ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় এক হাজার দমকলকর্মী, আকাশপথে পানি নিক্ষেপকারী উড়োজাহাজ এবং হেলিকপ্টার একযোগে কাজ করছে।
কয়েক ঘণ্টায় ভয়াবহ বিস্তার
দক্ষিণ ফ্রান্সের ভার অঞ্চলের বনাঞ্চলজুড়ে মঙ্গলবার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। আগুনের সূত্রপাত হয় পন্তেভেস এলাকায়, এরপর তা আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, আগুন প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নেমে আসছে। শুরুতে বাতাসের গতি কম থাকলেও শুষ্ক পরিবেশের কারণে আগুনের বিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিপুল দমকল বাহিনীর অভিযান

আগুন নিয়ন্ত্রণে ৯০০ থেকে ৯৫০ জন দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দিনভর আকাশ থেকে শতাধিকবার পানি ও আগুন প্রতিরোধী রাসায়নিক ছিটানো হয়েছে। এ কাজে বিশেষায়িত উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার অংশ নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন একের পর এক গ্রাম অভিমুখে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মীদের জন্য খাবার প্রস্তুত এবং অন্যান্য সহায়তায় অংশ নিচ্ছেন।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আহতও কয়েকজন
দাবানলের কারণে দুই হাজার ৩০০টির বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি দমকলের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চারজন দমকলকর্মী এবং দুই বাসিন্দা ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে সামান্য আহত হয়েছেন।
তাপপ্রবাহ ও খরায় বেড়েছে ঝুঁকি

ফ্রান্সে চলতি বছর তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে দাবানলের মৌসুম স্বাভাবিক সময়ের আগেই শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন দাবানলের ঘটনা ঘটছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের পুরো সময়ের ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও বেশি। একই সময়ে আল্পস অঞ্চলের পাহাড়ি বনাঞ্চল এবং ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ কর্সিকাতেও একাধিক দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বনাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি এখন চরম পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতেও পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















