১০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আসিয়ানের তাড়াহুড়ো কি নিজেদের অবস্থানকেই দুর্বল করবে? রাহুল গান্ধীকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা: ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গান্ধী স্মৃতিতে বিরোধী জোটের পদযাত্রা, পথে ব্যারিকেড ও পুলিশের বাধা সিরাজগঞ্জ কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর শেষ নিঃশ্বাস ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলন: বিজেপির জন্য নতুন সংকট, নাকি বিরোধীদের শেষ সুযোগ? হার্টের ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’: চাপের মুহূর্তে জীবনের ছন্দ রক্ষার নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা শেয়ারবাজারে সপ্তাহ শেষ বড় পতনে, ডিএসইএক্স কমল ৬৬ পয়েন্ট রাহুল গান্ধীর বাড়ির বাইরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন, দিল্লিতে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে উপেক্ষা করার ঝুঁকি: বৈধতার সংকটে রাষ্ট্রের কঠিন পরীক্ষা মামদানি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে জেলে যেতে হতো তাকেই- মার্ক থিসেন তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান সংঘাতের জেরে ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি ৩-৪ মাসের মধ্যেই, শেষ ধাপে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মূল অংশ কার্যত সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে প্রধান বাধা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য তদন্তের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

চুক্তির শেষ ধাপে কী বাকি

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের সেকশন ৩০১ বাণিজ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০১ আইন অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের তদন্তের সুযোগ দেয় এবং প্রয়োজনে শুল্ক আরোপ বা অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।

কর্মকর্তা জানান, ৬০টি দেশকে ঘিরে চলমান একটি সেকশন ৩০১ তদন্ত চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তদন্ত শেষ হলে শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি দেখা যাবে।

বাজার উন্মুক্ত করার লক্ষ্য

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মাধ্যমে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানো হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চুক্তির মূল বিষয়গুলো নিয়ে আর উল্লেখযোগ্য কোনো দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য নেই। বর্তমান বিলম্বের কারণ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তদন্ত প্রক্রিয়া।

নতুন শুল্কের প্রস্তাব

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এমন কয়েক ডজন দেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের নামও রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধ দুই বছর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত থাকবে। এরপর এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ভারতের ওষুধ রপ্তানিতে সম্ভাব্য প্রভাব

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ শিল্পের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর ভারতের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।

২০২৫ সালে ভারতের মোট ২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানির মধ্যে ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে ভবিষ্যতে শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ শিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে; মার্কিন তদন্ত শেষ হলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে সই হতে পারে, তবে নতুন শুল্ক পরিকল্পনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে। মার্কিন কর্মকর্তার মতে, আর কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সই হতে পারে। তবে এর আগে শেষ হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ওষুধ শুল্ক পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ রপ্তানি খাতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আসিয়ানের তাড়াহুড়ো কি নিজেদের অবস্থানকেই দুর্বল করবে?

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি ৩-৪ মাসের মধ্যেই, শেষ ধাপে আলোচনা

০৬:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মূল অংশ কার্যত সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে প্রধান বাধা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য তদন্তের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

চুক্তির শেষ ধাপে কী বাকি

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের সেকশন ৩০১ বাণিজ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০১ আইন অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের তদন্তের সুযোগ দেয় এবং প্রয়োজনে শুল্ক আরোপ বা অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।

কর্মকর্তা জানান, ৬০টি দেশকে ঘিরে চলমান একটি সেকশন ৩০১ তদন্ত চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তদন্ত শেষ হলে শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি দেখা যাবে।

বাজার উন্মুক্ত করার লক্ষ্য

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মাধ্যমে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানো হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চুক্তির মূল বিষয়গুলো নিয়ে আর উল্লেখযোগ্য কোনো দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য নেই। বর্তমান বিলম্বের কারণ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তদন্ত প্রক্রিয়া।

নতুন শুল্কের প্রস্তাব

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এমন কয়েক ডজন দেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের নামও রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধ দুই বছর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত থাকবে। এরপর এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ভারতের ওষুধ রপ্তানিতে সম্ভাব্য প্রভাব

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ শিল্পের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর ভারতের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।

২০২৫ সালে ভারতের মোট ২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানির মধ্যে ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে ভবিষ্যতে শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ শিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে; মার্কিন তদন্ত শেষ হলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে সই হতে পারে, তবে নতুন শুল্ক পরিকল্পনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে। মার্কিন কর্মকর্তার মতে, আর কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সই হতে পারে। তবে এর আগে শেষ হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ওষুধ শুল্ক পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ রপ্তানি খাতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।