বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের আওতায় প্রকাশিত ভোটার তালিকার খসড়ায় চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ২৩ লাখ ৮২ হাজার ১৪ জনের নাম বাদ পড়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আগে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ। নতুন খসড়া তালিকায় প্রায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন ভোটারদের কাছে এক মাস সময় থাকবে নাম অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর জন্য। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
কোথায় কত নাম বাদ পড়েছে
সবচেয়ে বেশি হারে নাম বাদ পড়েছে দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। সেখানে মোট ভোটারের প্রায় ৩০ শতাংশের নাম খসড়া তালিকায় নেই। অন্যদিকে সবচেয়ে কম হারে নাম বাদ পড়েছে মিজোরামে, যেখানে এই হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ।
সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গেছে ওডিশায়। সেখানে প্রায় ২০ লাখ ১২ হাজার ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশোধন কার্যক্রম শুরুর আগে রাজ্যটিতে ভোটার ছিলেন প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ। বর্তমানে খসড়া তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ নাম।
কেন বাদ পড়েছে এত নাম
ওডিশায় বাদ পড়া নামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়ায় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের নামও অপসারণ করা হয়েছে। একাধিক স্থানে একই ব্যক্তির নাম থাকার কারণেও বহু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউতে অধিকাংশ নাম বাদ পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া যায়নি অথবা তাঁরা তথ্য সংগ্রহের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেননি। এছাড়া স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া, মৃত্যু এবং একাধিক স্থানে নাম নিবন্ধনের ঘটনাও বাদ পড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
![]()
মণিপুর ও মিজোরামের চিত্র
মণিপুরে মোট ভোটারের প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেখানে স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি মৃত্যু এবং একাধিক স্থানে নাম নিবন্ধনের কারণেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদ গেছে।
মিজোরামে মোট ৪৬ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে। সেখানে মৃত্যুবরণ, অন্যত্র স্থানান্তর এবং একাধিক স্থানে নাম নিবন্ধন—এই তিনটি কারণই প্রধান হিসেবে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর মধ্যে মিজোরামেই বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম।
দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এখন এক মাস ধরে দাবি ও আপত্তি গ্রহণ করা হবে। এই সময়ের মধ্যে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে বা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। সব আবেদন নিষ্পত্তির পর আগামী ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
ভোটার তালিকার খসড়ায় চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২৩ লাখের বেশি নাম বাদ। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ওডিশায়, দাবি-আপত্তির জন্য মিলবে এক মাস সময়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















