১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু খুলছে ২৭ জুলাই, শুল্ক আয় ভাগাভাগি চুক্তিতে কাটল জট অ্যাপল ও ওপেনএআইয়ের গোপন তথ্য বিতর্কে নতুন আইনি লড়াই ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার উপকূল, জীবিকা ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ইউক্রেনের আকাশ রক্ষায় নতুন আশা, তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে দীর্ঘ অপেক্ষার শঙ্কা থাইল্যান্ডের কড়া পরীক্ষায় বিপাকে মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক মাছ চাষিরা  সাপ্পোরোতে আন্তর্জাতিক স্কুল ঘিরে বিতর্ক, জাপানে নতুন সাংস্কৃতিক টানাপোড়েন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ সিঙ্গাপুরে কর ফাঁকি ঠেকাতে উচ্চ আয়ের ২৭৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা মাগুরার এই কলেজে পাঠদানের চিহ্ন নেই, তবু দেড় কোটির ভবন বরাদ্দ হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ব্যবহারকারী নাম সুবিধা, সিঙ্গাপুরের নেতাদের পরিচয় সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা

জ্বালানি নিরাপত্তার সন্ধিক্ষণে পাকিস্তান: নীতির চেয়ে বাস্তবায়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ

একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল তেল বা গ্যাসের সরবরাহের ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর। পাকিস্তান আজ এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে বহু বছর ধরে আটকে থাকা ব্রাউনফিল্ড রিফাইনারি আধুনিকীকরণ নীতি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এবার কি সত্যিই পরিবর্তনের সূচনা হবে, নাকি এটি আগের মতোই আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হবে?

বিগত কয়েক বছরে পাকিস্তানের জ্বালানি খাতে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার অনেকগুলোর পেছনেই ছিল নীতিগত দ্বিধা, প্রশাসনিক বিলম্ব এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন। এর ফলে শুধু সময়ই নষ্ট হয়নি; হারিয়ে গেছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা, সম্ভাব্য বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের সুযোগ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই দীর্ঘ ক্ষতির জন্য কোথাও কার্যকর জবাবদিহি বা জরুরি পদক্ষেপের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি।

অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারত সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছে। ধারাবাহিক নীতি, সুস্পষ্ট লক্ষ্য এবং সময়মতো বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা নিজেদের রিফাইনিং সক্ষমতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশ থেকে ছাড়ে অপরিশোধিত তেল কিনে তা পরিশোধন করে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির সক্ষমতা একদিনে তৈরি হয়নি; এটি বহু বছরের পরিকল্পিত বিনিয়োগের ফল।

এই তুলনা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। কারণ জ্বালানি অবকাঠামোতে বিনিয়োগের ফল তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতি, শিল্প এবং জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি শক্তিশালী করে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে জ্বালানি সরবরাহ কতটা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির ওপর নির্ভরশীল। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও এই সংকট স্পষ্ট করেছে যে দেশটির নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা সীমিত এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত প্রায় অনুপস্থিত। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য অস্থিরতাও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে নড়বড়ে করে দিতে পারে।

তবে সংকট কখনও কখনও পরিবর্তনের সুযোগও তৈরি করে। সরকার যদি এখন রিফাইনারি আধুনিকীকরণ নীতিকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে এবং একই সঙ্গে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়ে নিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

Pakistan at energy crossroads - Perspectives - Business Recorder

অনেকেই মনে করেন, স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদকদের (আইপিপি) সঙ্গে যেভাবে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, রিফাইনিং শিল্পের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে। কিন্তু এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

আইপিপি খাতে সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানো। সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা স্থবির ছিল, ফলে ধারণক্ষমতা বাবদ বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছিল। কিন্তু রিফাইনিং শিল্পে সমস্যা ভিন্ন। এখানে সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিপুল অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। আর এই ধরনের বিনিয়োগ জোরপূর্বক বা অনিশ্চয়তার পরিবেশে আসে না।

বহু বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইলে তার আগে জানতে চায়—নীতির স্থায়িত্ব থাকবে কি না, চুক্তির প্রতি সরকার সম্মান দেখাবে কি না এবং নিয়ন্ত্রক পরিবেশ কতটা স্থিতিশীল। অর্থাৎ আস্থা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে বিক্রয় কর কাঠামো এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কমে আসা প্রমাণ করে যে মুখোমুখি সংঘাতের পরিবর্তে অংশীদারিত্বমূলক সংলাপই টেকসই সমাধানের পথ।

এখনও কয়েকটি জটিল বিষয় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু যদি এগুলোও দ্রুত সমাধান করা যায়, তাহলে বহু বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা এই নীতির বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। আর সেটিই হবে পাকিস্তানের জ্বালানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

পাকিস্তান ইতোমধ্যে মূল্যবান ছয় বছর হারিয়েছে। আরও ছয় বছর একইভাবে অপেক্ষা করার সুযোগ দেশটির নেই। কারণ বিষয়টি কেবল একটি শিল্পের আধুনিকীকরণের নয়; এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত।

অবকাঠামো উন্নয়ন, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বারবার আসে না। তাই নতুন নীতি প্রণয়নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই নীতিকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা। শেষ পর্যন্ত ইতিহাস কোনো দেশের ঘোষিত পরিকল্পনাকে নয়, বরং সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সক্ষমতাকেই মূল্যায়ন করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু খুলছে ২৭ জুলাই, শুল্ক আয় ভাগাভাগি চুক্তিতে কাটল জট

জ্বালানি নিরাপত্তার সন্ধিক্ষণে পাকিস্তান: নীতির চেয়ে বাস্তবায়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ

১০:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল তেল বা গ্যাসের সরবরাহের ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর। পাকিস্তান আজ এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে বহু বছর ধরে আটকে থাকা ব্রাউনফিল্ড রিফাইনারি আধুনিকীকরণ নীতি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এবার কি সত্যিই পরিবর্তনের সূচনা হবে, নাকি এটি আগের মতোই আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হবে?

বিগত কয়েক বছরে পাকিস্তানের জ্বালানি খাতে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার অনেকগুলোর পেছনেই ছিল নীতিগত দ্বিধা, প্রশাসনিক বিলম্ব এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন। এর ফলে শুধু সময়ই নষ্ট হয়নি; হারিয়ে গেছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা, সম্ভাব্য বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের সুযোগ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই দীর্ঘ ক্ষতির জন্য কোথাও কার্যকর জবাবদিহি বা জরুরি পদক্ষেপের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি।

অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারত সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছে। ধারাবাহিক নীতি, সুস্পষ্ট লক্ষ্য এবং সময়মতো বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা নিজেদের রিফাইনিং সক্ষমতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশ থেকে ছাড়ে অপরিশোধিত তেল কিনে তা পরিশোধন করে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির সক্ষমতা একদিনে তৈরি হয়নি; এটি বহু বছরের পরিকল্পিত বিনিয়োগের ফল।

এই তুলনা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। কারণ জ্বালানি অবকাঠামোতে বিনিয়োগের ফল তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতি, শিল্প এবং জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি শক্তিশালী করে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে জ্বালানি সরবরাহ কতটা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির ওপর নির্ভরশীল। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও এই সংকট স্পষ্ট করেছে যে দেশটির নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা সীমিত এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত প্রায় অনুপস্থিত। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য অস্থিরতাও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে নড়বড়ে করে দিতে পারে।

তবে সংকট কখনও কখনও পরিবর্তনের সুযোগও তৈরি করে। সরকার যদি এখন রিফাইনারি আধুনিকীকরণ নীতিকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে এবং একই সঙ্গে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়ে নিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

Pakistan at energy crossroads - Perspectives - Business Recorder

অনেকেই মনে করেন, স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদকদের (আইপিপি) সঙ্গে যেভাবে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, রিফাইনিং শিল্পের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে। কিন্তু এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

আইপিপি খাতে সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানো। সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা স্থবির ছিল, ফলে ধারণক্ষমতা বাবদ বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছিল। কিন্তু রিফাইনিং শিল্পে সমস্যা ভিন্ন। এখানে সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিপুল অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। আর এই ধরনের বিনিয়োগ জোরপূর্বক বা অনিশ্চয়তার পরিবেশে আসে না।

বহু বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইলে তার আগে জানতে চায়—নীতির স্থায়িত্ব থাকবে কি না, চুক্তির প্রতি সরকার সম্মান দেখাবে কি না এবং নিয়ন্ত্রক পরিবেশ কতটা স্থিতিশীল। অর্থাৎ আস্থা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে বিক্রয় কর কাঠামো এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কমে আসা প্রমাণ করে যে মুখোমুখি সংঘাতের পরিবর্তে অংশীদারিত্বমূলক সংলাপই টেকসই সমাধানের পথ।

এখনও কয়েকটি জটিল বিষয় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু যদি এগুলোও দ্রুত সমাধান করা যায়, তাহলে বহু বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা এই নীতির বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। আর সেটিই হবে পাকিস্তানের জ্বালানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

পাকিস্তান ইতোমধ্যে মূল্যবান ছয় বছর হারিয়েছে। আরও ছয় বছর একইভাবে অপেক্ষা করার সুযোগ দেশটির নেই। কারণ বিষয়টি কেবল একটি শিল্পের আধুনিকীকরণের নয়; এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত।

অবকাঠামো উন্নয়ন, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বারবার আসে না। তাই নতুন নীতি প্রণয়নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই নীতিকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা। শেষ পর্যন্ত ইতিহাস কোনো দেশের ঘোষিত পরিকল্পনাকে নয়, বরং সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সক্ষমতাকেই মূল্যায়ন করে।