০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আফ্রিকায় ফিরছে শিকড়ের টান: কেন ঘানা-বেনিন-গিনি ডাকছে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন তারকাদের ভুলে গ্রাহকের হাতে বিপুল বিটকয়েন, দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের চাঞ্চল্যকর বিপর্যয় সুইজারল্যান্ডের মধ্যযুগীয় বিস্ময়কর গ্রন্থাগার, শতাব্দী পেরিয়ে জ্ঞানের অমূল্য ভাণ্ডার ডোপামিন নিয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি: সুখ নয়, অস্থিরতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার শক্তি শরীরচর্চার সেরা সময় কোনটি? সকাল নাকি সন্ধ্যা—বিজ্ঞান যা বলছে উচ্চশিক্ষিতদের ৪০% জামায়াত, ৩০% বিএনপিমুখী: সোচ্চারের জরিপে ভোটার প্রবণতার নতুন চিত্র ঐতিহাসিক দেহ বিদ্যার শিল্পের অন্ধকার সত্য উন্মোচন স্বপ্নের মঞ্চে অন্ধকার অভিযোগ: কে-পপ তারকা হওয়ার আশায় প্রতারণা ও হয়রানির গল্প দুই মিলিয়ন বইয়ের স্বপ্নগাথা,কর্ণাটকের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকের গড়া আলোর গ্রন্থ ভুবন অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের লড়াইয়ে মুখ্য নারী জুলি ইনম্যান গ্রান্ট

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৫)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪
  • 103

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম

তারা এ জন্যে ইন্ডিগো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে নানা রকমভাবে শাস্তিদানের পন্থা গ্রহণের জন্য ওকালতি করে। এমনকি যারা ইন্ডিগো বেশি ব্যবহার করে, সেই ফরাসী রঞ্জকদের মৃত্যু দন্ডাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করে। আমদানী করা নীলের বিরুদ্ধে শুরু হয় এক নোংরা আন্দোলন। ওরা বলত, এ হচ্ছে শয়তানের রং, বিষাক্ত প্রাণনাশকারী ও ক্ষয়কারক এক জিনিস, ক্ষতিকর। ইন্ডিগো নীলের বিরুদ্ধে এমন তুমুল আন্দোলন সত্ত্বেও এবং এর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের দাবী সত্ত্বেও ওয়াড-নীল ইন্ডিগো-নীলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যায়।

যোগিতায় দেবে ওলীর দেশ থেকে আনা নীল ইউরোপের বাজারে পরিণত হল এক লোভনীয় পণ্য দ্রব্যে। ইউরোপীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো শেষে নীলের উৎপাদন তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইল। নতুন নতুন এলাকা যতই ঔপনিবেশিকদের হাতে পড়তে থাকল তারা চাইল নীল উৎপাদনকারী এলাকা যেন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। গুড়তে, নতুন উপনিবেশে তারা নীল উৎপাদনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে লাগল। ইউরোপের সম্প্রসারিত বাজারে তারা যে শুধু নীল বাজারজাত করতে থাকল তাই নয় তারা নিজেদের উপনিবেশের নীল অত্যন্ত লাভজনকভাবে ইউরোপের অন্য দেশেও রফতানি করত। বিশ্ব-পুঁজিবাদের নতুন বাজারে ইন্ডিগো-নীল পরিণত হল এক তুমুল প্রতিযোগিতামূলক পণ্যে।

এশিয়ার নীলের উপর ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নিয়ন্ত্রণ ছিল পর্তুগালের। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল স্পেন। পর্তুগালের ব্যবসা স্পেন দখল করার চেষ্টা করত। মধ্য আমেরিকায় তাদের দখল করা নতুন উপনিবেশে তারা প্রবর্তন করল এশিয়া থেকে নীল গাছের। এভাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মধ্য আমেরিকা ছেয়ে গেল শত শত বাণিজ্যিক নীল ক্ষেতে। বিশেষভাবে এল সালভেদর ও গুয়াতেমালায় নীলচাষ করা হত ব্যাপকভাবে, কেননা দেশ দু’টিতে খনিজ সম্পদ বিশেষ ছিল না বললেই চলে। নীল হল এসব দেশের ঔপনিবেশিক অর্থনীতির ভিত্তি।

মধ্য আমেরিকায় নীল চাষের স্বর্ণযুগ হল সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দী। এখান থেকে বিপুল পরিমাণ নীল রফতানী করা হত স্পেনে (আবার সেখান থেকে অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করে বৃটেন ও নেদারল্যাণ্ডে), পেরুতে ও মেক্সিকোয়। উনবিংশ শতাব্দীতে হাওয়া বইতে থাকে উল্টো দিকে। কেননা ওই সব দেশগুলো নীল আমদানীর উপর এত বেশি শুল্ক বসাতে থাকে যে, রফতানিতে নেমে আসে বিপর্যয়।”

জনপ্রিয় সংবাদ

আফ্রিকায় ফিরছে শিকড়ের টান: কেন ঘানা-বেনিন-গিনি ডাকছে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন তারকাদের

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৫)

১০:০০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম

তারা এ জন্যে ইন্ডিগো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে নানা রকমভাবে শাস্তিদানের পন্থা গ্রহণের জন্য ওকালতি করে। এমনকি যারা ইন্ডিগো বেশি ব্যবহার করে, সেই ফরাসী রঞ্জকদের মৃত্যু দন্ডাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করে। আমদানী করা নীলের বিরুদ্ধে শুরু হয় এক নোংরা আন্দোলন। ওরা বলত, এ হচ্ছে শয়তানের রং, বিষাক্ত প্রাণনাশকারী ও ক্ষয়কারক এক জিনিস, ক্ষতিকর। ইন্ডিগো নীলের বিরুদ্ধে এমন তুমুল আন্দোলন সত্ত্বেও এবং এর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের দাবী সত্ত্বেও ওয়াড-নীল ইন্ডিগো-নীলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যায়।

যোগিতায় দেবে ওলীর দেশ থেকে আনা নীল ইউরোপের বাজারে পরিণত হল এক লোভনীয় পণ্য দ্রব্যে। ইউরোপীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো শেষে নীলের উৎপাদন তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইল। নতুন নতুন এলাকা যতই ঔপনিবেশিকদের হাতে পড়তে থাকল তারা চাইল নীল উৎপাদনকারী এলাকা যেন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। গুড়তে, নতুন উপনিবেশে তারা নীল উৎপাদনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে লাগল। ইউরোপের সম্প্রসারিত বাজারে তারা যে শুধু নীল বাজারজাত করতে থাকল তাই নয় তারা নিজেদের উপনিবেশের নীল অত্যন্ত লাভজনকভাবে ইউরোপের অন্য দেশেও রফতানি করত। বিশ্ব-পুঁজিবাদের নতুন বাজারে ইন্ডিগো-নীল পরিণত হল এক তুমুল প্রতিযোগিতামূলক পণ্যে।

এশিয়ার নীলের উপর ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নিয়ন্ত্রণ ছিল পর্তুগালের। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল স্পেন। পর্তুগালের ব্যবসা স্পেন দখল করার চেষ্টা করত। মধ্য আমেরিকায় তাদের দখল করা নতুন উপনিবেশে তারা প্রবর্তন করল এশিয়া থেকে নীল গাছের। এভাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মধ্য আমেরিকা ছেয়ে গেল শত শত বাণিজ্যিক নীল ক্ষেতে। বিশেষভাবে এল সালভেদর ও গুয়াতেমালায় নীলচাষ করা হত ব্যাপকভাবে, কেননা দেশ দু’টিতে খনিজ সম্পদ বিশেষ ছিল না বললেই চলে। নীল হল এসব দেশের ঔপনিবেশিক অর্থনীতির ভিত্তি।

মধ্য আমেরিকায় নীল চাষের স্বর্ণযুগ হল সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দী। এখান থেকে বিপুল পরিমাণ নীল রফতানী করা হত স্পেনে (আবার সেখান থেকে অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করে বৃটেন ও নেদারল্যাণ্ডে), পেরুতে ও মেক্সিকোয়। উনবিংশ শতাব্দীতে হাওয়া বইতে থাকে উল্টো দিকে। কেননা ওই সব দেশগুলো নীল আমদানীর উপর এত বেশি শুল্ক বসাতে থাকে যে, রফতানিতে নেমে আসে বিপর্যয়।”