ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এখন মানুষের সামনে নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবিকা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি হাজারো মানুষ ভাবছেন, কীভাবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।
ধ্বংসের পর জীবিকার বড় সংকট
গত ২৪ জুনের দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুয়াইরার বহু ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানি ও আহতের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ হারিয়েছেন তাদের আয়ের পথ।
সমুদ্রতীরের ছোট ব্যবসায়ী ফাইসুরিস আলভারেজের মতো অনেকেই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল দোকান, খাবারের স্টল ও ছোট ব্যবসাগুলো কার্যত থমকে গেছে। অনেকের প্রশ্ন, কবে আবার কাজ শুরু হবে এবং কীভাবে সংসার চলবে।

ব্যবসা হারিয়ে বিপাকে পরিবারগুলো
ভূমিকম্পের পর লুইস বায়েনার গুদাম ধ্বংস হয়ে যায়। পরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সেখানে লুটপাট ও আগুনের ঘটনাও ঘটে। তার ব্যবসা একসময় বহু পরিবারের আয়ের উৎস ছিল, কিন্তু এখন সেখানে পড়ে আছে শুধু ধ্বংসের চিহ্ন।
এমন পরিস্থিতিতে শুধু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তরাই নয়, পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, বাণিজ্য ও ভোগব্যবস্থার সঙ্গেও জড়িত বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। অর্থনীতির ওপর এই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধীরে ধীরে ফিরছে স্বাভাবিকতা
তবে কিছু এলাকায় ধীরে ধীরে জীবন ফিরতে শুরু করেছে। লা গুয়াইরার অর্থনৈতিক কেন্দ্র মাইকে তিয়ায় কিছু দোকান আবার খুলছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সময়ের সঙ্গে ক্রেতা ও পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়বে।

স্থানীয় দোকানদাররা বলছেন, পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। তবুও মানুষ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের শহরকে আবার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন।
পুনর্গঠনই হতে পারে অর্থনীতির নতুন পথ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত সহায়তা থাকলে পুনর্গঠন কার্যক্রম অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরার মানুষ এখন ধ্বংসের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন করে শুরু করার লড়াইয়ে নেমেছেন। ব্যবসায়ী লুইস বায়েনার বিশ্বাস, সবাই একসঙ্গে চেষ্টা করলে শহর আবার প্রাণ ফিরে পাবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















