কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার আরও সহজ করতে নতুন সেবা চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক উন্মোচন করেছে ওপেনএআই। নতুন এই সেবার মাধ্যমে প্রোগ্রামিং না জানলেও ব্যবহারকারীরা নথি, উপস্থাপনা এবং ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন উন্নত ভাষা মডেলও প্রকাশ করেছে, যা গতি, দক্ষতা এবং খরচের দিক থেকে আগের তুলনায় আরও কার্যকর বলে দাবি করা হয়েছে।
চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক মূলত অফিসভিত্তিক পেশাজীবীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এটি জনপ্রিয় চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ওপেনএআইয়ের কোডিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করেছে, যাতে ব্যবহারকারীরা জটিল প্রযুক্তিগত দক্ষতা ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। এর মাধ্যমে নথি তৈরি, উপস্থাপনা প্রস্তুত, ওয়েবসাইট নির্মাণসহ বিভিন্ন ধাপের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। সেবাটি পরিচালিত হবে ওপেনএআইয়ের সর্বাধুনিক ভাষা মডেলের মাধ্যমে, যার তিনটি ভিন্ন সংস্করণ বাজারে আনা হয়েছে যাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারী নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা নিতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন মডেলটি আগের তুলনায় দ্রুত কাজ করতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
নতুন এই সেবা উন্মোচনের মাধ্যমে পেশাদার এআই বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এমন স্বয়ংক্রিয় সহকারী তৈরির দিকে জোর দিচ্ছে, যা মানুষের কম নির্দেশনায় একাধিক ধাপের জটিল কাজ সম্পন্ন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোক্তা পর্যায়ের তুলনায় করপোরেট গ্রাহকদের বাজার এখন অনেক বেশি লাভজনক, ফলে এই খাতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই আগামী দিনে আরও বাড়বে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের নতুন প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বী সেবাগুলোর তুলনায় আরও সাশ্রয়ী এবং বিস্তৃত ব্যবহারকারীর জন্য সহজলভ্য হবে। বিশ্লেষকদেরও ধারণা, নতুন মডেলের ছোট সংস্করণগুলোও অনেক বড় মডেলের সমমানের কাজ করতে পারবে, তবে অনেক কম ব্যয়ে। এটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী, উভয়ের জন্যই এআইয়ের ব্যবহার আরও বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে।
চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক প্রথমে প্রো, এন্টারপ্রাইজ এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে প্লাস এবং ব্যবসায়িক গ্রাহকদের কাছেও এটি পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন এবং এমন একটি সুবিধাও চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি ও অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন। এভাবে প্রোগ্রামিং না জানা একজন সাধারণ কর্মীও নিজের হাতে বানানো ওয়েবসাইটের লিংক সহকর্মীদের কাছে পাঠাতে পারবেন, যা কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগের একটি নতুন উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















