০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

ভারতের জ্বালানি রূপান্তরের বড় ভরসা পরিচ্ছন্ন শক্তি, বলছে রাষ্ট্রসংঘ

ভারতের জ্বালানি খাতের রূপান্তরে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক—দুই ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হতে পারে পরিচ্ছন্ন শক্তির বিস্তার, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং বিদ্যুতায়নের গতি বাড়ানো। রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে উঠে এসেছে, এই পদক্ষেপ শুধু জলবায়ু সুরক্ষার জন্য নয়, ভারতের নিজের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তি ও অর্থ—দুই দিকেই চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল ভারতের মন্ত্রী ও শিল্পপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, দেশের জ্বালানি রূপান্তরের পথে নানা ধরনের বাধা রয়েছে। একদিকে রয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে রয়েছে পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রয়োজন।

তার মতে, এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি বিশ্বের অধিকাংশ বড় অর্থনীতিই হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।

বিদ্যুতায়নেই ভবিষ্যতের পথ

UN Climate Chief Praises India's Clean Energy Push as Model for Global Energy  Transition

বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতায়নের ওপর জোর বাড়ছে। লক্ষ্য হলো আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট শক্তির অন্তত ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ থেকে আসা নিশ্চিত করা।

ভারতের ক্ষেত্রে সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এই দুই উৎসের উৎপাদন সব সময় সমান থাকে না। ফলে রাতের সময় কিংবা কম উৎপাদনের সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা এখনো পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার দিনের বেলায় অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে অনেক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই ছেড়ে দিতে হয়। এই বাস্তবতায় উন্নত বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।

অর্থায়ন বাড়ানোই বড় লক্ষ্য

সাইমন স্টিয়েলের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং বিদ্যুতায়নের মতো উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাত থেকেই অর্থায়ন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

UN climate chief Simon Stiell praises India's clean energy transition and  solar growth - The HinduBusinessLine

তিনি বলেন, ভারতের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং অভিযোজনমূলক কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংকটে রয়েছে। তাই জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একটি হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়াতে শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না। এর পাশাপাশি আধুনিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা, শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন বাড়াতে পারলে ভারতের জ্বালানি রূপান্তর আরও দ্রুত এবং টেকসই হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

ভারতের জ্বালানি রূপান্তরের বড় ভরসা পরিচ্ছন্ন শক্তি, বলছে রাষ্ট্রসংঘ

০২:২১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতের জ্বালানি খাতের রূপান্তরে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক—দুই ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হতে পারে পরিচ্ছন্ন শক্তির বিস্তার, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং বিদ্যুতায়নের গতি বাড়ানো। রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে উঠে এসেছে, এই পদক্ষেপ শুধু জলবায়ু সুরক্ষার জন্য নয়, ভারতের নিজের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তি ও অর্থ—দুই দিকেই চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল ভারতের মন্ত্রী ও শিল্পপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, দেশের জ্বালানি রূপান্তরের পথে নানা ধরনের বাধা রয়েছে। একদিকে রয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে রয়েছে পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রয়োজন।

তার মতে, এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি বিশ্বের অধিকাংশ বড় অর্থনীতিই হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।

বিদ্যুতায়নেই ভবিষ্যতের পথ

UN Climate Chief Praises India's Clean Energy Push as Model for Global Energy  Transition

বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতায়নের ওপর জোর বাড়ছে। লক্ষ্য হলো আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট শক্তির অন্তত ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ থেকে আসা নিশ্চিত করা।

ভারতের ক্ষেত্রে সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এই দুই উৎসের উৎপাদন সব সময় সমান থাকে না। ফলে রাতের সময় কিংবা কম উৎপাদনের সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা এখনো পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার দিনের বেলায় অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে অনেক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই ছেড়ে দিতে হয়। এই বাস্তবতায় উন্নত বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।

অর্থায়ন বাড়ানোই বড় লক্ষ্য

সাইমন স্টিয়েলের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং বিদ্যুতায়নের মতো উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাত থেকেই অর্থায়ন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

UN climate chief Simon Stiell praises India's clean energy transition and  solar growth - The HinduBusinessLine

তিনি বলেন, ভারতের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং অভিযোজনমূলক কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংকটে রয়েছে। তাই জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একটি হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়াতে শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না। এর পাশাপাশি আধুনিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা, শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন বাড়াতে পারলে ভারতের জ্বালানি রূপান্তর আরও দ্রুত এবং টেকসই হতে পারে।