মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টি একাধিক জটিল রাজনৈতিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সরকারি কার্যক্রম সচল রাখা, নতুন নির্বাচনবিষয়ক আইন পাস, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ—এই চারটি বড় লক্ষ্য এখন একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে দলীয় ঐক্য ধরে রাখাই কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিনিধি পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বাজেট প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সরকারি অচলাবস্থা এড়ানোর লড়াই
সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের আংশিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে অস্থায়ী অর্থায়নের একটি বিল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সরকারি কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যায়।
তবে রিপাবলিকানদের মধ্যেই এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। দলের একাংশ চায়, এই বিলের সঙ্গে নতুন ভোটসংক্রান্ত বিধিনিষেধও যুক্ত করা হোক। অন্যদিকে এমন শর্ত যুক্ত হলে বিরোধীদের সমর্থন পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ভোট আইন নিয়ে বাড়ছে বিভাজন
রিপাবলিকানদের একটি বড় অগ্রাধিকার হলো কঠোর নির্বাচন বিধি কার্যকর করা। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ভোটারদের নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং সরকারি পরিচয়পত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকছে। ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব রয়েছে।
কিন্তু এই পরিকল্পনা নিয়েই রিপাবলিকানদের ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এত অল্প সময়ে এমন পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় এবং এতে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপরই নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
প্রতিরক্ষা ব্যয় ও ইরান ইস্যু
প্রস্তাবিত বাজেট প্যাকেজে প্রতিরক্ষা খাতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষি খাত এবং নির্বাচন নিরাপত্তার জন্যও অর্থ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে দলীয় নেতাদের মধ্যেই এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ মনে করছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো জরুরি। আবার অন্যরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধসংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যয় ভোটারদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

ঋণ বাড়ার শঙ্কায় অর্থনৈতিক চাপ
রিপাবলিকানদের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন ব্যয় অনুমোদনের পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ করা। দলের আর্থিক রক্ষণশীল অংশ চায়, অতিরিক্ত ব্যয়ের সঙ্গে সমপরিমাণ ব্যয়সংকোচনও নিশ্চিত করা হোক।
কিন্তু সামাজিক কর্মসূচিতে কাটছাঁট রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে না। ফলে নতুন ব্যয় অনুমোদিত হলে জাতীয় ঋণের বোঝা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে কঠিন সমীকরণ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতৃত্বকে এখন একই সঙ্গে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করানো এবং ভোটারদের আস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলের ভেতরের সামান্য বিরোধও বড় ধরনের রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের সিদ্ধান্তই নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই নির্ধারণ করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















