০৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৯ বছর বয়সে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী: উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা নারীর হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ দিল্লিতে শিক্ষার্থী আন্দোলনে নতুন গতি, বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন সাধারণ মানুষও হুথিদের নতুন হুমকিতে লোহিত সাগরে উত্তেজনা, সৌদি বন্দরে যাওয়া তেলবাহী জাহাজ ঝুঁকিতে তিমি হাঙরের শিকারের অজানা জগৎ উন্মোচন, ক্যামেরায় ধরা পড়ল সমুদ্রের বৃহত্তম মাছের বিস্ময়কর আচরণ নটিংহ্যাম হামলা: অভিযুক্তের চিকিৎসা দেওয়া স্বাস্থ্য ট্রাস্টের বিরুদ্ধে গুরুতর তদন্ত শুরু নিউইয়র্ক মেয়র মামদানি বললেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই নগর প্রশাসনের ১৮ বছরেই থেমে গেল হলিউডের উদীয়মান তারকা কেলি হটলের জীবন, সড়ক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া কিয়োডো নিউজকে শেখ হাসিনা: ‘ফিরব, আদালতে দাঁড়াব’—মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দাবি এনসিটি উইশ ও রিসিনকে নিয়ে জমজমাট গ্রীষ্মকালীন জলসঙ্গীত উৎসব মেসিকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি: যখন সুন্দর খেলা ঘৃণার অস্ত্রে পরিণত হয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে বদলে যাচ্ছে চাকরির বাজার, সবচেয়ে ঝুঁকিতে যেসব পেশা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, তাদের নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা শুধু মানুষের কাজ সহজই করবে না, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তেও কাজ করতে সক্ষম হবে। ফলে বিভিন্ন খাতে নতুন নিয়োগের গতি কমে যেতে পারে, আবার অনেক পেশার ধরনও পাল্টে যেতে পারে।

দ্রুত বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। আগে যেখানে এটি কয়েক মিনিটের সহজ কাজেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময়ের জটিল কাজ সম্পন্ন করতে পারছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্য বিশ্লেষণ, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার মতো কাজেও এর সক্ষমতা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী সময়ে আরও উন্নত ব্যবস্থা নিজের কাজ নিজেই আরও দক্ষ করে তুলতে পারবে। এর প্রভাব শুধু সফটওয়্যার খাতেই নয়, অর্থনীতি, আইন এবং সৃজনশীল পেশার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজেও পড়তে শুরু করেছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কোন পেশা

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতি, সফটওয়্যার উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা এবং সৃজনশীল শিল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে তুলনামূলক বেশি চাপে রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, ব্যক্তিগত সেবা এবং হাতে-কলমে দক্ষতানির্ভর পেশাগুলো এখনো তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। কারণ এসব কাজে মানবিক উপস্থিতি, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সরাসরি যোগাযোগের বিকল্প এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

সাড়ে ৯ কোটি চাকরি খেয়ে নেবে এআই, এড়াতে পারবেন কারা?

তরুণদের চাকরিতে প্রভাব

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার পর তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব খাত প্রযুক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেখানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কিছুটা কমেছে। যদিও সব অর্থনীতিবিদ এই পরিবর্তনের জন্য কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই দায়ী করছেন না। তাদের মতে, সুদের হার, অর্থনৈতিক মন্দা এবং বিনিয়োগের ধীরগতির মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বদলে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কৌশল

বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান এখন নতুন কর্মী নিয়োগের আগে বিবেচনা করছে, কাজটি মানুষ করবে নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভার্চুয়াল সহকারী দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংখ্যা স্থির রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের খরচও দ্রুত বেড়েছে। বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণে অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে তারা এখন এর ব্যবহার সীমিত করার কথাও ভাবছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সব ধরনের কাজ স্বয়ংক্রিয় করা অর্থনৈতিকভাবে সব সময় লাভজনক নাও হতে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিছু চাকরি কমিয়ে দিলেও নতুন ধরনের দক্ষতা ও নতুন পেশারও জন্ম দেবে। তাই ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং মানবিক যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বের কর্মসংস্থানের চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হবে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয় সংবাদ

৯ বছর বয়সে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী: উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা নারীর হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে বদলে যাচ্ছে চাকরির বাজার, সবচেয়ে ঝুঁকিতে যেসব পেশা

০৬:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, তাদের নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা শুধু মানুষের কাজ সহজই করবে না, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তেও কাজ করতে সক্ষম হবে। ফলে বিভিন্ন খাতে নতুন নিয়োগের গতি কমে যেতে পারে, আবার অনেক পেশার ধরনও পাল্টে যেতে পারে।

দ্রুত বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। আগে যেখানে এটি কয়েক মিনিটের সহজ কাজেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময়ের জটিল কাজ সম্পন্ন করতে পারছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্য বিশ্লেষণ, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার মতো কাজেও এর সক্ষমতা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী সময়ে আরও উন্নত ব্যবস্থা নিজের কাজ নিজেই আরও দক্ষ করে তুলতে পারবে। এর প্রভাব শুধু সফটওয়্যার খাতেই নয়, অর্থনীতি, আইন এবং সৃজনশীল পেশার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজেও পড়তে শুরু করেছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কোন পেশা

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতি, সফটওয়্যার উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা এবং সৃজনশীল শিল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে তুলনামূলক বেশি চাপে রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, ব্যক্তিগত সেবা এবং হাতে-কলমে দক্ষতানির্ভর পেশাগুলো এখনো তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। কারণ এসব কাজে মানবিক উপস্থিতি, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সরাসরি যোগাযোগের বিকল্প এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

সাড়ে ৯ কোটি চাকরি খেয়ে নেবে এআই, এড়াতে পারবেন কারা?

তরুণদের চাকরিতে প্রভাব

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার পর তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব খাত প্রযুক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেখানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কিছুটা কমেছে। যদিও সব অর্থনীতিবিদ এই পরিবর্তনের জন্য কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই দায়ী করছেন না। তাদের মতে, সুদের হার, অর্থনৈতিক মন্দা এবং বিনিয়োগের ধীরগতির মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বদলে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কৌশল

বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান এখন নতুন কর্মী নিয়োগের আগে বিবেচনা করছে, কাজটি মানুষ করবে নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভার্চুয়াল সহকারী দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংখ্যা স্থির রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের খরচও দ্রুত বেড়েছে। বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণে অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে তারা এখন এর ব্যবহার সীমিত করার কথাও ভাবছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সব ধরনের কাজ স্বয়ংক্রিয় করা অর্থনৈতিকভাবে সব সময় লাভজনক নাও হতে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিছু চাকরি কমিয়ে দিলেও নতুন ধরনের দক্ষতা ও নতুন পেশারও জন্ম দেবে। তাই ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং মানবিক যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বের কর্মসংস্থানের চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হবে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।