০৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
সংযোজন সময়ের নাটকীয় জয়ের পর বিতর্ক, আর্জেন্টিনাকে পক্ষপাতের অভিযোগ নাকচ করল ফিফা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পরিবার নিশ্চিহ্নের’ অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন সংঘাত, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা আঘাত হরমুজ ঘিরে যুদ্ধের নতুন মোড়: ইরানে ফের মার্কিন হামলা, উপসাগজে পাল্টা আঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা জোকোভিচের পাঁচ ঘণ্টার মহারণ, সেমিফাইনালে সিনারের মুখোমুখি বিশ্বকাপের ফাইনালে কি মঞ্চে উঠছেন জাস্টিন বিবার? গুঞ্জনে সরগরম ভক্তরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভ্রমণ পরিকল্পনা, এক সফরেই সাশ্রয় হতে পারে ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন অধ্যায়, আজই আসছে ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা মডেল সংঘাতের চাপেও বিশ্ব অর্থনীতি টিকে আছে, তবে প্রবৃদ্ধি কমছে: মূল্যস্ফীতির নতুন শঙ্কা প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ ১০-এ আমিরাত, ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড

চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন উদ্বেগ

প্রশান্ত মহাসাগরে স্বল্প নোটিশে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে চীন। এই পরীক্ষার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা, সামরিক ভারসাম্য এবং পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন দেশের নেতারা এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন, যদিও বেইজিং দাবি করেছে এটি নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ।

দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বড় পরীক্ষা

এটি গত দুই বছরের কম সময়ে চীনের প্রকাশ্যে স্বীকৃত দ্বিতীয় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল দেশটি, যা নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। সর্বশেষ পরীক্ষাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে চীন তার সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর পথে দ্রুত এগোচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিযোগ, পরীক্ষার আগে যথেষ্ট তথ্য বা সময় দিয়ে তাদের অবহিত করা হয়নি। এ কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

China's rare missile test will push wary Asia-pacific countries to close  ranks

চীনের ব্যাখ্যা কী

চীনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে প্রশিক্ষণমূলক অনুকরণী ওয়ারহেড বহনকারী কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং সেটি নির্ধারিত সমুদ্র এলাকায় সফলভাবে অবতরণ করেছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, এটি বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত অংশ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে পরিচালিত হয়নি। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই জানানো হয়েছিল এবং পুরো কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।

কেন বাড়ছে উদ্বেগ

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মূল উদ্বেগের বিষয় শুধু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, বরং চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে সীমিত তথ্য প্রকাশের প্রবণতা। এতে অন্যান্য দেশের পক্ষে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই প্রদর্শনের মাধ্যমে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, ভবিষ্যতে তাকে সমান কৌশলগত শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুতেও এটি শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে।

কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা

তাইওয়ানের স্বাধীনতা'র চক্রান্তের বিরুদ্ধে চীনের প্রতিরক্ষা মুখপাত্রের কঠোর  হুঁশিয়ারি

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন নিশ্চিত না করলেও সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে, যার পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে চীনের সাবমেরিন নিজস্ব উপকূলীয় জলসীমা ছাড়াই দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এতে দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

সময়ের তাৎপর্য নিয়ে বিতর্ক

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় নিয়েও নানা বিশ্লেষণ চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি অঞ্চলে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং চলমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা আলোচনার প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত বার্তা। আবার অন্যদের মতে, এ ধরনের সামরিক পরীক্ষা দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার সঙ্গে এর সময়কে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক হবে না।

তবে সামগ্রিকভাবে সর্বশেষ এই পরীক্ষা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা, সামরিক আধুনিকায়ন এবং পারমাণবিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সংযোজন সময়ের নাটকীয় জয়ের পর বিতর্ক, আর্জেন্টিনাকে পক্ষপাতের অভিযোগ নাকচ করল ফিফা

চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন উদ্বেগ

০১:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরে স্বল্প নোটিশে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে চীন। এই পরীক্ষার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা, সামরিক ভারসাম্য এবং পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন দেশের নেতারা এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন, যদিও বেইজিং দাবি করেছে এটি নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ।

দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বড় পরীক্ষা

এটি গত দুই বছরের কম সময়ে চীনের প্রকাশ্যে স্বীকৃত দ্বিতীয় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল দেশটি, যা নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। সর্বশেষ পরীক্ষাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে চীন তার সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর পথে দ্রুত এগোচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিযোগ, পরীক্ষার আগে যথেষ্ট তথ্য বা সময় দিয়ে তাদের অবহিত করা হয়নি। এ কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

China's rare missile test will push wary Asia-pacific countries to close  ranks

চীনের ব্যাখ্যা কী

চীনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে প্রশিক্ষণমূলক অনুকরণী ওয়ারহেড বহনকারী কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং সেটি নির্ধারিত সমুদ্র এলাকায় সফলভাবে অবতরণ করেছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, এটি বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত অংশ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে পরিচালিত হয়নি। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই জানানো হয়েছিল এবং পুরো কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।

কেন বাড়ছে উদ্বেগ

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মূল উদ্বেগের বিষয় শুধু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, বরং চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে সীমিত তথ্য প্রকাশের প্রবণতা। এতে অন্যান্য দেশের পক্ষে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই প্রদর্শনের মাধ্যমে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, ভবিষ্যতে তাকে সমান কৌশলগত শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুতেও এটি শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে।

কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা

তাইওয়ানের স্বাধীনতা'র চক্রান্তের বিরুদ্ধে চীনের প্রতিরক্ষা মুখপাত্রের কঠোর  হুঁশিয়ারি

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন নিশ্চিত না করলেও সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে, যার পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে চীনের সাবমেরিন নিজস্ব উপকূলীয় জলসীমা ছাড়াই দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এতে দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

সময়ের তাৎপর্য নিয়ে বিতর্ক

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় নিয়েও নানা বিশ্লেষণ চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি অঞ্চলে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং চলমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা আলোচনার প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত বার্তা। আবার অন্যদের মতে, এ ধরনের সামরিক পরীক্ষা দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার সঙ্গে এর সময়কে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক হবে না।

তবে সামগ্রিকভাবে সর্বশেষ এই পরীক্ষা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা, সামরিক আধুনিকায়ন এবং পারমাণবিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।