০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি ৩-৪ মাসের মধ্যেই, শেষ ধাপে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মূল অংশ কার্যত সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে প্রধান বাধা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য তদন্তের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

চুক্তির শেষ ধাপে কী বাকি

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের সেকশন ৩০১ বাণিজ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০১ আইন অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের তদন্তের সুযোগ দেয় এবং প্রয়োজনে শুল্ক আরোপ বা অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।

কর্মকর্তা জানান, ৬০টি দেশকে ঘিরে চলমান একটি সেকশন ৩০১ তদন্ত চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তদন্ত শেষ হলে শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি দেখা যাবে।

বাজার উন্মুক্ত করার লক্ষ্য

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মাধ্যমে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানো হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চুক্তির মূল বিষয়গুলো নিয়ে আর উল্লেখযোগ্য কোনো দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য নেই। বর্তমান বিলম্বের কারণ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তদন্ত প্রক্রিয়া।

নতুন শুল্কের প্রস্তাব

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এমন কয়েক ডজন দেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের নামও রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধ দুই বছর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত থাকবে। এরপর এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ভারতের ওষুধ রপ্তানিতে সম্ভাব্য প্রভাব

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ শিল্পের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর ভারতের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।

২০২৫ সালে ভারতের মোট ২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানির মধ্যে ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে ভবিষ্যতে শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ শিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে; মার্কিন তদন্ত শেষ হলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে সই হতে পারে, তবে নতুন শুল্ক পরিকল্পনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে। মার্কিন কর্মকর্তার মতে, আর কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সই হতে পারে। তবে এর আগে শেষ হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ওষুধ শুল্ক পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ রপ্তানি খাতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি ৩-৪ মাসের মধ্যেই, শেষ ধাপে আলোচনা

০৬:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মূল অংশ কার্যত সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে প্রধান বাধা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য তদন্তের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

চুক্তির শেষ ধাপে কী বাকি

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের সেকশন ৩০১ বাণিজ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০১ আইন অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের তদন্তের সুযোগ দেয় এবং প্রয়োজনে শুল্ক আরোপ বা অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।

কর্মকর্তা জানান, ৬০টি দেশকে ঘিরে চলমান একটি সেকশন ৩০১ তদন্ত চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তদন্ত শেষ হলে শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি দেখা যাবে।

বাজার উন্মুক্ত করার লক্ষ্য

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মাধ্যমে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানো হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চুক্তির মূল বিষয়গুলো নিয়ে আর উল্লেখযোগ্য কোনো দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য নেই। বর্তমান বিলম্বের কারণ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তদন্ত প্রক্রিয়া।

নতুন শুল্কের প্রস্তাব

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এমন কয়েক ডজন দেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের নামও রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধ দুই বছর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত থাকবে। এরপর এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ভারতের ওষুধ রপ্তানিতে সম্ভাব্য প্রভাব

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ শিল্পের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর ভারতের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।

২০২৫ সালে ভারতের মোট ২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানির মধ্যে ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে ভবিষ্যতে শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ শিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে; মার্কিন তদন্ত শেষ হলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে সই হতে পারে, তবে নতুন শুল্ক পরিকল্পনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে। মার্কিন কর্মকর্তার মতে, আর কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সই হতে পারে। তবে এর আগে শেষ হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ওষুধ শুল্ক পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ রপ্তানি খাতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।