মালয়েশিয়া ইসরায়েলি নাগরিকদের দেশে প্রবেশে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, বিদেশি চাপ বা হুমকির মুখে মালয়েশিয়া তার স্বাধীন নীতি পরিবর্তন করবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই অবস্থান কোনো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়।
দীর্ঘদিনের নীতিতে অনড় মালয়েশিয়া
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা মালয়েশিয়ার বহু দশকের নীতি। এটি কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নয়, বরং ইসরায়েল রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিন ও গাজায় চলমান দমন-পীড়ন, দখলদারিত্ব এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির প্রতিবাদ থেকেই এই নীতি বজায় রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই নিজস্ব নীতি নির্ধারণের অধিকার দেশটির রয়েছে এবং সেই অধিকার প্রয়োগ করতেই সরকার এই অবস্থান ধরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার জবাব

সম্প্রতি কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তাদের অভিযোগ ছিল, ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অবস্থান আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর জবাবে আনোয়ার বলেন, এমন মন্তব্য বাস্তবতা বিবর্জিত। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশও নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে থাকে। তাই মালয়েশিয়ার অবস্থানকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলা গ্রহণযোগ্য নয়।
দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের নিয়েও কঠোর অবস্থান
সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ইসরায়েলি নাগরিকদের দেশত্যাগে বাধ্য করার কথা জানিয়েছিলেন আনোয়ার। এ নিয়ে দেশটির একটি প্রযুক্তিভিত্তিক আবাসিক সম্প্রদায়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের উপস্থিতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
সরকার জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় অবস্থানের প্রশ্নে সরকারের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে অবস্থান অব্যাহত
আনোয়ার বলেন, ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতার কারণেই মালয়েশিয়া তাদের পক্ষে কথা বলে যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, নিরীহ নারী ও শিশুদের হত্যাকাণ্ড এবং ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে অনেক দেশ নীরব থাকলেও মালয়েশিয়া সেই নীরবতার অংশ হবে না।
তিনি আরও বলেন, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে মালয়েশিয়া আপস করবে না এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞাও বহাল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সমালোচনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে মালয়েশিয়া স্বাগত জানায়।
তার মতে, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ এই নয় যে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে মালয়েশিয়া নীরব থাকবে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার অধিকার দেশটির রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















