০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
মিশরজুড়ে বিশ্বকাপ নায়কদের বীরের সংবর্ধনা, ইতিহাস গড়া দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাস আপত্তির মুখে ভারতের নাগরিকত্ব যাচাই অভিযান, দেশে ফিরল সোনালি বিবির পরিবার চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক উন্মোচন, কর্মক্ষেত্রের এআইয়ের দৌড়ে নতুন অধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি ধ্বংসস্তূপের খার্তুমে ফিরেছে ২০ লাখ মানুষ, সংকট বিদ্যুৎ-পানি ও কর্মসংস্থানে গাজায় বিশ্বকাপ দেখানোর আয়োজন করা ত্রাণকর্মী বিমান হামলায় নিহত স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ১২ ও নিখোঁজ ২৩ ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তার অঙ্গীকার ন্যাটোর, ক্ষুব্ধ রাশিয়া সিরাজগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর মিলল যুবকের মরদেহ, হত্যার আলামত বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা

স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ১২ ও নিখোঁজ ২৩

দক্ষিণ স্পেনের আলমেরিয়া প্রদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৩ জন। তীব্র গরম, শুষ্ক গাছপালা এবং শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন অল্প সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক হিসাবে তিন হাজার ২০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি, কৃষিজমি ও বসতিপূর্ণ এলাকা আগুনে পুড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছিল, নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়ে জরুরি নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আগুন দ্রুত এগিয়ে আসায় অনেক বাসিন্দা গাড়ি নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন এবং কিছু সড়ক মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যায়। উদ্ধারকারীরা কয়েকটি পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছেন। কয়েকজন হেঁটে পালানোর চেষ্টা করেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন। কিছু মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, তা যাচাই করছে স্পেনের কর্তৃপক্ষ, কারণ আলমেরিয়ার ওই অঞ্চলটি পর্যটক এবং অবসরপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয়।

দাবানল কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কোম্পানি ওই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তকারীরা বিদ্যুৎলাইন, স্থানীয় অবকাঠামো, মানুষের কার্যকলাপ এবং প্রাকৃতিক কারণ সবকিছুই যাচাই করছেন, আর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আগুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। দাবানলের সময় প্রবল বাতাস থাকায় আগুনের গতিপথ বারবার পরিবর্তিত হয়, এতে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং কিছু এলাকায় আগুন নেভানোর পরও নতুন করে শিখা ছড়িয়ে পড়ে।

দাবানলের সময় স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালের কয়েকটি এলাকাতেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী শুষ্কতা এবং কম বৃষ্টিপাতের কারণে দক্ষিণ ইউরোপে দাবানলের মৌসুম আগের তুলনায় দীর্ঘ হচ্ছে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়ছে এবং আগুনের তীব্রতা শুধু বন নয়, বসতবাড়ি, পর্যটনকেন্দ্র, বিদ্যুৎলাইন ও সড়ক অবকাঠামোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

স্পেনের এই ঘটনায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা এবং নিরাপদ আশ্রয়ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ আগুনের সময় গাড়ি নিয়ে পালানো সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নয় এবং সড়ক অবরুদ্ধ হলে যানবাহনই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ বিমান, কর্মী এবং সরঞ্জাম প্রস্তুত রেখেছে। স্পেনের কর্তৃপক্ষ এখন নিখোঁজদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং আগুনের কারণ নির্ধারণে কাজ করছে, আর পুড়ে যাওয়া গাড়িগুলো থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিশরজুড়ে বিশ্বকাপ নায়কদের বীরের সংবর্ধনা, ইতিহাস গড়া দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাস

স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ১২ ও নিখোঁজ ২৩

০৯:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ স্পেনের আলমেরিয়া প্রদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৩ জন। তীব্র গরম, শুষ্ক গাছপালা এবং শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন অল্প সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক হিসাবে তিন হাজার ২০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি, কৃষিজমি ও বসতিপূর্ণ এলাকা আগুনে পুড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছিল, নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়ে জরুরি নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আগুন দ্রুত এগিয়ে আসায় অনেক বাসিন্দা গাড়ি নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন এবং কিছু সড়ক মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যায়। উদ্ধারকারীরা কয়েকটি পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছেন। কয়েকজন হেঁটে পালানোর চেষ্টা করেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন। কিছু মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, তা যাচাই করছে স্পেনের কর্তৃপক্ষ, কারণ আলমেরিয়ার ওই অঞ্চলটি পর্যটক এবং অবসরপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয়।

দাবানল কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কোম্পানি ওই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তকারীরা বিদ্যুৎলাইন, স্থানীয় অবকাঠামো, মানুষের কার্যকলাপ এবং প্রাকৃতিক কারণ সবকিছুই যাচাই করছেন, আর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আগুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। দাবানলের সময় প্রবল বাতাস থাকায় আগুনের গতিপথ বারবার পরিবর্তিত হয়, এতে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং কিছু এলাকায় আগুন নেভানোর পরও নতুন করে শিখা ছড়িয়ে পড়ে।

দাবানলের সময় স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালের কয়েকটি এলাকাতেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী শুষ্কতা এবং কম বৃষ্টিপাতের কারণে দক্ষিণ ইউরোপে দাবানলের মৌসুম আগের তুলনায় দীর্ঘ হচ্ছে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়ছে এবং আগুনের তীব্রতা শুধু বন নয়, বসতবাড়ি, পর্যটনকেন্দ্র, বিদ্যুৎলাইন ও সড়ক অবকাঠামোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

স্পেনের এই ঘটনায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা এবং নিরাপদ আশ্রয়ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ আগুনের সময় গাড়ি নিয়ে পালানো সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নয় এবং সড়ক অবরুদ্ধ হলে যানবাহনই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ বিমান, কর্মী এবং সরঞ্জাম প্রস্তুত রেখেছে। স্পেনের কর্তৃপক্ষ এখন নিখোঁজদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং আগুনের কারণ নির্ধারণে কাজ করছে, আর পুড়ে যাওয়া গাড়িগুলো থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।