১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আসিয়ানের তাড়াহুড়ো কি নিজেদের অবস্থানকেই দুর্বল করবে? রাহুল গান্ধীকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা: ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গান্ধী স্মৃতিতে বিরোধী জোটের পদযাত্রা, পথে ব্যারিকেড ও পুলিশের বাধা সিরাজগঞ্জ কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর শেষ নিঃশ্বাস ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলন: বিজেপির জন্য নতুন সংকট, নাকি বিরোধীদের শেষ সুযোগ? হার্টের ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’: চাপের মুহূর্তে জীবনের ছন্দ রক্ষার নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা শেয়ারবাজারে সপ্তাহ শেষ বড় পতনে, ডিএসইএক্স কমল ৬৬ পয়েন্ট রাহুল গান্ধীর বাড়ির বাইরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন, দিল্লিতে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে উপেক্ষা করার ঝুঁকি: বৈধতার সংকটে রাষ্ট্রের কঠিন পরীক্ষা মামদানি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে জেলে যেতে হতো তাকেই- মার্ক থিসেন তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান সংঘাতের জেরে ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি

নিউইয়র্ক মেয়র মামদানি বললেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই নগর প্রশাসনের

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা তার প্রশাসনের নেই। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

মামদানি মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় জানান, নিউইয়র্ক নগর প্রশাসন আইন অনুযায়ী সব ধরনের সুযোগ যাচাই করেছে, যাতে নেতানিয়াহু শহরে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করা যায় কি না। কিন্তু পর্যালোচনার পর তারা বুঝতে পেরেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা তাদের নেই।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে এবং পরোয়ানা কার্যকরে সহযোগিতা করতে পারে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক আদালতের অবস্থান

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে জানায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে।

আদালতটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার রাখে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আদালতের সদস্য নয়।

মামদানি বলেন, যারা গাজার পরিস্থিতি দেখেছেন, তাদের বিবেক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি উপলব্ধি করা উচিত। তার মতে, যাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া উচিত।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু সাধারণত প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শহরটিতে আসেন। তার সম্ভাব্য সফর ঘিরেই নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

ইসরায়েল মামদানির বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত একটি পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানার কোনো ভিত্তি নেই।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

মামদানির বক্তব্যের পর আবারও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক জোরালো হয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আসিয়ানের তাড়াহুড়ো কি নিজেদের অবস্থানকেই দুর্বল করবে?

নিউইয়র্ক মেয়র মামদানি বললেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই নগর প্রশাসনের

০৭:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা তার প্রশাসনের নেই। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

মামদানি মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় জানান, নিউইয়র্ক নগর প্রশাসন আইন অনুযায়ী সব ধরনের সুযোগ যাচাই করেছে, যাতে নেতানিয়াহু শহরে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করা যায় কি না। কিন্তু পর্যালোচনার পর তারা বুঝতে পেরেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা তাদের নেই।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে এবং পরোয়ানা কার্যকরে সহযোগিতা করতে পারে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক আদালতের অবস্থান

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে জানায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে।

আদালতটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার রাখে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আদালতের সদস্য নয়।

মামদানি বলেন, যারা গাজার পরিস্থিতি দেখেছেন, তাদের বিবেক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি উপলব্ধি করা উচিত। তার মতে, যাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া উচিত।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু সাধারণত প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শহরটিতে আসেন। তার সম্ভাব্য সফর ঘিরেই নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

ইসরায়েল মামদানির বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত একটি পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানার কোনো ভিত্তি নেই।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

মামদানির বক্তব্যের পর আবারও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক জোরালো হয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।