দিল্লিতে চলমান শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর আন্দোলনের নেতৃত্ব জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দুটি দাবির বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থানের কথাও জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
শুক্রবার সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক করেন আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, পরীক্ষা পরিচালনায় পরিবর্তন এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা অপসারণের বিষয়ে সরকার শনিবার দুপুরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে। তাদের দাবি, এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে দেরি হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।
দুটি দাবিতে নীতিগত সম্মতি
আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, সরকার নীতিগতভাবে দুটি বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এর একটি হলো প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা। অন্যটি হলো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি।
আন্দোলনের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে লিখিত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
র আবারও বৈঠক
উভয় পক্ষের মধ্যে শনিবার আবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব বলছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তাদের কাছে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে।
অনশন প্রত্যাহারের পরও দাবি বহাল
এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন পালনকারী পরিবেশ আন্দোলনের এক নেতাও অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তিনি জানান, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে লিখিত আশ্বাস দিয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এখনও আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
আটক অভিযানের আশঙ্কা
আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিযোগ করেছেন, রাতেই আন্দোলনকারীদের আটক বা গ্রেপ্তারের চেষ্টা হতে পারে। তাঁর দাবি, সপ্তাহান্তে আরও বেশি মানুষ আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন। তাই কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।
অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত। তবে আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের জটিলতা আরও বাড়বে নাকি শনিবারের বৈঠকে সমাধানের পথ খুলবে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সরকারের কাছে শনিবার পর্যন্ত সময়, দুটি দাবিতে নীতিগত সম্মতির পর দিল্লির আন্দোলন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















