১০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
তরুণদের ক্ষোভে বদলাচ্ছে মোদির বিজেপির রাজনীতি বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানো: প্রশাসনিক সমাধান, নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরীক্ষা? ২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট

ইন্টারনেটে ভুয়া ‘পোর্টেবল এসি’র ছড়াছড়ি, ৯০ সেকেন্ডে ঘর ঠান্ডার দাবি আসলে কতটা সত্য?

গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ভিডিও প্ল্যাটফর্মে এমন সব ছোট আকারের পোর্টেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে মাত্র ৯০ সেকেন্ডে একটি ঘর ঠান্ডা করা সম্ভব। অনেক বিজ্ঞাপনে আবার বলা হচ্ছে, এসব যন্ত্র নাকি সাবেক মহাকাশ প্রকৌশলীদের নকশায় তৈরি। কিন্তু বাস্তবে এসব দাবির সঙ্গে পণ্যের কার্যকারিতার মিল খুবই কম বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপনের দাবি আর বাস্তবতার পার্থক্য

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এসব যন্ত্রের দাম সাধারণত তুলনামূলক বেশি রাখা হলেও পরীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো সাধারণ ছোট একটি পাখার বেশি কিছু নয়। বাইরে থেকে আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্র বলে মনে হলেও ভেতরে ব্যবহৃত হয়েছে খুবই সাধারণ উপকরণ। ফলে একটি ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে আনার যে দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তা সম্ভব হয় না।

অনেক বিজ্ঞাপনে এমনও বলা হচ্ছে, একটি ছোট যন্ত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বড় ঘর বা পুরো বাড়ি ঠান্ডা করতে পারে এবং খুব অল্প বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। কিন্তু এসব দাবি বাস্তবসম্মত নয় বলে সতর্ক করা হয়েছে।

Cool in 90 seconds' - the fake portable air conditioners sweeping the  internet

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন

এসব বিজ্ঞাপনের বড় একটি অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। তামার কুণ্ডলী, ধাতব যন্ত্রাংশ কিংবা জটিল প্রযুক্তির নকশা দেখিয়ে পণ্যকে অত্যাধুনিক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভুয়া গ্রাহক মতামত যোগ করে দেখানো হচ্ছে, যন্ত্রটি ব্যবহার করেই ঘরের তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কৌশল সাধারণ ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করার জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে।

কীভাবে বুঝবেন বিজ্ঞাপনটি বিভ্রান্তিকর?

ভোক্তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপনে যদি অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, গোপন প্রযুক্তি বা যুগান্তকারী আবিষ্কারের গল্প শোনানো হয়, ভাষাগত ভুলে ভরা লেখা থাকে কিংবা অতিরঞ্জিত গ্রাহক মতামত দেখা যায়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত।

An AI-generated advert showing a copper wire with the words "his invention cooled down a 37 square metre room by 17C in minutes"

কোনো পণ্য কেনার আগে বিক্রেতার পরিচয়, যোগাযোগের ঠিকানা এবং ব্যবসায়িক তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি স্বাধীন গ্রাহক পর্যালোচনা দেখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

কেন কার্যকর হয় না এসব যন্ত্র?

যেসব ছোট যন্ত্রে পানি ব্যবহার করে বাতাস কিছুটা শীতল করা হয়, সেগুলো শুষ্ক আবহাওয়ায় সীমিতভাবে কাজ করতে পারে। তবে আর্দ্র পরিবেশে এগুলোর কার্যকারিতা অনেক কমে যায়। এগুলো প্রচলিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মতো ঘরের তাপ বাইরে বের করে দেয় না। ফলে পুরো ঘরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে অনেক মানুষ বেশি দাম দিয়ে এমন পণ্য কিনছেন, যা তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। তাই অনলাইনে কোনো প্রযুক্তিপণ্য কেনার আগে বিজ্ঞাপনের চেয়ে বাস্তব তথ্য ও নির্ভরযোগ্য পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের ক্ষোভে বদলাচ্ছে মোদির বিজেপির রাজনীতি

ইন্টারনেটে ভুয়া ‘পোর্টেবল এসি’র ছড়াছড়ি, ৯০ সেকেন্ডে ঘর ঠান্ডার দাবি আসলে কতটা সত্য?

১১:২১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ভিডিও প্ল্যাটফর্মে এমন সব ছোট আকারের পোর্টেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে মাত্র ৯০ সেকেন্ডে একটি ঘর ঠান্ডা করা সম্ভব। অনেক বিজ্ঞাপনে আবার বলা হচ্ছে, এসব যন্ত্র নাকি সাবেক মহাকাশ প্রকৌশলীদের নকশায় তৈরি। কিন্তু বাস্তবে এসব দাবির সঙ্গে পণ্যের কার্যকারিতার মিল খুবই কম বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপনের দাবি আর বাস্তবতার পার্থক্য

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এসব যন্ত্রের দাম সাধারণত তুলনামূলক বেশি রাখা হলেও পরীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো সাধারণ ছোট একটি পাখার বেশি কিছু নয়। বাইরে থেকে আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্র বলে মনে হলেও ভেতরে ব্যবহৃত হয়েছে খুবই সাধারণ উপকরণ। ফলে একটি ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে আনার যে দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তা সম্ভব হয় না।

অনেক বিজ্ঞাপনে এমনও বলা হচ্ছে, একটি ছোট যন্ত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বড় ঘর বা পুরো বাড়ি ঠান্ডা করতে পারে এবং খুব অল্প বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। কিন্তু এসব দাবি বাস্তবসম্মত নয় বলে সতর্ক করা হয়েছে।

Cool in 90 seconds' - the fake portable air conditioners sweeping the  internet

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন

এসব বিজ্ঞাপনের বড় একটি অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। তামার কুণ্ডলী, ধাতব যন্ত্রাংশ কিংবা জটিল প্রযুক্তির নকশা দেখিয়ে পণ্যকে অত্যাধুনিক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভুয়া গ্রাহক মতামত যোগ করে দেখানো হচ্ছে, যন্ত্রটি ব্যবহার করেই ঘরের তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কৌশল সাধারণ ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করার জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে।

কীভাবে বুঝবেন বিজ্ঞাপনটি বিভ্রান্তিকর?

ভোক্তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপনে যদি অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, গোপন প্রযুক্তি বা যুগান্তকারী আবিষ্কারের গল্প শোনানো হয়, ভাষাগত ভুলে ভরা লেখা থাকে কিংবা অতিরঞ্জিত গ্রাহক মতামত দেখা যায়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত।

An AI-generated advert showing a copper wire with the words "his invention cooled down a 37 square metre room by 17C in minutes"

কোনো পণ্য কেনার আগে বিক্রেতার পরিচয়, যোগাযোগের ঠিকানা এবং ব্যবসায়িক তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি স্বাধীন গ্রাহক পর্যালোচনা দেখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

কেন কার্যকর হয় না এসব যন্ত্র?

যেসব ছোট যন্ত্রে পানি ব্যবহার করে বাতাস কিছুটা শীতল করা হয়, সেগুলো শুষ্ক আবহাওয়ায় সীমিতভাবে কাজ করতে পারে। তবে আর্দ্র পরিবেশে এগুলোর কার্যকারিতা অনেক কমে যায়। এগুলো প্রচলিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মতো ঘরের তাপ বাইরে বের করে দেয় না। ফলে পুরো ঘরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে অনেক মানুষ বেশি দাম দিয়ে এমন পণ্য কিনছেন, যা তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। তাই অনলাইনে কোনো প্রযুক্তিপণ্য কেনার আগে বিজ্ঞাপনের চেয়ে বাস্তব তথ্য ও নির্ভরযোগ্য পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।