড়া করছে। পরে জানা যায়, আসলে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণী প্রতিদিন ওপরে-নিচে চলাচল করছিল, যার কারণে সোনারের সংকেত প্রতিফলিত হচ্ছিল।

Dante Fenolio/ Science Photo Library Bioluminescent lanternfish account for 60% of all deep-sea fish and make up a huge proportion of the deep scattering layer (Credit: Dante Fenolio/ Science Photo Library)

কেন প্রতিদিন এই যাত্রা

এই অভিবাসনের মূল চালিকাশক্তি খাদ্য। ক্ষুদ্র প্রাণীরা রাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি উঠে আসে উদ্ভিদ প্ল্যাঙ্কটন খাওয়ার জন্য। দিনের আলো ফুটলে বড় শিকারিদের চোখ এড়াতে তারা আবার গভীর অন্ধকারে ফিরে যায়। সেখানে খাবার হজম করে এবং পরবর্তী রাতের অপেক্ষা করে। এই চক্র প্রতিদিন অব্যাহত থাকে।

জলবায়ু রক্ষায় নীরব অবদান

বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রাণীগুলো প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কার্বন সমুদ্রের গভীরে নিয়ে যায়। এর ফলে কার্বন দীর্ঘ সময়ের জন্য গভীর সমুদ্রে আটকে থাকে এবং বায়ুমণ্ডলে ফিরে যেতে পারে না। এই প্রক্রিয়া পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমাতে প্রাকৃতিকভাবে সহায়তা করে। একই সঙ্গে গভীর ও অগভীর পানির মধ্যে পুষ্টি উপাদান পরিবহনেও এই প্রাণীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

Dante Fenolio/ Science Photo Library Just 7cm (2.8in) long, Ram's horn squid migrate from depths of up to 1,000m (3,280ft) to the ocean surface every night (Credit: Dante Fenolio/ Science Photo Library)

বাড়ছে নতুন উদ্বেগ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের বরফ কমে যাওয়ায় সূর্যের আলো আগের তুলনায় আরও গভীরে পৌঁছাচ্ছে। এতে অনেক ক্ষুদ্র প্রাণী দীর্ঘ সময় গভীরে আটকে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি তাদের আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে গভীর সমুদ্রে নতুন মৎস্য আহরণের উদ্যোগও এই বাস্তুতন্ত্রের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গভীর সমুদ্রের এই প্রাণীজগত সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু অজানা। তাই এই অঞ্চলে বড় পরিসরের মাছ ধরা শুরু করার আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা এবং কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

সমুদ্রের অন্ধকার গভীরে প্রতিরাতে ঘটে যাওয়া এই বিশাল অভিবাসন শুধু প্রকৃতির এক বিস্ময়ই নয়, পৃথিবীর জলবায়ু, সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

Dante Fenolio/ Science Photo Library About the size of a pea, this baby sea toad is one of trillions of sea creatures to swim hundreds of metres everyday (Credit: Dante Fenolio/ Science Photo Library)