বিশ্বকাপ থেকে শিরোপা নিয়ে ফিরতে না পারলেও ইতিহাস গড়া পারফরম্যান্সের জন্য জাতীয় ফুটবল দলকে বীরের মর্যাদায় বরণ করে নিয়েছে মিশর। জাতীয় পতাকা, দেশাত্মবোধক গান আর মিশরের ছেলেরা আমাদের গর্বিত করেছে লেখা ব্যানারে মুখর হয়ে ওঠে বিমানবন্দর ও শহরের বিভিন্ন সড়ক। হাজারো সমর্থকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দেশে ফেরে বিশ্বকাপে দেশের সেরা সাফল্য এনে দেওয়া ফুটবলাররা।
ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন অসংখ্য সমর্থক। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ বিমান থেকে নামতেই করতালি, স্লোগান আর উল্লাসে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ছবি হাতে নিয়ে অনেকেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এরপর খোলা ছাদের বাসে করে নতুন আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করে দলটি এবং রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাত নেড়ে ও স্লোগান দিয়ে ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে মিশর প্রথমবারের মতো আসরের ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় এবং ইতিহাসে প্রথমবার শেষ ষোলোয় ওঠে। গ্রুপ পর্বে তারা নিউজিল্যান্ডকে হারায় এবং পরে বত্রিশ দলের পর্বে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস লেখে। শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে দীর্ঘ সময় ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে টানা তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়। তবু দেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান হিসেবে এই সাফল্যকে উদযাপন করছে পুরো মিশর।
বিশ্বকাপ থেকে দল ফেরার আগেই দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং তার যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসানের চুক্তি নবায়ন করেছে। নতুন চুক্তির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হোসাম হাসানের অধীনে মিশরীয় ফুটবলে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে। তার নেতৃত্বে দল আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে পৌঁছায়, দীর্ঘ বিরতির পর আবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক ইতিবাচক ফল এনে দেয়।
দলের সংবর্ধনায় অনেক সমর্থক কোচ হোসাম হাসানের বড় বড় ছবি বহন করেন এবং বিশ্বকাপ চলাকালে তার বিভিন্ন অবস্থান ও বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েও নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও হেরে যাওয়ার সেই শেষ মুহূর্তের বিষাদ ছাপিয়ে সমর্থকরা এখন মনে রাখছেন কেবল প্রথমবার শেষ ষোলোয় ওঠার গর্বটুকুই, আর এই আত্মবিশ্বাসই হয়ে উঠেছে দেশের ফুটবলের নতুন আশার প্রতীক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















