০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে বদলে যাচ্ছে চাকরির বাজার, সবচেয়ে ঝুঁকিতে যেসব পেশা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, তাদের নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা শুধু মানুষের কাজ সহজই করবে না, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তেও কাজ করতে সক্ষম হবে। ফলে বিভিন্ন খাতে নতুন নিয়োগের গতি কমে যেতে পারে, আবার অনেক পেশার ধরনও পাল্টে যেতে পারে।

দ্রুত বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। আগে যেখানে এটি কয়েক মিনিটের সহজ কাজেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময়ের জটিল কাজ সম্পন্ন করতে পারছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্য বিশ্লেষণ, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার মতো কাজেও এর সক্ষমতা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী সময়ে আরও উন্নত ব্যবস্থা নিজের কাজ নিজেই আরও দক্ষ করে তুলতে পারবে। এর প্রভাব শুধু সফটওয়্যার খাতেই নয়, অর্থনীতি, আইন এবং সৃজনশীল পেশার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজেও পড়তে শুরু করেছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কোন পেশা

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতি, সফটওয়্যার উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা এবং সৃজনশীল শিল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে তুলনামূলক বেশি চাপে রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, ব্যক্তিগত সেবা এবং হাতে-কলমে দক্ষতানির্ভর পেশাগুলো এখনো তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। কারণ এসব কাজে মানবিক উপস্থিতি, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সরাসরি যোগাযোগের বিকল্প এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

সাড়ে ৯ কোটি চাকরি খেয়ে নেবে এআই, এড়াতে পারবেন কারা?

তরুণদের চাকরিতে প্রভাব

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার পর তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব খাত প্রযুক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেখানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কিছুটা কমেছে। যদিও সব অর্থনীতিবিদ এই পরিবর্তনের জন্য কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই দায়ী করছেন না। তাদের মতে, সুদের হার, অর্থনৈতিক মন্দা এবং বিনিয়োগের ধীরগতির মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বদলে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কৌশল

বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান এখন নতুন কর্মী নিয়োগের আগে বিবেচনা করছে, কাজটি মানুষ করবে নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভার্চুয়াল সহকারী দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংখ্যা স্থির রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের খরচও দ্রুত বেড়েছে। বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণে অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে তারা এখন এর ব্যবহার সীমিত করার কথাও ভাবছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সব ধরনের কাজ স্বয়ংক্রিয় করা অর্থনৈতিকভাবে সব সময় লাভজনক নাও হতে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিছু চাকরি কমিয়ে দিলেও নতুন ধরনের দক্ষতা ও নতুন পেশারও জন্ম দেবে। তাই ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং মানবিক যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বের কর্মসংস্থানের চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হবে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে বদলে যাচ্ছে চাকরির বাজার, সবচেয়ে ঝুঁকিতে যেসব পেশা

০৬:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, তাদের নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা শুধু মানুষের কাজ সহজই করবে না, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তেও কাজ করতে সক্ষম হবে। ফলে বিভিন্ন খাতে নতুন নিয়োগের গতি কমে যেতে পারে, আবার অনেক পেশার ধরনও পাল্টে যেতে পারে।

দ্রুত বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। আগে যেখানে এটি কয়েক মিনিটের সহজ কাজেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময়ের জটিল কাজ সম্পন্ন করতে পারছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্য বিশ্লেষণ, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার মতো কাজেও এর সক্ষমতা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী সময়ে আরও উন্নত ব্যবস্থা নিজের কাজ নিজেই আরও দক্ষ করে তুলতে পারবে। এর প্রভাব শুধু সফটওয়্যার খাতেই নয়, অর্থনীতি, আইন এবং সৃজনশীল পেশার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজেও পড়তে শুরু করেছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কোন পেশা

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতি, সফটওয়্যার উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা এবং সৃজনশীল শিল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে তুলনামূলক বেশি চাপে রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, ব্যক্তিগত সেবা এবং হাতে-কলমে দক্ষতানির্ভর পেশাগুলো এখনো তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। কারণ এসব কাজে মানবিক উপস্থিতি, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সরাসরি যোগাযোগের বিকল্প এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

সাড়ে ৯ কোটি চাকরি খেয়ে নেবে এআই, এড়াতে পারবেন কারা?

তরুণদের চাকরিতে প্রভাব

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার পর তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব খাত প্রযুক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেখানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কিছুটা কমেছে। যদিও সব অর্থনীতিবিদ এই পরিবর্তনের জন্য কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই দায়ী করছেন না। তাদের মতে, সুদের হার, অর্থনৈতিক মন্দা এবং বিনিয়োগের ধীরগতির মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বদলে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কৌশল

বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান এখন নতুন কর্মী নিয়োগের আগে বিবেচনা করছে, কাজটি মানুষ করবে নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভার্চুয়াল সহকারী দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংখ্যা স্থির রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের খরচও দ্রুত বেড়েছে। বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণে অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে তারা এখন এর ব্যবহার সীমিত করার কথাও ভাবছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সব ধরনের কাজ স্বয়ংক্রিয় করা অর্থনৈতিকভাবে সব সময় লাভজনক নাও হতে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিছু চাকরি কমিয়ে দিলেও নতুন ধরনের দক্ষতা ও নতুন পেশারও জন্ম দেবে। তাই ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং মানবিক যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বের কর্মসংস্থানের চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হবে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।