সিঙ্গাপুরে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কর কম দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি কৃত্রিম ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটির রাজস্ব কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনের এমন কর্মকাণ্ড শনাক্ত করেছে, যারা ব্যক্তিগত আয় গোপন না করেও বিভিন্ন কৌশলে করের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১২৪টি ঘটনায় প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার অতিরিক্ত কর আদায় করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অনেকেই নিজেদের আয় ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সেখানে অর্থ স্থানান্তর করেছিলেন।
কৃত্রিম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর কমানোর চেষ্টা
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, বেশিরভাগ ঘটনায় উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাভ দেখিয়ে পরে করমুক্ত লভ্যাংশ বা সুদবিহীন অংশীদার ঋণের আকারে অর্থ গ্রহণ করেন। যদিও কর পরিকল্পনার কিছু পদ্ধতি আইনসম্মত হতে পারে, তবে শুধু কর কমানোর উদ্দেশ্যে কোনো কৃত্রিম ব্যবস্থা তৈরি করলে কর্তৃপক্ষ তা বাতিল করে অতিরিক্ত কর আরোপ করতে পারে।
অনেক ব্যক্তি ভেবেছিলেন, ব্যক্তিগত আয়ের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের আয় হিসেবে অর্থ দেখালে করের হার কম হবে। কারণ ব্যক্তিগতভাবে বেশি আয়ের ক্ষেত্রে করের হার বেশি হলেও প্রতিষ্ঠানের করহার তুলনামূলক কম।

আদালতেও বহাল হয়েছে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত
সম্প্রতি তিন চিকিৎসক কর পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তবে আদালত তাদের তৈরি ব্যবস্থাকে কৃত্রিম বলে বিবেচনা করে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
একটি ঘটনায় দেখা যায়, একজন চিকিৎসক তার প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক কয়েক হাজার ডলার আয় দেখালেও কয়েক বছরে লভ্যাংশ ও অংশীদার ঋণের মাধ্যমে এক কোটি ডলারের বেশি অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। পরে কর্তৃপক্ষ এসব অর্থকে তার ব্যক্তিগত আয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে কর আরোপের উদ্যোগ নেয়।
করদাতাদের জন্য সতর্কবার্তা
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, সিঙ্গাপুরের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ বলেছে, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রত্যেক করদাতার দায়িত্ব। ব্যবসায়িক বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা যাচাই করা হবে।

২০২৩ সালের করবর্ষ থেকে এ ধরনের কৃত্রিম ব্যবস্থার মাধ্যমে কর কমানোর চেষ্টা ধরা পড়লে অতিরিক্ত করের ওপর ৫০ শতাংশ জরিমানাও দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ কারও অতিরিক্ত করের পরিমাণ দুই লাখ ডলার হলে তাকে আরও এক লাখ ডলার জরিমানা দিতে হতে পারে।
অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, তাদের হিসাবরক্ষক বা আইনজীবীরা এসব পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত করদাতার নিজেরই এবং পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















