২৬ দিনের অনশন শেষ করার পরই নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। কংগ্রেসের এক সাংসদের মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। ফলে অনশন-পরবর্তী পরিস্থিতি নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।
কংগ্রেস সাংসদের মন্তব্যে বিতর্ক
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ দাবি করেন, সোনম ওয়াংচুক সরকারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সমঝোতায় পৌঁছেই অনশন ভেঙেছেন। তিনি ওয়াংচুককে সমাজকর্মী আন্না হাজারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, অনশন শেষ হওয়ার পর তিনিও নীরব হয়ে যাবেন। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারের সঙ্গে বৈঠকের সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব কোথায় ছিল এবং কেন আলোচনায় মূলত লাদাখের প্রতিনিধিরাই উপস্থিত ছিলেন।
পাল্টা জবাব
এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন আন্দোলনের সমর্থক অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের আন্দোলন নয়, বরং দেশের তরুণদের আন্দোলন। তাই কোনও মন্তব্যে এই আন্দোলনের শক্তি কমবে না বলেও তিনি জানান।
বিজেপির আক্রমণ
কংগ্রেসের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কংগ্রেস সোনম ওয়াংচুককে অপমান করছে, কারণ আন্দোলনের কৃতিত্ব তারা পায়নি। বিজেপির মুখপাত্রের দাবি, সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে ইতিবাচক সমাধানের পথে এগিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
কেন অনশন ভাঙলেন ওয়াংচুক
২৬ দিনের অনশন শেষে সোনম ওয়াংচুক জানান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সরকারের এমন আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই সমস্ত শর্ত বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে তিনি সকলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে
ওয়াংচুকের অনশন শেষ হলেও তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ নেই। কংগ্রেস ও বিজেপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং সরকারের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার দিকেই এখন সবার নজর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















