০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আফ্রিকায় ফিরছে শিকড়ের টান: কেন ঘানা-বেনিন-গিনি ডাকছে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন তারকাদের ভুলে গ্রাহকের হাতে বিপুল বিটকয়েন, দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের চাঞ্চল্যকর বিপর্যয় সুইজারল্যান্ডের মধ্যযুগীয় বিস্ময়কর গ্রন্থাগার, শতাব্দী পেরিয়ে জ্ঞানের অমূল্য ভাণ্ডার ডোপামিন নিয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি: সুখ নয়, অস্থিরতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার শক্তি শরীরচর্চার সেরা সময় কোনটি? সকাল নাকি সন্ধ্যা—বিজ্ঞান যা বলছে উচ্চশিক্ষিতদের ৪০% জামায়াত, ৩০% বিএনপিমুখী: সোচ্চারের জরিপে ভোটার প্রবণতার নতুন চিত্র ঐতিহাসিক দেহ বিদ্যার শিল্পের অন্ধকার সত্য উন্মোচন স্বপ্নের মঞ্চে অন্ধকার অভিযোগ: কে-পপ তারকা হওয়ার আশায় প্রতারণা ও হয়রানির গল্প দুই মিলিয়ন বইয়ের স্বপ্নগাথা,কর্ণাটকের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকের গড়া আলোর গ্রন্থ ভুবন অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের লড়াইয়ে মুখ্য নারী জুলি ইনম্যান গ্রান্ট

জীবন আমার বোন (পর্ব-১৬)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪
  • 77

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

‘অত-ই যখন বোঝো তখন ঘটা ক’রে এতো বাজিয়ে দেখার কি আছে! তোমার চোখ তো আর চোখ নয়, এক্স-রে মেশিন, মগজ এস্তেক দেখতে পাও।’

‘তোমার ওই কূটকচালে ভাবনা-চিন্তাগুলোকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করো, তাতে তোমার নিজেরই উপকার হবে, জীবনে আনন্দের দাম নিছক কম নয়। নিজের সম্পর্কে মনের ভিতর কোনো গ্লানি পুষে রাখতে নেই, তুমি মূর্খ হ’লে এসব কথা তুলতাম না। নিজেকে, নিজের চিন্তা- ভাবনাকে, নিজের অভিরুচিকে কারা বোকার মতো ছোট ক’রে দেখতে অভ্যস্ত তা জানো? যারা অগোচরে নিজের সর্বনাশ চায়–‘

‘থট রিডিং-এ মাস্টার হ’য়ে উঠেছো দেখছি। থামলে কেন, চালিয়ে যাও’

‘সব কথায় বাগড়া মারো কেন?’

‘তুমি যখন এক নিঃশ্বাসে কথা বলতে থাকো’ খোকা নরোম ক’রে বললে, ‘তখন অদ্ভুত দেখায় তোমাকে, তোমার ভিতর থেকে তখন অন্য কেউ কথা বলে। এরপর থেকে গভীর মনোযোগ দিয়ে স্টাডি করতে হবে তোমাকে। এখানে একটা কথা আছে, আমি রাক্ষস-খোক্ষস নই, আমার হার্ট একটা চড়ুইপাখির চেয়েও হালকা, পালকের চেয়েও পলকা, এত বেশি ক’রে সত্যের ব্যবচ্ছেদ না করাই ভালো, আমার ভিতর কেঁপে ওঠে, ট’লে যায়’ ‘

তোমার কাছে বোধহয় সিগ্রেট নেই, আনিয়ে দেবো?’

‘সিগ্রেট আছে।’

‘আছে তো টানছো না কেন?’

‘দরকার মনে করিনি এতক্ষণ!’ কথাটা শেষ ক’রেই যন্ত্রচালিতের মতো সিগ্রেট ধরায় খোকা। ফুল স্পীডে পাখা চলছিলো ব’লে তেরোটা কাঠি খরচ হ’লো দেশলাইয়ের।

কিছুক্ষণ বিরতির পর আবার শুরু করলে নীলাভাবী, ‘তোমার সঙ্গে আমার কিসের সম্পর্ক, আর কেনই বা তা, খুলে বলতে হবে আজ তোমাকে। তোমার মাথার ভিতরে বহুৎ আবর্জনা জ’মে আছে, সাফ করা দরকার–‘

বাধা দিয়ে খোকা বললে, ‘বুঝেছি, আজ শালার গলা পানিতে না চুবিয়ে তুমি ছাড়বে না, রয়ে রয়ে স্রেফ প্যাঁচের ভিতরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যাচ্ছেতাই! তোমার যা খুশি অনর্গল ব’কে যেতে থাকো, আমার আপত্তি নেই, কিন্তু কোনো জবাব পাবে না।’

জনপ্রিয় সংবাদ

আফ্রিকায় ফিরছে শিকড়ের টান: কেন ঘানা-বেনিন-গিনি ডাকছে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন তারকাদের

জীবন আমার বোন (পর্ব-১৬)

১১:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

‘অত-ই যখন বোঝো তখন ঘটা ক’রে এতো বাজিয়ে দেখার কি আছে! তোমার চোখ তো আর চোখ নয়, এক্স-রে মেশিন, মগজ এস্তেক দেখতে পাও।’

‘তোমার ওই কূটকচালে ভাবনা-চিন্তাগুলোকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করো, তাতে তোমার নিজেরই উপকার হবে, জীবনে আনন্দের দাম নিছক কম নয়। নিজের সম্পর্কে মনের ভিতর কোনো গ্লানি পুষে রাখতে নেই, তুমি মূর্খ হ’লে এসব কথা তুলতাম না। নিজেকে, নিজের চিন্তা- ভাবনাকে, নিজের অভিরুচিকে কারা বোকার মতো ছোট ক’রে দেখতে অভ্যস্ত তা জানো? যারা অগোচরে নিজের সর্বনাশ চায়–‘

‘থট রিডিং-এ মাস্টার হ’য়ে উঠেছো দেখছি। থামলে কেন, চালিয়ে যাও’

‘সব কথায় বাগড়া মারো কেন?’

‘তুমি যখন এক নিঃশ্বাসে কথা বলতে থাকো’ খোকা নরোম ক’রে বললে, ‘তখন অদ্ভুত দেখায় তোমাকে, তোমার ভিতর থেকে তখন অন্য কেউ কথা বলে। এরপর থেকে গভীর মনোযোগ দিয়ে স্টাডি করতে হবে তোমাকে। এখানে একটা কথা আছে, আমি রাক্ষস-খোক্ষস নই, আমার হার্ট একটা চড়ুইপাখির চেয়েও হালকা, পালকের চেয়েও পলকা, এত বেশি ক’রে সত্যের ব্যবচ্ছেদ না করাই ভালো, আমার ভিতর কেঁপে ওঠে, ট’লে যায়’ ‘

তোমার কাছে বোধহয় সিগ্রেট নেই, আনিয়ে দেবো?’

‘সিগ্রেট আছে।’

‘আছে তো টানছো না কেন?’

‘দরকার মনে করিনি এতক্ষণ!’ কথাটা শেষ ক’রেই যন্ত্রচালিতের মতো সিগ্রেট ধরায় খোকা। ফুল স্পীডে পাখা চলছিলো ব’লে তেরোটা কাঠি খরচ হ’লো দেশলাইয়ের।

কিছুক্ষণ বিরতির পর আবার শুরু করলে নীলাভাবী, ‘তোমার সঙ্গে আমার কিসের সম্পর্ক, আর কেনই বা তা, খুলে বলতে হবে আজ তোমাকে। তোমার মাথার ভিতরে বহুৎ আবর্জনা জ’মে আছে, সাফ করা দরকার–‘

বাধা দিয়ে খোকা বললে, ‘বুঝেছি, আজ শালার গলা পানিতে না চুবিয়ে তুমি ছাড়বে না, রয়ে রয়ে স্রেফ প্যাঁচের ভিতরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যাচ্ছেতাই! তোমার যা খুশি অনর্গল ব’কে যেতে থাকো, আমার আপত্তি নেই, কিন্তু কোনো জবাব পাবে না।’