০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পরিবার নিশ্চিহ্নের’ অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন সংঘাত, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা আঘাত হরমুজ ঘিরে যুদ্ধের নতুন মোড়: ইরানে ফের মার্কিন হামলা, উপসাগজে পাল্টা আঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা জোকোভিচের পাঁচ ঘণ্টার মহারণ, সেমিফাইনালে সিনারের মুখোমুখি বিশ্বকাপের ফাইনালে কি মঞ্চে উঠছেন জাস্টিন বিবার? গুঞ্জনে সরগরম ভক্তরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভ্রমণ পরিকল্পনা, এক সফরেই সাশ্রয় হতে পারে ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন অধ্যায়, আজই আসছে ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা মডেল সংঘাতের চাপেও বিশ্ব অর্থনীতি টিকে আছে, তবে প্রবৃদ্ধি কমছে: মূল্যস্ফীতির নতুন শঙ্কা প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ ১০-এ আমিরাত, ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড সংঘাতের পর সুর নরম ট্রাম্পের, ন্যাটো বৈঠকে ‘ঐক্য ও ভালোবাসা’র বার্তা

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ার শঙ্কা

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে গিয়ে ইরান এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, যা চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনাকে নতুন করে সংকটে ফেলতে পারে।

শান্তি সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

গত ১৭ জুন দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল শান্তি আলোচনার ভিত্তি তৈরি করা এবং এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা। ওই সমঝোতার মূল বিষয় ছিল, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিনিময়ে ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সমঝোতা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তেহরানে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

ট্যাংকারে হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযান

Three tankers hit in Strait of Hormuz as fresh attacks threaten global oil  shipping route: Report - BusinessToday

মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার না করলেও এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র রাতভর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আরও ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।

অন্যদিকে, ইরান পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়ানোর হুমকি দেয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষই শান্তি সমঝোতা বাতিলের ইঙ্গিত দেয়, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ

ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ দিকের রুট ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে। এতে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নতুন ট্রানজিট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জাহাজ নিবন্ধন ও সম্ভাব্য ফি আদায়ের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তেহরান মনে করছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালিতে দৈনিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।

চাপ বাড়াচ্ছে আঞ্চলিক পরিস্থিতি

খামেনিকে হত্যা করলে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে হিজবুল্লাহ

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে পৃথক শান্তি উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যার অন্যতম লক্ষ্য হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের পথ তৈরি করা। হিজবুল্লাহকে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ ছাড়া ইরানের জন্য সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নিয়েও আলোচনা সংকুচিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ইরানের হিসাব

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে নিজেদের টিকে থাকার অভিজ্ঞতা ইরানের নেতৃত্বকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির যুদ্ধকালীন মৃত্যুর পর চলমান শোকানুষ্ঠানের মধ্যেও হামলার সময় নির্ধারণকে অনেকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থী মহল দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে। ফলে সমঝোতা স্মারক থেকে সরে আসার দাবিও জোরালো হয়েছে।

ইরানে ইসরাইলি গুপ্তচর আটক

তবে কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, উভয় পক্ষই সামরিক চাপ ও কঠোর বক্তব্যকে আলোচনার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, একে অপরের রাজনৈতিক অবস্থান ভুলভাবে মূল্যায়ন করলে পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

ইতিহাসও সেই সতর্কবার্তাই দিচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জিম্মি সংকট কিংবা ইরান-ইরাক যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো দেখায়, তেহরান অতীতেও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের আশায় দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিতে পিছপা হয়নি।

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। শান্তি সমঝোতা টিকবে নাকি নতুন সংঘাত শুরু হবে, তা এখন দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পরিবার নিশ্চিহ্নের’ অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ার শঙ্কা

০২:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে গিয়ে ইরান এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, যা চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনাকে নতুন করে সংকটে ফেলতে পারে।

শান্তি সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

গত ১৭ জুন দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল শান্তি আলোচনার ভিত্তি তৈরি করা এবং এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা। ওই সমঝোতার মূল বিষয় ছিল, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিনিময়ে ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সমঝোতা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তেহরানে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

ট্যাংকারে হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযান

Three tankers hit in Strait of Hormuz as fresh attacks threaten global oil  shipping route: Report - BusinessToday

মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার না করলেও এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র রাতভর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আরও ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।

অন্যদিকে, ইরান পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়ানোর হুমকি দেয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষই শান্তি সমঝোতা বাতিলের ইঙ্গিত দেয়, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ

ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ দিকের রুট ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে। এতে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নতুন ট্রানজিট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জাহাজ নিবন্ধন ও সম্ভাব্য ফি আদায়ের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তেহরান মনে করছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালিতে দৈনিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।

চাপ বাড়াচ্ছে আঞ্চলিক পরিস্থিতি

খামেনিকে হত্যা করলে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে হিজবুল্লাহ

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে পৃথক শান্তি উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যার অন্যতম লক্ষ্য হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের পথ তৈরি করা। হিজবুল্লাহকে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ ছাড়া ইরানের জন্য সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নিয়েও আলোচনা সংকুচিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ইরানের হিসাব

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে নিজেদের টিকে থাকার অভিজ্ঞতা ইরানের নেতৃত্বকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির যুদ্ধকালীন মৃত্যুর পর চলমান শোকানুষ্ঠানের মধ্যেও হামলার সময় নির্ধারণকে অনেকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থী মহল দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে। ফলে সমঝোতা স্মারক থেকে সরে আসার দাবিও জোরালো হয়েছে।

ইরানে ইসরাইলি গুপ্তচর আটক

তবে কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, উভয় পক্ষই সামরিক চাপ ও কঠোর বক্তব্যকে আলোচনার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, একে অপরের রাজনৈতিক অবস্থান ভুলভাবে মূল্যায়ন করলে পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

ইতিহাসও সেই সতর্কবার্তাই দিচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জিম্মি সংকট কিংবা ইরান-ইরাক যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো দেখায়, তেহরান অতীতেও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের আশায় দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিতে পিছপা হয়নি।

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। শান্তি সমঝোতা টিকবে নাকি নতুন সংঘাত শুরু হবে, তা এখন দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।