ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু শক্তিশালী অস্ত্র নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বিভ্রান্ত করার কৌশলও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ড্রোনের চোখ ফাঁকি দিতে এখন এমন সব ছদ্মবেশ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানুষের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও যন্ত্রের জন্য বড় ধরনের বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে লক্ষ্য করেই নতুন ছদ্মবেশ
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক ট্রাকগুলোকে কালো-সাদা মোটা ডোরাকাটা রঙে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ চোখে এটি কার্যকর ছদ্মবেশ বলে মনে না হলেও এর মূল উদ্দেশ্য মানুষের দৃষ্টি এড়ানো নয়। বরং ড্রোনে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিত্র শনাক্তকরণ ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করাই এর লক্ষ্য।
যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন দ্রুত লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করতে যন্ত্রনির্ভর বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করছে। সেই প্রযুক্তিকে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিতে এই ধরনের অস্বাভাবিক নকশা ব্যবহার করা হচ্ছে।
কীভাবে বিভ্রান্ত হয় যন্ত্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হাজার হাজার ছবির মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তু চিনতে শেখে। ট্রাক, ট্যাংক কিংবা বিমান শনাক্ত করার জন্য এটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করে। কিন্তু যদি কোনো ট্রাকের চেহারা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত হয়, তাহলে সেটিকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে যন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যন্ত্র অনেক সময় খুব সীমিত কিছু বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে সামান্য পরিবর্তনও ভুল শ্রেণিবিন্যাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েই তৈরি করা হচ্ছে নতুন ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রের ছদ্মবেশ।
যুদ্ধক্ষেত্রে নানা অভিনব কৌশল
এই নীতির ব্যবহার শুধু ট্রাকে সীমাবদ্ধ নয়। কিছু রুশ যুদ্ধবিমানের ডানার ওপর পুরোনো টায়ারের সারি দেখা গেছে, যার উদ্দেশ্য ড্রোনের চিত্র শনাক্তকরণ ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা। একইভাবে কিছু ড্রোনেও বিশেষ ধরনের নকশা ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে প্রতিপক্ষের বাধাদানকারী ড্রোন সহজে সেগুলো শনাক্ত করতে না পারে।
এসব কৌশল মূলত এমন বৈশিষ্ট্য তৈরি করে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে মেলে না। ফলে যন্ত্র লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।

সামনে আরও বাড়বে প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা
বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের বেশির ভাগ ড্রোন এখনো দূর থেকে মানুষ পরিচালনা করে। তাই অভিজ্ঞ অপারেটরদের বিভ্রান্ত করা তুলনামূলক কঠিন। তবে ড্রোনের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও বেশি সিদ্ধান্ত নেবে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনে আরও উন্নত যন্ত্র শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং আরও বুদ্ধিদীপ্ত ছদ্মবেশের মধ্যে এক ধরনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা শুরু হবে। কোনো একটি ছদ্মবেশ কিছু সময় কার্যকর থাকলেও পরে সেই নকশাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণ তথ্যের অংশ হয়ে যাবে। তখন যন্ত্র আবার সেটিকে সহজেই চিনতে শিখবে।
এই কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে ছদ্মবেশের ধরনও নিয়মিত বদলাতে হবে। যে পক্ষ দ্রুত নতুন কৌশল উদ্ভাবন ও প্রয়োগ করতে পারবে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধে তারাই তুলনামূলক বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















