০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে ঢাকার সড়ক অবরোধ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও চাইলেন শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় ইরানের ছয় শহর লক্ষ্যবস্তু, উপকূলীয় সামরিক সক্ষমতায় আঘাত বিশ্ব যখন আমেরিকার ঝুঁকি কমাতে চায় অং সান সু চি কি মারা গেছেন? তিন বছরের বেশি সময়েও রহস্য কাটেনি, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ‘৩৮ বছরে এলাকায় বন্যার এমন পানি দেখি নাই’ শেখ হাসিনার ‘দেশে ফেরার’ বাস্তবতা কতটা? যুক্তরাষ্ট্রে হিস্পানিকদের পরিচয় নিয়ে নতুন চিত্র, ‘আমেরিকান’ ভাবনায় বিভক্ত জনগোষ্ঠী যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল, ঘর ছাড়তে বাধ্য শত শত মানুষ ফাইনালের আগে ফাইনাল! বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্স-স্পেন মহারণ

যত্নদাতাদের পাশে দাঁড়াতে দুই পরিচর্যাকারীর নতুন উদ্যোগ

নিজেদের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা থেকেই অসুস্থ ও বয়স্ক স্বজনদের দেখাশোনা করা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন দুই পরিচর্যাকারী। সারাক্ষণ রিপোর্ট

মায়ের অসুস্থতা বদলে দিল জীবনের লক্ষ্য

মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ার পর মাত্র ২১ বছর বয়সে মায়ের প্রধান পরিচর্যাকারী হয়ে উঠেছিলেন অ্যাড্রিয়ান তান। মায়ের অস্ত্রোপচারের ক্ষত পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, ওষুধের খোঁজ রাখা—সব দায়িত্বই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।

সেই সময় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেছেন, পরিবারের আর্থিক চাপ সামলেছেন এবং মায়ের শারীরিক ও মানসিক কষ্টের সঙ্গী হয়েছেন। দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছে, একজন পরিচর্যাকারীর জীবন কতটা কঠিন হতে পারে।

একই অভিজ্ঞতায় মিলল দুই মানুষের পথ

Why Respite Care Matters: A Guide for Caregivers and Families

২০১৭ সালে প্রশিক্ষণের সময় গ্রেগ তানের সঙ্গে পরিচয় হয় অ্যাড্রিয়ানের। কথোপকথনে তারা জানতে পারেন, দুজনেই অসুস্থ বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। নিজেদের সংগ্রামের গল্প ভাগ করতে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, অনেক পরিচর্যাকারী প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তার পথ খুঁজে পান না।

এরপর তারা আরও কয়েকজন পরিচর্যাকারী বন্ধুর সহযোগিতায় প্রায় তিন লাখ ডলার অর্থ দিয়ে একটি অলাভজনক উদ্যোগ শুরু করেন। পরে এটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ শুরু করে।

পরিচর্যাকারীদের জন্য সহায়তার পথ তৈরি

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পরিচর্যাকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, তথ্য ও সঠিক সম্পদের সঙ্গে যুক্ত করা। অনেক মানুষ জানেন না কোথা থেকে বিশেষ যন্ত্রপাতি পাওয়া যাবে, কীভাবে উপযুক্ত সহকারী নিয়োগ করা যাবে বা কর্মজীবনের পাশাপাশি বয়স্ক স্বজনের যত্ন কীভাবে সামলানো যাবে।

অ্যাড্রিয়ান ও গ্রেগ মনে করেন, পরিচর্যার চাপ শুধু অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত নয়, এটি সব শ্রেণির মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। তাই তারা সরাসরি সব সমস্যার সমাধান না করে মানুষকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন।

কঠিন সময়েও থামেনি তাদের যাত্রা

17,174 Group Human Hands Together Stock Photos - Free & Royalty-Free Stock  Photos from Dreamstime

শুরুতে স্বেচ্ছাসেবী সহায়তার জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে মহামারির সময়ে এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ সহায়তা পেতে শুরু করেন এবং স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যাও বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে পরিচর্যাকারীদের জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়, যেখানে পরামর্শ, আলোচনা ও বয়স্কদের জীবন সহজ করার নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

নিজেরাই এখন যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছেন

অ্যাড্রিয়ান ও গ্রেগ এখনো নিজেদের বাবা-মায়ের যত্ন নিচ্ছেন। এর মধ্যেই অ্যাড্রিয়ান নিজেও শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের এক পাশ কিছু সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে পড়ে। সুস্থতার পথে ফিরলেও আগের মতো শক্তি ফিরে পাননি তিনি।

তবুও তারা তাদের উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অ্যাড্রিয়ানের বিশ্বাস, এই কাজ টিকে থাকলে আরও অনেক পরিচর্যাকারী একা না থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা খুঁজে পাবেন।

দুই পরিচর্যাকারীর জীবনের গল্প দেখায়, ব্যক্তিগত কষ্ট থেকেও মানুষের জন্য বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।

নিজের পরিবারের যত্ন নিতে গিয়ে যারা সংগ্রাম করছেন, তাদের জন্য সহায়তার দরজা খুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগে

যত্নদাতাদের পাশে দাঁড়াতে দুই পরিচর্যাকারীর নতুন উদ্যোগ

১১:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

নিজেদের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা থেকেই অসুস্থ ও বয়স্ক স্বজনদের দেখাশোনা করা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন দুই পরিচর্যাকারী। সারাক্ষণ রিপোর্ট

মায়ের অসুস্থতা বদলে দিল জীবনের লক্ষ্য

মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ার পর মাত্র ২১ বছর বয়সে মায়ের প্রধান পরিচর্যাকারী হয়ে উঠেছিলেন অ্যাড্রিয়ান তান। মায়ের অস্ত্রোপচারের ক্ষত পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, ওষুধের খোঁজ রাখা—সব দায়িত্বই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।

সেই সময় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেছেন, পরিবারের আর্থিক চাপ সামলেছেন এবং মায়ের শারীরিক ও মানসিক কষ্টের সঙ্গী হয়েছেন। দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছে, একজন পরিচর্যাকারীর জীবন কতটা কঠিন হতে পারে।

একই অভিজ্ঞতায় মিলল দুই মানুষের পথ

Why Respite Care Matters: A Guide for Caregivers and Families

২০১৭ সালে প্রশিক্ষণের সময় গ্রেগ তানের সঙ্গে পরিচয় হয় অ্যাড্রিয়ানের। কথোপকথনে তারা জানতে পারেন, দুজনেই অসুস্থ বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। নিজেদের সংগ্রামের গল্প ভাগ করতে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, অনেক পরিচর্যাকারী প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তার পথ খুঁজে পান না।

এরপর তারা আরও কয়েকজন পরিচর্যাকারী বন্ধুর সহযোগিতায় প্রায় তিন লাখ ডলার অর্থ দিয়ে একটি অলাভজনক উদ্যোগ শুরু করেন। পরে এটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ শুরু করে।

পরিচর্যাকারীদের জন্য সহায়তার পথ তৈরি

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পরিচর্যাকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, তথ্য ও সঠিক সম্পদের সঙ্গে যুক্ত করা। অনেক মানুষ জানেন না কোথা থেকে বিশেষ যন্ত্রপাতি পাওয়া যাবে, কীভাবে উপযুক্ত সহকারী নিয়োগ করা যাবে বা কর্মজীবনের পাশাপাশি বয়স্ক স্বজনের যত্ন কীভাবে সামলানো যাবে।

অ্যাড্রিয়ান ও গ্রেগ মনে করেন, পরিচর্যার চাপ শুধু অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত নয়, এটি সব শ্রেণির মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। তাই তারা সরাসরি সব সমস্যার সমাধান না করে মানুষকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন।

কঠিন সময়েও থামেনি তাদের যাত্রা

17,174 Group Human Hands Together Stock Photos - Free & Royalty-Free Stock  Photos from Dreamstime

শুরুতে স্বেচ্ছাসেবী সহায়তার জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে মহামারির সময়ে এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ সহায়তা পেতে শুরু করেন এবং স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যাও বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে পরিচর্যাকারীদের জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়, যেখানে পরামর্শ, আলোচনা ও বয়স্কদের জীবন সহজ করার নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

নিজেরাই এখন যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছেন

অ্যাড্রিয়ান ও গ্রেগ এখনো নিজেদের বাবা-মায়ের যত্ন নিচ্ছেন। এর মধ্যেই অ্যাড্রিয়ান নিজেও শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের এক পাশ কিছু সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে পড়ে। সুস্থতার পথে ফিরলেও আগের মতো শক্তি ফিরে পাননি তিনি।

তবুও তারা তাদের উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অ্যাড্রিয়ানের বিশ্বাস, এই কাজ টিকে থাকলে আরও অনেক পরিচর্যাকারী একা না থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা খুঁজে পাবেন।

দুই পরিচর্যাকারীর জীবনের গল্প দেখায়, ব্যক্তিগত কষ্ট থেকেও মানুষের জন্য বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।

নিজের পরিবারের যত্ন নিতে গিয়ে যারা সংগ্রাম করছেন, তাদের জন্য সহায়তার দরজা খুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে।