যুক্তরাজ্যজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি অবস্থান করছে। সপ্তাহান্তে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে আগামী সপ্তাহজুড়েও দেশের অনেক স্থানে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়ার এই ধারাবাহিক উষ্ণতা জনজীবনে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলেছে।
চলতি বছরে নতুন রেকর্ড
এ বছর এখন পর্যন্ত আট দিনে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হয়েছে, যা দেশটির জন্য নতুন বার্ষিক রেকর্ড। এর আগে ১৯৭৬ এবং ২০২০ সালে এমন উচ্চ তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা ছিল কম। শুক্রবারও ৩৪ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান তাপপ্রবাহে প্রতিদিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা না থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক গরম অব্যাহত থাকাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।

জুনেই দেখা গেছে নজিরবিহীন গরম
গত জুনে তাপমাত্রা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন রেকর্ড গড়ে। একটি এলাকায় সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়, যা জুন মাসের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।
একই সময়ে ওয়েলসে জুনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। উত্তর আয়ারল্যান্ডেও জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড স্পর্শ করে। স্কটল্যান্ডেও তাপমাত্রা ঐতিহাসিক রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
জুলাইয়েও কমছে না তাপের তীব্রতা
চলতি জুলাইয়ের তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সপ্তাহান্তে কিছুটা স্বস্তি মিললেও অনেক এলাকায় তাপমাত্রা এখনও তাপপ্রবাহ ঘোষণার নির্ধারিত সীমার ওপরে থাকবে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। ফলে আগামী সপ্তাহেও গরমের প্রভাব বজায় থাকতে পারে।
১৯৭৬ সালের সঙ্গে তুলনা
অনেকে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৭৬ সালের দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের তুলনা করছেন। সে সময় টানা ১৬ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। তবে এবার সেই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২০২২ সালে, যখন একটি এলাকায় ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়। সেই নজির এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ঘন ঘন তাপপ্রবাহ এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রা অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















