০৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
মিশরজুড়ে বিশ্বকাপ নায়কদের বীরের সংবর্ধনা, ইতিহাস গড়া দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাস আপত্তির মুখে ভারতের নাগরিকত্ব যাচাই অভিযান, দেশে ফিরল সোনালি বিবির পরিবার চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক উন্মোচন, কর্মক্ষেত্রের এআইয়ের দৌড়ে নতুন অধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি ধ্বংসস্তূপের খার্তুমে ফিরেছে ২০ লাখ মানুষ, সংকট বিদ্যুৎ-পানি ও কর্মসংস্থানে গাজায় বিশ্বকাপ দেখানোর আয়োজন করা ত্রাণকর্মী বিমান হামলায় নিহত স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ১২ ও নিখোঁজ ২৩ ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তার অঙ্গীকার ন্যাটোর, ক্ষুব্ধ রাশিয়া সিরাজগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর মিলল যুবকের মরদেহ, হত্যার আলামত বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা

ধ্বংসস্তূপের খার্তুমে ফিরেছে ২০ লাখ মানুষ, সংকট বিদ্যুৎ-পানি ও কর্মসংস্থানে

সুদানের সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর এক বছরের মধ্যে ২০ লাখের বেশি মানুষ শহরটিতে ফিরেছেন। তবে দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত এখনো স্পষ্ট। বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সংকটে ফিরে আসা মানুষদের নতুন করে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধা সামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে খার্তুম বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পালিয়ে যান। অনেকে দেশের অন্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন, অন্যরা মিসর, চাদ, দক্ষিণ সুদানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে চলে যান।

ফিরে আসা বহু পরিবার দেখছে, তাদের বাড়ি পুড়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা লুট হয়েছে। কোথাও দরজা-জানালা নেই, কোথাও পানির লাইন ভেঙে গেছে এবং অনেক এলাকায় এখনো নিয়মিত বিদ্যুৎ নেই। যেসব বাড়ি তুলনামূলক অক্ষত রয়েছে, সেগুলোও বসবাসের উপযোগী করতে অর্থ প্রয়োজন, আর অধিকাংশ পরিবার নিজেদের সঞ্চয় বা আত্মীয়দের সহায়তায় মেরামতের কাজ করছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ এবং যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে, যা সরিয়ে নেওয়ার কাজ ধীরগতিতে চলছে এবং কিছু এলাকায় শিশুসহ সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

খার্তুমের বিদ্যুৎব্যবস্থা এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। অনেক এলাকায় দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, কোথাও আবার টানা কয়েক দিন বিদ্যুৎ থাকে না। পানি সরবরাহের পাম্প, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ছোট ব্যবসা বিদ্যুতের অভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না, আর র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের ড্রোন হামলায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামো নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খার্তুম, ওমদুরমান ও বাহরির মধ্যে সেবা ফেরার গতিও এক নয়, কিছু এলাকায় বাজার ও সরকারি কার্যালয় খুলেছে, অন্য এলাকাগুলো এখনো প্রায় পরিত্যক্ত।

খার্তুমের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে দোকান খুলতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, তবে বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা এবং পণ্য সরবরাহের অভাবে অনেকেই কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না। সরকারি কর্মচারীদের অনেকে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না এবং স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসাকর্মীদের ফিরে আসাও ধীর। শহরে মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেবা ও কর্মসংস্থান একই গতিতে বাড়েনি, ফলে খাদ্য, বাড়িভাড়া এবং পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

মিসরে আশ্রয় নেওয়া অনেক সুদানি এখন দেশে ফিরছেন, কারণ সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কাজের সংকট এবং শরণার্থীদের ওপর প্রশাসনিক কড়াকড়ি তাঁদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। খার্তুম পুনর্দখল সুদানের সেনাবাহিনীর জন্য বড় সামরিক সাফল্য হলেও রাজধানীর স্বাভাবিক জীবন ফেরানো আরও কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর নিরাপত্তা, পানি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিত না হলে মিসর থেকে ফিরতে থাকা এই মানুষগুলোর দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিশরজুড়ে বিশ্বকাপ নায়কদের বীরের সংবর্ধনা, ইতিহাস গড়া দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাস

ধ্বংসস্তূপের খার্তুমে ফিরেছে ২০ লাখ মানুষ, সংকট বিদ্যুৎ-পানি ও কর্মসংস্থানে

০৯:১৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সুদানের সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর এক বছরের মধ্যে ২০ লাখের বেশি মানুষ শহরটিতে ফিরেছেন। তবে দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত এখনো স্পষ্ট। বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সংকটে ফিরে আসা মানুষদের নতুন করে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধা সামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে খার্তুম বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পালিয়ে যান। অনেকে দেশের অন্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন, অন্যরা মিসর, চাদ, দক্ষিণ সুদানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে চলে যান।

ফিরে আসা বহু পরিবার দেখছে, তাদের বাড়ি পুড়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা লুট হয়েছে। কোথাও দরজা-জানালা নেই, কোথাও পানির লাইন ভেঙে গেছে এবং অনেক এলাকায় এখনো নিয়মিত বিদ্যুৎ নেই। যেসব বাড়ি তুলনামূলক অক্ষত রয়েছে, সেগুলোও বসবাসের উপযোগী করতে অর্থ প্রয়োজন, আর অধিকাংশ পরিবার নিজেদের সঞ্চয় বা আত্মীয়দের সহায়তায় মেরামতের কাজ করছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ এবং যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে, যা সরিয়ে নেওয়ার কাজ ধীরগতিতে চলছে এবং কিছু এলাকায় শিশুসহ সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

খার্তুমের বিদ্যুৎব্যবস্থা এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। অনেক এলাকায় দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, কোথাও আবার টানা কয়েক দিন বিদ্যুৎ থাকে না। পানি সরবরাহের পাম্প, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ছোট ব্যবসা বিদ্যুতের অভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না, আর র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের ড্রোন হামলায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামো নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খার্তুম, ওমদুরমান ও বাহরির মধ্যে সেবা ফেরার গতিও এক নয়, কিছু এলাকায় বাজার ও সরকারি কার্যালয় খুলেছে, অন্য এলাকাগুলো এখনো প্রায় পরিত্যক্ত।

খার্তুমের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে দোকান খুলতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, তবে বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা এবং পণ্য সরবরাহের অভাবে অনেকেই কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না। সরকারি কর্মচারীদের অনেকে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না এবং স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসাকর্মীদের ফিরে আসাও ধীর। শহরে মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেবা ও কর্মসংস্থান একই গতিতে বাড়েনি, ফলে খাদ্য, বাড়িভাড়া এবং পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

মিসরে আশ্রয় নেওয়া অনেক সুদানি এখন দেশে ফিরছেন, কারণ সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কাজের সংকট এবং শরণার্থীদের ওপর প্রশাসনিক কড়াকড়ি তাঁদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। খার্তুম পুনর্দখল সুদানের সেনাবাহিনীর জন্য বড় সামরিক সাফল্য হলেও রাজধানীর স্বাভাবিক জীবন ফেরানো আরও কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর নিরাপত্তা, পানি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিত না হলে মিসর থেকে ফিরতে থাকা এই মানুষগুলোর দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।