ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। দেশ-বিদেশে থাকা সমর্থকদের পাঠানো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাজধানীর জন্তর মন্তর এলাকায় চলমান এই বিক্ষোভ এখন তরুণদের অন্যতম বড় গণসমাবেশে পরিণত হয়েছে।
দেশ-বিদেশ থেকে পৌঁছাচ্ছে সহায়তা
আন্দোলনস্থলে প্রতিদিনই খাবার, পানীয়, ফল, বিস্কুট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সরবরাহকর্মীরা। আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিতে না পারলেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং বিদেশে অবস্থানরত সমর্থকেরা অনলাইনে খাবারের অর্ডার দিয়ে আন্দোলনকারীদের সহায়তা করছেন।
স্বেচ্ছাসেবকেরা এসব সামগ্রী সংগ্রহ করে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিতরণ করছেন। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের এই সহযোগিতাই আন্দোলনকে টিকিয়ে রেখেছে।

প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বাড়ছে ক্ষোভ
অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া একটি সংগঠনের ডাকে এই আন্দোলনের সূচনা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এটি নতুন গতি পেয়েছে। এক পরিচিত আন্দোলনকারী অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর আরও বেশি শিক্ষার্থী এতে যোগ দেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, বারবার পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষা প্রশাসনে কার্যকর সংস্কার আনতে হবে।
পুলিশের অভিযানের পরও থামেনি বিক্ষোভ
সম্প্রতি সংসদের দিকে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেয়। এরপরও আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি কমেনি। বরং অনেকের দাবি, পুলিশি অভিযানের পর সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আরও বেড়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী জানান, তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ থেকেই আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় হতাশা আরও বেড়েছে।

চিকিৎসা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা
আন্দোলনস্থলে স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। তরুণ চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা অসুস্থ আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছেন।
একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকেরা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বৃষ্টির পানি সরানো এবং সারিবদ্ধভাবে খাবার বিতরণের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা
আন্দোলনস্থলে অনেকেই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতাদের ছবি বহন করছেন। কেউ হাতে সংবিধানের কপি নিয়ে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ প্রতীকী মুখোশ পরে প্রতিবাদের ভিন্নধর্মী ভাষা তুলে ধরছেন।
অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিভাজনের বাইরে এসে তারা এখন একটি অভিন্ন দাবিতে একত্রিত হয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার এবং স্বচ্ছ পরীক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলনের গতি থামবে না।
পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে নয়াদিল্লির আন্দোলনে দেশ-বিদেশের সহায়তা নতুন শক্তি জুগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি ও জনসমর্থনে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।





















