আইরল্যান্ডে বসবাসরত নিউইয়র্কের এক নারীর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, মামলার প্রধান সন্দেহভাজন দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ঘটনাটি আইরল্যান্ডের আশ্রয়প্রার্থী ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
পাসপোর্ট ফিরে পাওয়ার পরই দেশত্যাগ
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী আহমাদ আলসাকের আইরল্যান্ডে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন করেছিলেন। সে কারণে তার পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা ছিল। পরে তিনি সহায়ক সুরক্ষার মর্যাদা পাওয়ার পর তার পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, পাসপোর্ট ফিরে পাওয়ার পরই তিনি তুরস্কগামী বিমানে দেশ ছেড়ে যান। এরপরই কিলারনিতে ভাড়া করা বাসা থেকে ৪৩ বছর বয়সী জেমি কার্নির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কন্যার সামনে আসে মর্মান্তিক দৃশ্য
জানা গেছে, জেমি কার্নির ১৩ বছর বয়সী মেয়ে বাসার একটি কক্ষে কম্বলের নিচে মায়ের মরদেহ দেখতে পায়। প্রাথমিকভাবে মাথায় গুরুতর আঘাতের কথা সামনে এলেও পরে তদন্তে ধারণা করা হয়, শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে।
জেমি কার্নি ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য থেকে মেয়েকে নিয়ে আইরল্যান্ডে বসবাস শুরু করেছিলেন।
তদন্তে ডিএনএ নিয়ে জটিলতা
তদন্তকারীদের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হলো ডিএনএ প্রমাণ। কারণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং সেখানে অবস্থানও করতেন। ফলে ঘটনাস্থলে তার ডিএনএ পাওয়া গেলেও সেটিকে এককভাবে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, যদি তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত কেউ হতেন, তাহলে ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির ব্যাখ্যা দেওয়া অনেক বেশি কঠিন হতো। কিন্তু পূর্বপরিচিত হওয়ায় তদন্ত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তদন্ত অব্যাহত
আইরিশ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত কাউকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি এবং সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















