সিঙ্গাপুরের স্পটিসউড পার্ক আবাসিক এলাকায় উন্নয়ন পরিকল্পনায় এবার বাসিন্দাদের সরাসরি মতামত নেওয়া হচ্ছে। নতুন সুবিধা তৈরির বিষয়ে বাসিন্দারাই সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার পাবে। এই উদ্যোগে এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ ও মালিকানার অনুভূতি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাসিন্দাদের মতামতে তৈরি হচ্ছে নতুন পরিকল্পনা
স্পটিসউড পার্কে আবাসন উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বাসিন্দারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং এখন সেগুলোর মধ্য থেকে পছন্দের প্রকল্প বেছে নিচ্ছেন। মোট ১৬২টি ধারণা থেকে যাচাই শেষে ছয়টি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ট্যানজং পাগার এলাকার প্রতিনিধি ফু সি শিয়াং বলেন, এই উদ্যোগ বাসিন্দাদের নিজেদের এলাকার ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে বাস্তব ভূমিকা রাখার সুযোগ দিচ্ছে। এতে প্রতিদিন ব্যবহার করা জায়গাগুলোর প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ ও সম্পৃক্ততা বাড়বে।
ছয়টি নতুন সুবিধার প্রস্তাব
চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে বয়স্ক ও চলাফেরায় সমস্যায় থাকা মানুষের জন্য পাথরের বসার জায়গা, হাঁটার অনুশীলনের জন্য ছোট পাথরের পথ, বহুমুখী খেলাধুলার জন্য পিকলবল কোর্ট, পরিবার ও প্রতিবেশীদের মিলনস্থল হিসেবে বারবিকিউ স্থান, খালি নিচতলা এলাকাগুলোর উন্নয়ন এবং শিশুদের জন্য ছোট দেয়াল বেয়ে ওঠার ব্যবস্থা।
প্রস্তাবিত ছয়টি প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় পাঁচ লাখ পঞ্চাশ হাজার ডলার হতে পারে, যেখানে বরাদ্দ রয়েছে দুই লাখ ডলার। তাই বাসিন্দাদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সীমিত অর্থের মধ্যে প্রকল্প নির্বাচন করতে হবে।
ভোটের পর শুরু হবে কাজ
বাসিন্দাদের ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে ১১ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত। ফলাফল জুলাই মাসের শেষ দিকে প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ ২০২৬ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
পাথরের বসার জায়গা তৈরির প্রস্তাবের সম্ভাব্য খরচ প্রায় দশ হাজার ডলার। বয়স্কদের শরীরচর্চায় সহায়তার জন্য পাথরের পথ তৈরিতে ব্যয় হতে পারে প্রায় আটচল্লিশ হাজার ডলার। খেলাধুলার সুবিধা বাড়াতে পিকলবল কোর্ট তৈরির খরচ ধরা হয়েছে প্রায় দশ হাজার ডলার।
এ ছাড়া ছাউনিযুক্ত বারবিকিউ স্থানের জন্য প্রায় এক লাখ বিশ হাজার ডলার, নিচতলার খোলা জায়গাগুলো উন্নয়নের জন্য প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার ডলার এবং শিশুদের উপযোগী দেয়াল বেয়ে ওঠার ব্যবস্থার জন্য প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজার ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
বড় উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও যুক্ত হচ্ছে বাসিন্দাদের ভাবনা
এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় আরও কিছু বড় পরিবর্তন যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাসস্টপের সঙ্গে সংযোগকারী ছাউনিযুক্ত পথ, প্রতিবন্ধীবান্ধব চলাচলের ব্যবস্থা এবং কাছের রেল করিডরের সঙ্গে হাঁটা ও সাইকেল চলাচলের সংযোগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, এই উদ্যোগ শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় নয়, বরং একটি এলাকার মানুষকে নিজেদের বসবাসের পরিবেশ গঠনে সরাসরি যুক্ত করার একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















