০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
ইসলামাবাদে চার দেশের কূটনীতি: পাকিস্তান মার্কিন-ইরান সরাসরি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিল বঙ্গের ধাঁধা — সামাজিক অগ্রগতি কেন উচ্চ আয়ে রূপান্তরিত হয়নি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার উদ্যোগে পাকিস্তান, চীনের সমর্থন চাইতে বেইজিং সফরে ইসহাক দার ভারত কেন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বেছে নেয় ভারত কেন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের নেতৃত্বে বাঘের গালিবাফ, কে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও খারগ দ্বীপ নিয়ে নিতে পারে: ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানে নাগরিকত্ব পেতে এখন ১০ বছর বসবাস বাধ্যতামূলক, কর নথিতেও কঠোরতা রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মী বন্ধে জাপানের সিদ্ধান্তে আতঙ্ক, শ্রম সংকটে টালমাটাল খাদ্যসেবা শিল্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও ছড়াচ্ছে, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে হামলা, মার্কিন সেনা মোতায়েন জোরদার

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৭)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০২৪
  • 124

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম

নীলের আন্তর্জাতিক বাজারে চরম প্রতিযোগিতার অর্থই হল, নীল উৎপাদনে শ্রমিকের মজুরি যে যত কম দিতে পারবে সে লাভ করবে তত বেশি। নীল ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক অস্তিত্ব ও স্বার্থের জন্য যতটা সম্ভব সস্তা শ্রমের সন্ধান করত। এই কারণে নাম মাত্র দামে শ্রম কেনার জন্য শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালানো হত অমানুষিক। জুলুম করা হত ক্রীতদাসের মত।

তাই বিশ্ব জুড়ে নীল ব্যবসার নীতি হল- যত পার শোষণ কর শ্রমিককে। “এক চতুর্মুখী বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটেছিল এশীয় নীল রং-এ রঞ্জিত বস্ত্র নিয়ে। প্রথমে এই রঙিন কাপড় রফতানী করা হত ইউরোপে। তারপর ইউরোপ থেকে আবার এগুলো রফতানী করা হত পশ্চিম আফ্রিকায়। বিনিময় বাণিজ্যে ক্রীতদাস কিনতে হলে এশীয় নীল রং-এর কাপড়ের গুরুত্ব সমধিক। ওয়েষ্ট ইন্ডিজে কিংবা আমেরিকায় ইউরোপীয় নীলের খামারে যারা কাজ করত তাদের অধিকাংশই পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আনা ক্রীতদাস।

আবার আটলান্টিক পারি দিয়ে বিকিকিনির শেষ প্রান্ত ইউরোপে চালান করে বিক্রি করা হত এই ইন্ডিগো। ইউরোপীয়দের ইন্ডিগো নীলের ক্ষুধা মেটাতে নীল উৎপাদনে নিয়োজিত স্থানীয় কৃষক ও ক্রীতদাসদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের জীবনপাত করতে হত। এইসব কারণে ইন্ডিগো, নীলের ইতিহাস মানুষকে শোষণ করার বিষাদময় নীলাভ ইতিহাস। “উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে নীলের বিশ্ব ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চে এবার বঙ্গদেশের পালা। আবার সেই পুরানো কাহিনী, একদিকে অভূতপূর্ব বাণিজ্যিক সাফল্য অন্যদিকে করুণ মানবিক বিপর্যয়।

নীলের বিশ্ব বাণিজ্যের পটভূমিকায় বাংলাদেশে নীলচাষের করুণ পরিণতি অনুধাবনের চেষ্টা করতে হবে। পরবর্তী দুইটি পরিচ্ছেদে প্রথমতঃ আমরা বিবেচনা করব নীলের বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য সাম্রাজ্যবাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব আর দ্বিতীয়তঃ যে বাংলাদেশ নীলচাষের সঙ্গে আদৌ জড়িত ছিল না সে কি কি কারণে নীলচাষের এক উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হল, আর হঠাৎ কি করে বিশ্বের প্রধানতম নীল ব্যবসার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়াল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামাবাদে চার দেশের কূটনীতি: পাকিস্তান মার্কিন-ইরান সরাসরি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিল

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৭)

১০:০০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম

নীলের আন্তর্জাতিক বাজারে চরম প্রতিযোগিতার অর্থই হল, নীল উৎপাদনে শ্রমিকের মজুরি যে যত কম দিতে পারবে সে লাভ করবে তত বেশি। নীল ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক অস্তিত্ব ও স্বার্থের জন্য যতটা সম্ভব সস্তা শ্রমের সন্ধান করত। এই কারণে নাম মাত্র দামে শ্রম কেনার জন্য শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালানো হত অমানুষিক। জুলুম করা হত ক্রীতদাসের মত।

তাই বিশ্ব জুড়ে নীল ব্যবসার নীতি হল- যত পার শোষণ কর শ্রমিককে। “এক চতুর্মুখী বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটেছিল এশীয় নীল রং-এ রঞ্জিত বস্ত্র নিয়ে। প্রথমে এই রঙিন কাপড় রফতানী করা হত ইউরোপে। তারপর ইউরোপ থেকে আবার এগুলো রফতানী করা হত পশ্চিম আফ্রিকায়। বিনিময় বাণিজ্যে ক্রীতদাস কিনতে হলে এশীয় নীল রং-এর কাপড়ের গুরুত্ব সমধিক। ওয়েষ্ট ইন্ডিজে কিংবা আমেরিকায় ইউরোপীয় নীলের খামারে যারা কাজ করত তাদের অধিকাংশই পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আনা ক্রীতদাস।

আবার আটলান্টিক পারি দিয়ে বিকিকিনির শেষ প্রান্ত ইউরোপে চালান করে বিক্রি করা হত এই ইন্ডিগো। ইউরোপীয়দের ইন্ডিগো নীলের ক্ষুধা মেটাতে নীল উৎপাদনে নিয়োজিত স্থানীয় কৃষক ও ক্রীতদাসদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের জীবনপাত করতে হত। এইসব কারণে ইন্ডিগো, নীলের ইতিহাস মানুষকে শোষণ করার বিষাদময় নীলাভ ইতিহাস। “উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে নীলের বিশ্ব ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চে এবার বঙ্গদেশের পালা। আবার সেই পুরানো কাহিনী, একদিকে অভূতপূর্ব বাণিজ্যিক সাফল্য অন্যদিকে করুণ মানবিক বিপর্যয়।

নীলের বিশ্ব বাণিজ্যের পটভূমিকায় বাংলাদেশে নীলচাষের করুণ পরিণতি অনুধাবনের চেষ্টা করতে হবে। পরবর্তী দুইটি পরিচ্ছেদে প্রথমতঃ আমরা বিবেচনা করব নীলের বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য সাম্রাজ্যবাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব আর দ্বিতীয়তঃ যে বাংলাদেশ নীলচাষের সঙ্গে আদৌ জড়িত ছিল না সে কি কি কারণে নীলচাষের এক উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হল, আর হঠাৎ কি করে বিশ্বের প্রধানতম নীল ব্যবসার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়াল।