যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। নতুন এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। কাতারসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ উত্তেজনা কমাতে দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও এখনো স্থায়ী সমঝোতার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার পারাপার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমেছে। কিছু জাহাজ নিরাপত্তার কারণে নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চলাচল করছে, আবার কয়েকটি নৌবিমা প্রতিষ্ঠান ওই পথে নতুন যাত্রার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে গেলে সাধারণত জাহাজভাড়া, বিমা ব্যয় এবং পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ে, ফলে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। কাতারের কয়েকটি এলএনজি জাহাজ এবং এশিয়াগামী কিছু ট্যাংকার প্রণালি অতিক্রম করলেও মোট চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি, আর বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যাত্রার সময়সূচি পরিবর্তন করছে।
পারস্য উপসাগরকে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ইরাক, ইরান ও কাতারের বড় অংশের জ্বালানি রপ্তানি এই পথের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং কাতারের প্রায় সব এলএনজি রপ্তানি এই প্রণালি দিয়ে যায়, ফলে এখানে সামান্য প্রতিবন্ধকতাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ইরান বলছে, প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনায় তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে, আর যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেই তাদের সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, খাদ্যপণ্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয়ও বাড়ে। এশিয়ার জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো বিশেষভাবে চাপে পড়ে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহকারীরা বাড়তি ঝুঁকিমূল্য যোগ করতে পারে, আর দীর্ঘ পথ ব্যবহার বা যাত্রা স্থগিত করার কারণে চালান পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। তাই বাজারের নজর এখন শুধু সংঘর্ষের ওপর নয়, হরমুজে ট্যাংকার চলাচল কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, তার দিকেও, আর এই একটি প্রশ্নের ওপরই নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কোন দিকে গড়ায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















