০৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মুইজ্জুর তথ্য কমিশনার বাছাই: তথ্যের অধিকার কি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে ঝুঁকছে? লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে চেয়েছিলেন স্ত্রী, রাজি ছিলেন না স্বামী—শেষ পর্যন্ত কেন কেনটাকিতেই নতুন জীবন ব্রিটেনের রিজার্ভ বাহিনী কেন আজ অবহেলার প্রতীক আগামী ১০ বছরে সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে যেসব উচ্চ বেতনের চাকরি সন্তানের জন্ম উদযাপন করি, কিন্তু মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের খবর রাখি কি? দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় মিললেই ভারত সফর করবেন তারেক রহমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমন মৌসুমে বিএডিসির কর্মবিরতি, সার সরবরাহে বিঘ্নের শঙ্কা জাপানের বন্ডে ৩০ বছরের রেকর্ড, বিশ্বজুড়ে ঋণবাজারে ধস আরও গভীর ফ্ল্যাট ব্যালে জুতার দিন শেষ, শরৎজুড়ে তারকাদের পায়ে এবার হিল ট্রাম্পকে ‘না’ বলার সাহস দেখাতে হবে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে: সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান

গাজায় বিশ্বকাপ দেখানোর আয়োজন করা ত্রাণকর্মী বিমান হামলায় নিহত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করে পরিচিতি পেয়েছিলেন ফিলিস্তিনি ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি। গাজা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। সাবরা এলাকায় একটি ট্যাক্সিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে আল-ওয়াহিদিসহ চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুই শিশুও ছিল। ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের একজন সদস্য, তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কোনো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন নিহতদের কাউকে নিজেদের সদস্য হিসেবে দাবি করেনি।

আল-ওয়াহিদি মিসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ত্রাণ সংস্থার লজিস্টিক কার্যক্রমে কাজ করতেন এবং গাজায় খাদ্য, আশ্রয় উপকরণ ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করতেন। বিদ্যুতের সংকটের মধ্যে জেনারেটর ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে এসব আয়োজন করা হতো। মিসর, মরক্কো এবং অন্যান্য আরব দলের ম্যাচ ঘিরে শত শত মানুষ জমায়েত হতেন, আর দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও শোকের মধ্যে ফুটবল কিছু সময়ের জন্য স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি ফিরিয়ে আনত। তাঁর মৃত্যুর পর জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নেন, অনেকে ফিলিস্তিন ও মিসরের পতাকা বহন করেন।

গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে ত্রাণকর্মী, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলায় ত্রাণকর্মী নিহত হলে মাঠপর্যায়ে সহায়তা বিতরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় কর্মীদের ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক এলাকায় ত্রাণবাহী যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। ইসরায়েল সাধারণত দাবি করে, হামাস বেসামরিক এলাকা ব্যবহার করে এবং তাদের যোদ্ধারা সাধারণ মানুষের মধ্যে অবস্থান নেয়, আর ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, এই যুক্তি ব্যবহার করে বারবার বেসামরিক মানুষ ও মানবিক সহায়তাকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন।

আল-ওয়াহিদির মৃত্যুর সময় মিসরের রাজধানী কায়রোয় হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। মিসর দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতি, জিম্মি ও বন্দি বিনিময়, সীমান্ত খুলে দেওয়া এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, তবে এসব বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। আলোচনা চললেও গাজায় বিমান হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, ফলে মাঠের বাস্তবতা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে বড় ব্যবধান থেকে যাচ্ছে।

যুদ্ধের সংবাদ সাধারণত নিহতের সংখ্যা, সামরিক অভিযান এবং কূটনৈতিক বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে থাকে আলাদা জীবন, পরিবার ও সামাজিক ভূমিকা। আল-ওয়াহিদি একদিকে ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করতেন, অন্যদিকে যুদ্ধের মধ্যে মানুষকে সাময়িক আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। জেনারেটরের আলোয় ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে যে মানুষগুলো তাঁর আয়োজনে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতেন, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁদের কাছেই এখন সেই বড় পর্দাগুলো একজন মানুষের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থেকে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুইজ্জুর তথ্য কমিশনার বাছাই: তথ্যের অধিকার কি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে ঝুঁকছে?

গাজায় বিশ্বকাপ দেখানোর আয়োজন করা ত্রাণকর্মী বিমান হামলায় নিহত

০৯:০৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করে পরিচিতি পেয়েছিলেন ফিলিস্তিনি ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি। গাজা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। সাবরা এলাকায় একটি ট্যাক্সিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে আল-ওয়াহিদিসহ চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুই শিশুও ছিল। ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের একজন সদস্য, তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কোনো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন নিহতদের কাউকে নিজেদের সদস্য হিসেবে দাবি করেনি।

আল-ওয়াহিদি মিসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ত্রাণ সংস্থার লজিস্টিক কার্যক্রমে কাজ করতেন এবং গাজায় খাদ্য, আশ্রয় উপকরণ ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করতেন। বিদ্যুতের সংকটের মধ্যে জেনারেটর ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে এসব আয়োজন করা হতো। মিসর, মরক্কো এবং অন্যান্য আরব দলের ম্যাচ ঘিরে শত শত মানুষ জমায়েত হতেন, আর দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও শোকের মধ্যে ফুটবল কিছু সময়ের জন্য স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি ফিরিয়ে আনত। তাঁর মৃত্যুর পর জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নেন, অনেকে ফিলিস্তিন ও মিসরের পতাকা বহন করেন।

গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে ত্রাণকর্মী, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলায় ত্রাণকর্মী নিহত হলে মাঠপর্যায়ে সহায়তা বিতরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় কর্মীদের ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক এলাকায় ত্রাণবাহী যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। ইসরায়েল সাধারণত দাবি করে, হামাস বেসামরিক এলাকা ব্যবহার করে এবং তাদের যোদ্ধারা সাধারণ মানুষের মধ্যে অবস্থান নেয়, আর ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, এই যুক্তি ব্যবহার করে বারবার বেসামরিক মানুষ ও মানবিক সহায়তাকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন।

আল-ওয়াহিদির মৃত্যুর সময় মিসরের রাজধানী কায়রোয় হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। মিসর দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতি, জিম্মি ও বন্দি বিনিময়, সীমান্ত খুলে দেওয়া এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, তবে এসব বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। আলোচনা চললেও গাজায় বিমান হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, ফলে মাঠের বাস্তবতা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে বড় ব্যবধান থেকে যাচ্ছে।

যুদ্ধের সংবাদ সাধারণত নিহতের সংখ্যা, সামরিক অভিযান এবং কূটনৈতিক বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে থাকে আলাদা জীবন, পরিবার ও সামাজিক ভূমিকা। আল-ওয়াহিদি একদিকে ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করতেন, অন্যদিকে যুদ্ধের মধ্যে মানুষকে সাময়িক আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। জেনারেটরের আলোয় ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে যে মানুষগুলো তাঁর আয়োজনে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতেন, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁদের কাছেই এখন সেই বড় পর্দাগুলো একজন মানুষের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থেকে গেছে।