ব্রিটিশ রাজনীতিতে স্পষ্টভাষী ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন অ্যান উইডিকম্ব। রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থান, অকপট মন্তব্য এবং সংসদের বাইরে টেলিভিশন অঙ্গনেও সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি যুক্তরাজ্যে বহুল আলোচিত একটি নাম হয়ে ওঠেন।
রাজনীতির পাশাপাশি বিনোদন জগতেও অংশ নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নতুনভাবে পরিচিতি পান। তবে তাঁর পরিচয়ের কেন্দ্রে সব সময়ই ছিল দৃঢ় মতাদর্শ এবং বিতর্কিত বিষয়গুলোতে আপসহীন অবস্থান।
সামাজিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থান
অ্যান উইডিকম্ব সামাজিক ও নৈতিক নানা প্রশ্নে অত্যন্ত রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি গর্ভপাত, চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর অনুমতি এবং সমকামী অধিকার প্রশ্নে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পক্ষেও মত দেন।
সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করার উদ্যোগেরও তিনি কড়া সমালোচনা করেছিলেন। পরে এক মন্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন, ভবিষ্যতে বিজ্ঞান হয়তো সমকামী হওয়ার একটি ব্যাখ্যা বা সমাধান খুঁজে বের করতে পারে। সেই মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনা ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
রাজনীতিতে স্পষ্টভাষী পরিচয়
১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের অকপট বক্তব্যের জন্য পরিচিতি পান। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি নিজ দলের নেতাদের সমালোচনাতেও তিনি পিছপা হননি।
নিজের শারীরিক গঠন ও চেহারা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিদ্রূপের মুখে পড়লেও তিনি সেসব মন্তব্যকে গুরুত্ব দেননি। বরং আত্মবিদ্রূপের মাধ্যমে সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের পরিচয় দেন।
নারীবাদ নিয়ে ভিন্ন অবস্থান
সংসদে নারী সদস্যের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকা সময়েও তিনি নিজেকে নারীবাদী হিসেবে পরিচয় দিতেন না। বরং নারীবাদীদের সমালোচনা করে নানা মন্তব্য করেছিলেন।
পরে নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, নারী হওয়ার কারণে বড় কোনো বাধার মুখে তিনি পড়েননি। তাঁর ভাষায়, সংসদে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাবই ছিল সবচেয়ে বড় বাস্তব সমস্যা।
প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা
রাজনৈতিক মতাদর্শে রক্ষণশীল হলেও প্রাণী কল্যাণের বিষয়ে তাঁর অবস্থান ছিল আলাদা। প্রাণীপ্রেমী হিসেবে পরিচিত অ্যান উইডিকম্ব শিয়াল শিকার বৈধ রাখার বিরোধিতা করেছিলেন। সে সময় তাঁর এই অবস্থান নিজ দলের অনেক সদস্যের মতের সঙ্গে মিল ছিল না। তবু তিনি নিজের বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি।
রাজনৈতিক জীবনের নানা বিতর্ক, স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থানের কারণে অ্যান উইডিকম্ব ব্রিটিশ জনজীবনের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















