০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি, সরকারের কাছে শনিবার পর্যন্ত সময় আন্দোলনকারীদের চোটের কারণে সেরা ইয়ামালকে দেখা যায়নি, বললেন লেভানডোভস্কি উপবাস ভাঙতেই বিতর্ক, সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে কংগ্রেস-বিজেপির তুমুল বাকযুদ্ধ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে অটল আন্দোলনকারীরা, ফের বৈঠকে বসবে নড়াইলে কুপিয়ে হত্যা করা হলো ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে, আতঙ্কে এলাকাবাসী ট্রাম্পের নতুন শুল্কে বাণিজ্যচাপে বিশ্ব, ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সিদ্ধান্ত হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট মৃত্যু ৮১০ ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণে ঝরল দুই প্রাণ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে তরুণী ফেনীতে শিক্ষিকার বাসা থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, ২৪ ঘণ্টার বিশেষ পূর্বাভাস

অ্যারিজোনা গভর্নর নির্বাচনে পুরোনো বিতর্কের পুনরুত্থান, চাপে রিপাবলিকান প্রার্থী

অ্যারিজোনার গভর্নর নির্বাচনকে ঘিরে এক দশকেরও বেশি পুরোনো একটি বিতর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। বহুবিবাহ চর্চাকারী একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং তাদের সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত সম্পর্ক নিয়ে পুরোনো অভিযোগ এখন রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যান্ডি বিগসের রাজনৈতিক পথকে কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পুরোনো ঘটনার নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব

২০১৩ সালে অ্যারিজোনার কলোরাডো সিটি মার্শালস অফিসের ক্ষমতা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ওই বাহিনী স্থানীয় একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নানা নির্যাতনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত রাজ্যের সিনেটে ভোটাভুটির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

সে সময় আইনপ্রণেতাদের একটি অংশের দাবি ছিল, সিনেটের নেতৃত্বের কারণে বিলটি অগ্রসর হতে পারেনি। বর্তমানে গভর্নর পদে রিপাবলিকান মনোনয়নের প্রধান দাবিদার অ্যান্ডি বিগসকে ঘিরে সেই ঘটনাই আবার সামনে চলে এসেছে।

New Police Chief To Take Over Colorado City Marshal's Office

নির্বাচনী প্রচারে বাড়ছে চাপ

ডেমোক্র্যাটদের ধারণা, নির্বাচনী প্রচারে এই পুরোনো বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে অতীতের অবস্থান নিয়ে বিগসকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে।

অন্যদিকে বিগসের নির্বাচনী শিবিরের দাবি, সে সময়ের প্রস্তাবিত আইনটি যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না এবং তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের আপত্তি ছিল। তারা আরও বলছে, শিশু সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা জোরদারে বিগস দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করেছেন।

ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অভিযোগ

কলোরাডো সিটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বহু বছর ধরে একটি বিচ্ছিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনসেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করত। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ে এবং যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগও ওঠে।

Law enforcement in the United States - Wikipedia

গোষ্ঠীটির সাবেক নেতা ওয়ারেন জেফস যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড পান। পরে একই গোষ্ঠীর আরেক নেতার বিরুদ্ধেও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, যা বিষয়টিকে আবারও জাতীয় আলোচনায় নিয়ে আসে।

পুলিশ বাহিনী নিয়ে তদন্ত ও সংস্কার

ফেডারেল পর্যায়ে মামলার পর অভিযোগ ওঠে যে, স্থানীয় মার্শালস অফিস নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ না করে ধর্মীয় গোষ্ঠীর নির্দেশ অনুসরণ করত। তদন্তে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আসে এবং কয়েকজন তাদের আইন প্রয়োগকারী হিসেবে স্বীকৃতিও হারান।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ওই পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি তদারকির ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর স্থানীয় কর্তৃপক্ষও পরে অতীতের ব্যর্থতা স্বীকার করে পরিবর্তনের কথা জানায়।

সামনে কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রক্ষণশীল রাজনীতিতে সফল হলেও এবার রাজ্যজুড়ে সব ধরনের ভোটারের সমর্থন অর্জনই হবে অ্যান্ডি বিগসের বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের বিতর্ক কতটা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি, সরকারের কাছে শনিবার পর্যন্ত সময় আন্দোলনকারীদের

অ্যারিজোনা গভর্নর নির্বাচনে পুরোনো বিতর্কের পুনরুত্থান, চাপে রিপাবলিকান প্রার্থী

১১:১৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

অ্যারিজোনার গভর্নর নির্বাচনকে ঘিরে এক দশকেরও বেশি পুরোনো একটি বিতর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। বহুবিবাহ চর্চাকারী একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং তাদের সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত সম্পর্ক নিয়ে পুরোনো অভিযোগ এখন রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যান্ডি বিগসের রাজনৈতিক পথকে কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পুরোনো ঘটনার নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব

২০১৩ সালে অ্যারিজোনার কলোরাডো সিটি মার্শালস অফিসের ক্ষমতা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ওই বাহিনী স্থানীয় একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নানা নির্যাতনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত রাজ্যের সিনেটে ভোটাভুটির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

সে সময় আইনপ্রণেতাদের একটি অংশের দাবি ছিল, সিনেটের নেতৃত্বের কারণে বিলটি অগ্রসর হতে পারেনি। বর্তমানে গভর্নর পদে রিপাবলিকান মনোনয়নের প্রধান দাবিদার অ্যান্ডি বিগসকে ঘিরে সেই ঘটনাই আবার সামনে চলে এসেছে।

New Police Chief To Take Over Colorado City Marshal's Office

নির্বাচনী প্রচারে বাড়ছে চাপ

ডেমোক্র্যাটদের ধারণা, নির্বাচনী প্রচারে এই পুরোনো বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে অতীতের অবস্থান নিয়ে বিগসকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে।

অন্যদিকে বিগসের নির্বাচনী শিবিরের দাবি, সে সময়ের প্রস্তাবিত আইনটি যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না এবং তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের আপত্তি ছিল। তারা আরও বলছে, শিশু সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা জোরদারে বিগস দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করেছেন।

ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অভিযোগ

কলোরাডো সিটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বহু বছর ধরে একটি বিচ্ছিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনসেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করত। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ে এবং যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগও ওঠে।

Law enforcement in the United States - Wikipedia

গোষ্ঠীটির সাবেক নেতা ওয়ারেন জেফস যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড পান। পরে একই গোষ্ঠীর আরেক নেতার বিরুদ্ধেও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, যা বিষয়টিকে আবারও জাতীয় আলোচনায় নিয়ে আসে।

পুলিশ বাহিনী নিয়ে তদন্ত ও সংস্কার

ফেডারেল পর্যায়ে মামলার পর অভিযোগ ওঠে যে, স্থানীয় মার্শালস অফিস নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ না করে ধর্মীয় গোষ্ঠীর নির্দেশ অনুসরণ করত। তদন্তে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আসে এবং কয়েকজন তাদের আইন প্রয়োগকারী হিসেবে স্বীকৃতিও হারান।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ওই পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি তদারকির ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর স্থানীয় কর্তৃপক্ষও পরে অতীতের ব্যর্থতা স্বীকার করে পরিবর্তনের কথা জানায়।

সামনে কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রক্ষণশীল রাজনীতিতে সফল হলেও এবার রাজ্যজুড়ে সব ধরনের ভোটারের সমর্থন অর্জনই হবে অ্যান্ডি বিগসের বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের বিতর্ক কতটা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।