সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব যত বাড়ছে, ততই কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশের গুরুত্ব বেড়ে যাচ্ছে। এমনটাই মনে করেন হলিউড অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজ। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে সন্তানদের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং বিচারহীনভাবে তাদের কথা শোনা এখন অভিভাবকদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি বলেন, আজকের কিশোররা এমন এক বাস্তবতার মধ্যে বেড়ে উঠছে, যেখানে অনলাইনের নানা বার্তা ও প্রভাব তাদের চিন্তাভাবনাকে সহজেই বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই ঘরই হতে হবে এমন একটি জায়গা, যেখানে তারা নিরাপদ বোধ করবে এবং যেকোনো বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারবে।
পেনেলোপে ক্রুজ জানান, নিজের কৈশোরের সময়টিও তাঁর জন্য সহজ ছিল না। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই সময় হাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসমৃদ্ধ স্মার্টফোন থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারত। তাঁর মতে, বর্তমানে ছেলেমেয়েরা অনলাইনে এমন নানা ধারণা ও বার্তার মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের ভুল পথে প্রভাবিত করতে পারে। এসব বিষয় শুধু শিশু-কিশোরদের নয়, অনেক প্রাপ্তবয়স্ককেও বিভ্রান্ত করে।
ক্রুজের ভাষায়, এখনকার সময়ে অভিভাবকদের আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রম করে সন্তানদের আস্থা অর্জন করতে হবে। এমন একটি পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে সন্তানরা নির্ভয়ে নিজেদের অনুভূতি, প্রশ্ন ও উদ্বেগ ভাগ করে নিতে পারে। তিনি বলেন, সন্তানদের কথা বিচার না করে মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিরাপদ যোগাযোগই তাদের মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
অভিনেত্রী জানান, তিনি ও তাঁর স্বামী সচেতনভাবেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে অফলাইনে বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করেন। সন্তানদের হাতে লিখতে উৎসাহ দেওয়া, বাইরে খেলাধুলা করা এবং একসঙ্গে বসে গল্প করার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে তাঁরা গুরুত্ব দেন। পেনেলোপে ক্রুজ দীর্ঘদিন ধরেই শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়ে কথা বলে আসছেন। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য অন্তত ষোলো বছর বয়সের আগে সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করাই ভালো।
শুধু পেনেলোপে ক্রুজ নন, অনেক পরিচিত ব্যক্তিও সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়মের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, শিশুদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক শৈশব নিশ্চিত করতে অনলাইন ব্যবহারে সচেতন সীমাবদ্ধতা প্রয়োজন। ক্রুজের যুক্তি হলো, বেড়ে ওঠার সময় শিশুদের মস্তিষ্ক তখনও পুরোপুরি বিকশিত হয় না, তাই এই বয়সেই তারা সবচেয়ে বেশি অনলাইন প্রভাবের শিকার হতে পারে, আর এই একটি কারণেই তিনি বারবার পরিবারের আস্থার সম্পর্ককে সবচেয়ে জরুরি ঢাল বলে বর্ণনা করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















