হংকংয়ে খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কর্মীদের জন্য কাজের দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চালুর প্রস্তাব এসেছে। শ্রম ও কল্যাণ ব্যুরোর প্রস্তাব অনুযায়ী, কাজ করতে গিয়ে আহত বা নিহত হলে তাঁরা আইনি ক্ষতিপূরণ পাবেন। অসুস্থতাজনিত ছুটি, চিকিৎসা ব্যয় এবং স্থায়ী অক্ষমতার অর্থও এর মধ্যে থাকবে। মৃত্যুর ক্ষেত্রে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, চিকিৎসা উপস্থিতি ও মৃত্যু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। হংকংয়ের আইনসভায় ১৭ জুলাই প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্ল্যাটফর্ম কর্মী সুরক্ষা শুধু প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছা বিমার ওপর নির্ভর করবে না। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সরকারি নথির ভিত্তিতে প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে।
হংকংয়ে গত এক বছরে প্রায় ১২ হাজার ৯০০ জন খাবার ও পণ্য সরবরাহের প্ল্যাটফর্মে কাজ করেছেন। সরকারি জরিপে তাঁদের ৫৩ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। এক-চতুর্থাংশ সপ্তাহে ৪৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করেছেন। ৬৫ শতাংশ বলেছেন, প্ল্যাটফর্মের কাজ তাঁদের প্রধান আয়ের উৎস। তবু কর্মী না স্বাধীন ঠিকাদার, সেই পরিচয় অস্পষ্ট থাকায় প্রচলিত শ্রম সুরক্ষা সব সময় প্রযোজ্য হয় না। প্রস্তাবিত আইনে তাঁদের জন্য আলাদা আইনি অবস্থান তৈরির কথা রয়েছে। এতে কর্মচারী ও স্বনিয়োজিত ব্যক্তির মাঝখানে থাকা বাস্তবতাকে স্বীকার করা হবে। প্ল্যাটফর্ম কর্মী সুরক্ষা তাই শুধু ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নয়, কাজের সম্পর্ককে আইনে দেখার নতুন পদ্ধতি।
প্রস্তাবে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের ন্যূনতম পরিমাণ ৫ লাখ ১৪ হাজার ৫১০ হংকং ডলার ধরা হয়েছে। স্থায়ী পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিমাণ হবে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ২২০ ডলার। হিসাবের জন্য মাসিক আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৩৮ হাজার ৬৭০ ডলার প্রযোজ্য হবে। আংশিক অক্ষমতা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অস্ত্রোপচারে প্রয়োজনীয় উপকরণের খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই অঙ্কগুলো প্রচলিত কর্মচারী ক্ষতিপূরণ কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, একই দুর্ঘটনায় একজন কর্মচারী ও একজন সরবরাহকর্মীর পরিবারের মধ্যে বড় বৈষম্য না রাখা। তবে অর্থ কে জমা দেবে, প্ল্যাটফর্মগুলোর অংশ কত হবে এবং একাধিক অ্যাপে কাজের হিসাব কীভাবে মিলবে, সেগুলো আইন প্রণয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বাংলাদেশে অ্যাপভিত্তিক খাবার, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের কাজ দ্রুত দৃশ্যমান হয়েছে। কিন্তু রাস্তায় দুর্ঘটনা হলে চালক বা সরবরাহকর্মী প্রায়ই নিজের চিকিৎসা ও আয় বন্ধ থাকার ঝুঁকি বহন করেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সীমিত বিমা দিলেও সেটি সাধারণ শ্রম অধিকারের সমান নয়। কর্মীর অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকা, নির্দিষ্ট সরবরাহ গ্রহণ করা অথবা অ্যালগরিদমের সময়সীমা মানার সঙ্গে ঝুঁকি জড়িত। ফলে দুর্ঘটনাকে শুধু ব্যক্তিগত অসাবধানতা বলা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের জন্য হংকংয়ের প্ল্যাটফর্ম কর্মী সুরক্ষা মডেলটি একটি ব্যবহারযোগ্য তুলনা। নিবন্ধন, ক্ষুদ্র অবদান এবং প্ল্যাটফর্মের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ মিলিয়ে একটি তহবিল গড়া সম্ভব কি না, তা নীতিগত আলোচনায় আসতে পারে।
হংকংয়ের প্রস্তাব এখনো আইন হয়নি। আইনসভার আলোচনা, প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া এবং অর্থায়নের কাঠামো সামনে পরিষ্কার হবে। তবে ১২ হাজার ৯০০ কর্মীর মধ্যে ৬৫ শতাংশের প্রধান আয় যখন এই কাজ থেকে আসে, তখন তাঁদের সাময়িক সহায়তাপ্রাপ্ত ঠিকাদার বলা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। নতুন আইনি শ্রেণি সেই ব্যবধান কমাতে পারে। সামনে দেখার বিষয় হলো, ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা অ্যালগরিদমের চাপ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়সীমাও কমায় কি না। প্ল্যাটফর্ম কর্মী সুরক্ষা তখনই পূর্ণ হবে, যখন দুর্ঘটনার পর অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আগের কাজের পরিবেশও বদলাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















