নিজেদের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা থেকেই অসুস্থ ও বয়স্ক স্বজনদের দেখাশোনা করা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন দুই পরিচর্যাকারী। সারাক্ষণ রিপোর্ট
মায়ের অসুস্থতা বদলে দিল জীবনের লক্ষ্য
মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ার পর মাত্র ২১ বছর বয়সে মায়ের প্রধান পরিচর্যাকারী হয়ে উঠেছিলেন অ্যাড্রিয়ান তান। মায়ের অস্ত্রোপচারের ক্ষত পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, ওষুধের খোঁজ রাখা—সব দায়িত্বই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
সেই সময় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেছেন, পরিবারের আর্থিক চাপ সামলেছেন এবং মায়ের শারীরিক ও মানসিক কষ্টের সঙ্গী হয়েছেন। দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছে, একজন পরিচর্যাকারীর জীবন কতটা কঠিন হতে পারে।
একই অভিজ্ঞতায় মিলল দুই মানুষের পথ

২০১৭ সালে প্রশিক্ষণের সময় গ্রেগ তানের সঙ্গে পরিচয় হয় অ্যাড্রিয়ানের। কথোপকথনে তারা জানতে পারেন, দুজনেই অসুস্থ বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। নিজেদের সংগ্রামের গল্প ভাগ করতে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, অনেক পরিচর্যাকারী প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তার পথ খুঁজে পান না।
এরপর তারা আরও কয়েকজন পরিচর্যাকারী বন্ধুর সহযোগিতায় প্রায় তিন লাখ ডলার অর্থ দিয়ে একটি অলাভজনক উদ্যোগ শুরু করেন। পরে এটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ শুরু করে।
পরিচর্যাকারীদের জন্য সহায়তার পথ তৈরি
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পরিচর্যাকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, তথ্য ও সঠিক সম্পদের সঙ্গে যুক্ত করা। অনেক মানুষ জানেন না কোথা থেকে বিশেষ যন্ত্রপাতি পাওয়া যাবে, কীভাবে উপযুক্ত সহকারী নিয়োগ করা যাবে বা কর্মজীবনের পাশাপাশি বয়স্ক স্বজনের যত্ন কীভাবে সামলানো যাবে।
অ্যাড্রিয়ান ও গ্রেগ মনে করেন, পরিচর্যার চাপ শুধু অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত নয়, এটি সব শ্রেণির মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। তাই তারা সরাসরি সব সমস্যার সমাধান না করে মানুষকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন।
কঠিন সময়েও থামেনি তাদের যাত্রা
শুরুতে স্বেচ্ছাসেবী সহায়তার জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে মহামারির সময়ে এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ সহায়তা পেতে শুরু করেন এবং স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যাও বেড়ে যায়।
পরবর্তীতে পরিচর্যাকারীদের জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়, যেখানে পরামর্শ, আলোচনা ও বয়স্কদের জীবন সহজ করার নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
নিজেরাই এখন যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছেন
অ্যাড্রিয়ান ও গ্রেগ এখনো নিজেদের বাবা-মায়ের যত্ন নিচ্ছেন। এর মধ্যেই অ্যাড্রিয়ান নিজেও শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের এক পাশ কিছু সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে পড়ে। সুস্থতার পথে ফিরলেও আগের মতো শক্তি ফিরে পাননি তিনি।
তবুও তারা তাদের উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অ্যাড্রিয়ানের বিশ্বাস, এই কাজ টিকে থাকলে আরও অনেক পরিচর্যাকারী একা না থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা খুঁজে পাবেন।
দুই পরিচর্যাকারীর জীবনের গল্প দেখায়, ব্যক্তিগত কষ্ট থেকেও মানুষের জন্য বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।
নিজের পরিবারের যত্ন নিতে গিয়ে যারা সংগ্রাম করছেন, তাদের জন্য সহায়তার দরজা খুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















