ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি ও কথিত নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধামেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়েছে। আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) বুধবার জানিয়েছে, তাদের তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
বুধবার বিকেলে আন্দোলনস্থলে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। এ সময় অলিম্পিয়ান কুস্তিগীর বজরং পুনিয়া এবং কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত যন্তর মন্তরে এসে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। সিজেপি দাবি করে, দেশের বিভিন্ন অংশে একই দাবিতে সমর্থনমূলক কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্দোলনের মূল দাবি
সিজেপি পুনরায় জানিয়েছে, তাদের তিনটি প্রধান দাবি হলো— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধামেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, কথিত প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা বা আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া। দলটির ভাষ্য, এই দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না।
সোনম ওয়াংচুকের অবস্থান
জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— এমন স্পষ্ট নিশ্চয়তা পেলে তিনি অনশন ভাঙবেন। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

সরকারের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, সরকার চাইলে তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে কোনো মন্ত্রীর বাসভবন বা সরকারি কার্যালয়ে নয়, নিরপেক্ষ কোনো স্থানে আলোচনা হওয়া উচিত। তার দাবি, সরকারকে আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান দেখাতে হবে। অন্যদিকে সরকারি সূত্রও আলোচনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
আদালত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
দিল্লি হাইকোর্ট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগের তদন্ত চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব তলব করেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে দিল্লি পুলিশ বলছে, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল না এবং তাদের সদস্যদের ওপর হামলা ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং একাধিক মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আন্দোলন অব্যাহত
সিজেপি জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে দেশজুড়ে সমর্থন আরও বাড়ছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক কর্মী ও সংগঠন নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন তীব্রতর। ধামেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, ক্ষতিপূরণ ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার দাবিতে চাপ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















